বিপথগামী যুব সমাজকে ফিরিয়ে আনতে হবে: মেয়র লিটন

আপডেট: মার্চ ৫, ২০১৯, ১:১৩ অপরাহ্ণ

রাবি সংবাদদাতা


রাবিতে ইয়ুথ পার্লামেন্ট টু এক্সপ্লোর ফিউচার বাংলাদেশ‘র অধিবেশনে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন সিটি মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন সোনার দেশ

রাজশাহী সিটি করপোরেশনের মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন বলেছেন, যুব সমাজ আগামীতে দেশের হাল ধরবে। কিন্তু দুঃখের বিষয় যুব সমাজের নানাবিধ দিকে মূল্যবোধের অবক্ষয় ঘটেছে। যুব সমাজের অনেকে নানাভাবে বিপদগামী হয়েছে। জঙ্গিবাদে জড়িয়েছে, মাদকাসক্ত হয়েছে। এই যদি হয় অবস্থা, তাহলে বাংলাদেশ কাদের হাতে দিয়ে যাব? যুব সমাজকে বিপথগামী হওয়া থেকে ফিরিয়ে আনতে হবে।
গতকাল সোমবার দুপুরে রাজশাহী বিশ^বিদ্যালয়ের সিনেট ভবনে ইয়ুথ পার্লামেন্ট টু এক্সপ্লোর ফিউচার বাংলাদেশ’র ৭তম অধিবেশনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এ অধিবেশনের আয়োজন করে সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন ধ্রুবতারা।
এ সময় মেয়র খায়রুজ্জামান লিটন আরো বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশের সর্বক্ষেত্রে উন্নয়ন করছেন। নিজেদের অর্থায়নে পদ্মা সেতু হচ্ছে, মানুষের দৌড়গোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌছে দিতে ইউনিয়ন পর্যায়ে সাড়ে ১৩ হাজার কমিউনিটি ক্লিনিক স্থাপন করা হয়েছে। অন্যান্য অন্যান্য ক্ষেত্রেও দেশ এগিয়ে যাচ্ছে। চ্যালেঞ্জ করে দেশের উন্নয়ন করছেন প্রধানমন্ত্রী।
মেয়র বলেন, স্্েরাতের বাহিরে হিয়ে ধ্রুবতারা সংগঠন যুবকদের নিয়ে যে কাজ করছে, তা প্রশংসার দাবিদার। সংগঠনটি আরো বড় পরিসরে এ কাজ করুক। প্রয়োজন হলে তাদের সার্বিক সহযোগিতা করা হবে।
রাজশাহীর উন্নয়নের বিভিন্ন দিক তুলে ধরে মেয়র খায়রুজ্জামান লিটন বলেন, রাজশাহীতে দুইটি ফ্লাইওভারের নির্মাণ কাজ চলছে। শিল্পাঞ্চল প্রতিষ্ঠার জন্য প্রধানমন্ত্রী ইতোমধ্যে তিনটি শিল্পজোন অনুমোদন দিয়েছেন। শিল্পায়ন প্রতিষ্ঠা হলে অনেকের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে। এছাড়া রাজশাহীতে বঙ্গবন্ধু হাইটেক পার্কের কাজ চলছে। এখানে ১৪ হাজার ছেলে-মেয়ের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে।
অনুষ্ঠানে সাবেক শিক্ষা সচিব ও এটুআই প্রকল্পের মহাপরিচালক নজরুল ইসলাম (এনআই) খানের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী-২ আসনের সাংসদ ফজলে হোসেন বাদশা। এ সময় তিনি বলেন ‘তরুণরাই আগামী দিনে দেশের নেতৃত্ব দিবে। তাই এ তরুণদের বঙ্গবন্ধুর আদর্শে দীক্ষিত করে দেশের চলমান উন্নয়নের সঙ্গে সম্পৃক্ত করতে হবে।’
অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় সেশনের সমাপনী অনুষ্ঠানে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ও মানবাধিকার কর্মী সুলতানা কামাল বলেন, ‘যুবসমাজের মূল্যবোধের অবক্ষয় হচ্ছে। এর মূল কারণ তারা সঠিক দিকনির্দেশনা পাচ্ছে না। সঠিক দিক নির্দেশনা পেতে হলে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ে জানতে হবে। তবে মুক্তিযুদ্ধ বলতে কয়েকজন মানুষের সুযোগ-সুবিধা কিংবা একটি ভূখন্ড দখল করা নয়, মুক্তিযুদ্ধের নিদিষ্ট কিছু লক্ষ্য রয়েছে। যেখানে সাম্য থাকবে, শান্তি থাকবে, ন্যায় বিচার থাকবে সর্বোপরি সমাজে মানবিক মর্যাদা প্রতিষ্ঠিত হবে। যেখানে কোনও সাম্প্রদায়িকতা থাকবে না।’

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ