‘বিমান দুর্ঘটনায় মৃত্যু হয়নি নেতাজির’

আপডেট: জুলাই ১৭, ২০১৭, ১২:৫৮ পূর্বাহ্ণ

সোনার দেশ ডেস্ক


বিমান দুর্ঘটনায় মারা যাননি নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু। এমনই দাবি করল ফ্রান্সের এক গোপন রিপোর্ট। প্যারিসের এক ইতিহাসবিদ জেবিপি মোরে জানিয়েছেন, সেই গোপন নথিতে রয়েছে বিমান দুর্ঘটনায় মুত্যুর খবর সম্পূর্ণ ভুয়ো। তিনি ১৯৪৭য়েও জীবিত ছিলেন। ইন্দোনেশিয়া থেকে পালিয়ে ফ্রান্সে আশ্রয় নিয়েছিলেন নেতাজি। তবে শেষ কয়েকটি বছর কোথায় কাটিয়েছেন তার কোনও সঠিত তথ্য পাওয়া যায়নি। সেই রিপোর্টেও উল্লেখ করা নেই। ফ্রান্সের ন্যাশনাল আর্কাইভে রাখা এই রিপোর্টি রাখা রয়েছে। তাতে তারিখ বসানো রয়েছে ১০৪৭, ১১ ডিসেম্বর। নেতাজির মৃত্যু রহস্য উদঘাটনে এযাবত তিনটি কমিশন গঠন করেছে ভারত সরকার। শাহনওয়াজ কমিটি (১৯৫৬), খোশলা কমিশন (১৯৭০) এবং মুখার্জি কমিশন (১৯৯৯)। এর মধ্যে  শাহনওয়াজ কমিটি ও খোশলা কমিশন বিমান দুর্ঘটনায় নেতাজির মৃত্যু হয়েছে, এই তথ্যে সিলমোহর দিয়েছিল। ১৯৪৫–এর ১৮ অগাস্ট তাইহোকুতে বিমান দুর্ঘটনায় নেতাজির মৃত্যু হয় বলে জানানো হয়। যদিও মুখার্জি কমিশন প্রথম থেকেই সেই কারণ খারিজ করে দিয়েছে। এই কমিশনের সদস্যদের প্রথম থেকেই দাবি ছিল বিমান দুর্ঘটনায় মারা যাননি নেতাজি। ১৯৪৭-ও তিনি বেঁচে ছিলেন।  ভারত সরকার যদিও মুখার্জি কমিশনের রিপোর্টকে খারিজ করে দেয়।
ফরাসিরা বরাবরই বলে এসেছে ১৯৪৭-ও বেঁচে ছিলেন নেতাজি। ইন্দোনেশিয়া থেকে তিনি অন্তর্ধান হয়েছিলেন। কিন্তু তারপর কোথায়  ছিলেন সেতথ্য ফরাসী বিজ্ঞানীদের কাছেও নেই। ফ্রেঞ্চ সিক্রেট সার্ভিস রিপোর্টে বলা হয়েছে, নেতাজির মৃত্যু কোনওভাবেই বিমান দুর্ঘটনায় হয়নি। ইন্দোনেশিয়া থেকে অন্তর্ধানের পর কোথায় তিনি ছিলেন তার তথ্য এখনও জানা যায়নি ঠিকই তবে ১৯৪৭ সালেও তিনি জীবিত ছিলেন। হুয়াট কমিসারিয়েট দ্য ফ্রান্স ফর ইন্দোনেশিয়া দেওয়া তথ্য একথাই বলছে। সেখানে ‘আর্কাইভাল ইনফরমেশন অন সুভাষ চন্দ্র বোস’ নামক কলামে এই তথ্য দেওয়া হয়েছে। রিপোর্টে স্পষ্ট বলা হয়েছে নেতাজি ভারতের স্বাধীনতা লিগ এবং জাপানি সংগঠন হিকারি কিকানের প্রাক্তন প্রধান। ইন্দোনেশিয়া থেকে অন্তর্ধানের পর কোথায় ছিলেন তা এখনও রহস্য।
ব্রিটেন এবং জাপান যদিও ঘোষণা করে দিয়েছে বিমান দুর্ঘটনাতেই নেতাজির মৃত্যু হয়েছে। রেঙ্গুন থেকে টোকিও যাওয়ার পথেই বিমান দুর্ঘটনাটি ঘটেছিল। ফ্রান্স বরাবরই এই বিষয়ে চুপ থেকেছে। ভিয়েতনাম এবং ইন্দোনেশিয়ায় ফরাসী কলোনি তখন ছিল ১৯৪০–এ। ১৯৪৫–এ ১৫ অগাস্ট জাপানের হাত থেকে সিয়াগন দখল করে ফরাসি ও ব্রিটিশ বাহিনী। তাদের কাছে নেতাজির বিমান দুর্ঘটনায় মৃত্যুর কোনও তথ্য পাওয়া যায়নি। তথ্যসূত্র: আজকাল