বিশেষজ্ঞদের অভিমত: শীতের তীব্রতা জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে নয়

আপডেট: জানুয়ারি ১২, ২০১৮, ১২:৫৯ পূর্বাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক


এবছর সব কিছুই রেকর্ড ভেঙ্গেছে। যেমন গরম পড়েছে। তেমন বৃষ্টি বেশি হয়েছে। একই ভাবে এ বছর শীত পড়েছে রেকর্ড ভাঙ্গা। এই পরিস্থিতিতে জলবায়ু পরিবর্তন বলা যাবে কিনা? এ বিষয়ে জলবায়ু বিশেষজ্ঞরা বলছেন এটাকে এখনই জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে হয়েছে এমনটা বলা যাবে না। বারে বারে যদি এমন শীত ফিরে আসে তবে তাকে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব বলা যেতে পারে।
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূ-তত্ত্ব ও খনি বিদ্যা বিভাগের প্রফেসর সারোয়ার জাহান সজল বলেন, ৫০ বছর রেকর্ড ভেঙ্গেছে এবারের শীত। খরা যেমন বারবার ফিরে আসছে। তেমন শীত কিন্তু বারবার এমন রূপে ফিরে আসছে না। এ কারনে এটাকে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব বলা যাবে না। এ বছর বেশি বৃষ্টি হয়েছে। প্রচণ্ড গরম পড়েছে। শীতের তীব্রতা ছিল বেশি। বর্ষার পরে এবার ভাদ্রমাসে ভালো রোদ পড়েনি। ভেজা অবস্থার কারনে মাটি গরম হয়নি যার কারনে শীতের অনুভূতি বেশি হচ্ছে।
এ বিষয়ে ভূ-তত্ত্ব ও খনি বিদ্যা বিভাগের প্রফেসর গোলাম সাব্বির সাত্তার তাপু বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের মূল কারণ হিসেবে সবার আগে যে বিষয়টি আসে সেটি হচ্ছে মানব সৃষ্ট কারন। এর কারনে দ্রুত পরিবর্তন হচ্ছে। বর্তমানে যে অতিবৃষ্টি, অনাবৃষ্টি হচ্ছে এটিকে স্বাভাবিক হিসেবে দেখতে হবে। জেট স্ট্রিম সাধারনত ৫০ থেকে ৬০ হাজার ফুট ওপর দিয়ে বয়ে যায়। এবছর তা ১০ হাজার ফুট নিচে দিয়ে বয়ে যাচ্ছে। এ ছাড়া আমাদের দেশে শীত অনুভূত হয় সাইবেরিয়ান বাতাসের কারণে। এবছর সে বাতাসে তাপমাত্র খুব কম। যার কারনে শীত বেশি পড়ছে। শীতের এই অবস্থা যদি ২০ থেকে ৩০ বছর ধরে চলে তবে তাকে জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ঘটেছে বলা যেতে পারে।
এবছর ০৮ জানুয়ারি সকাল ৯টায় রাজশাহীতে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছিল ৫ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস। তার আগের দিনও ছিল একই তাপমাত্রা। তবে মঙ্গলবার তাপমাত্রা সামান্য বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬ দশমিক ০ ডিগ্রি সেলসিয়াসে।
সকাল থেকে ঘন কুয়াশার কারণে ঢাকা-রাজশাহী মহাসড়কে ভারী যান চলাচল করছে আলো জ্বালিয়ে। দাঁত কাঁপানো শীতের তীব্রতায় কাতর হয়ে পড়েছেন কর্মজীবী ও ছিন্নমূল মানুষ। টানা শৈত্যপ্রবাহে মানুষের স্বাভাবিক চলাফেরা ও কার্যক্রমে দেখা দিয়েছে স্থবিরতা। উত্তরের হিমেল হাওয়া বয়ে যাওয়ার কারণে কনকনে শীত অনুভূত হচ্ছে।
গত এক সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে রাজশাহীর ওপর দিয়ে বয়ে চলা মৃদু ও মাঝারি থেকে তীব্র শৈত্যপ্রবাহে জনজীবনে এই অচলাবস্থা দেখা দিয়েছে। টানা শৈত্যপ্রবাহে নাকাল হয়ে পড়েছে রাজশাহীসহ গোটা উত্তরাঞ্চল। ভোর ও সন্ধ্যার পর হিমেল বাতাস শীতের তীব্রতা দ্বিগুণ বাড়িয়ে দিচ্ছে।
তাপমাত্রা সাধারণত ১০ ডিগ্রির নিচে নামলে তাকে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বলে। আর ৮ ডিগ্রির নিচে নামলে মাঝারি এবং ৬ ডিগ্রির নিচে নামলে তীব্র শৈত্যপ্রবাহ বলা হয়। সে অনুযায়ী, রাজশাহীতে এখনও তীব্র শৈত্যপ্রবাহ চলছে।