বিশ্বকাপের ‘ওয়ার্মআপ’ এশিয়া কাপ শুরু আজ

আপডেট: সেপ্টেম্বর ১৫, ২০১৮, ২:২৪ পূর্বাহ্ণ

সোনার দেশ ডেস্ক


ক্যাপশন : একসঙ্গে ২০১৮ এশিয়া কাপের ছয় দলের অধিনায়ক-সংগৃহীত

এশিয়া কাপ ক্রিকেট এক অর্থে বাংলাদেশের ঘরের টুর্নামেন্টেই পরিণত হয়েছিল। ২০১২ সাল থেকে টানা তিন আসর আয়োজিত হয়েছে ঢাকায়। সবমিলে সর্বাধিক ৫বার এই আসর আয়োজন করেছে বাংলাদেশে। মহাদেশীয় ক্রিকেট শ্রেষ্ঠত্বের ত্রয়োদশ আসর বসতে যাচ্ছে এবার সংযুক্ত আরব আমিরাতে। শনিবার সন্ধ্যা ৬টায় বাংলাদেশ-শ্রীলঙ্কা ম্যাচ দিয়ে শুরু হবে এই আসর। এক অর্থে ২০১৯ বিশ্বকাপকে সামনে রেখে এশিয়ার দলগুলোর জন্য এই আসরকে বলা যেতে পারে বিশ্বকাপের মহড়ার টুর্নামেন্ট।
ইংল্যান্ডে ২০১৯ সালের ৩০ মে শুরু হবে বিশ্বকাপের আসর। যার ১০ দলের পাঁচ দলই খেলবে শনিবার শুরু এশিয়া কাপে। ভারত, পাকিস্তান, বাংলাদেশ, শ্রীলঙ্কার সঙ্গে রয়েছে আফগানিস্তান। বিশ্বকাপে খেলতে যাওয়া এই পাঁচ দলের সঙ্গে এশিয়া কাপের ষষ্ঠ দলটি হংকং। ‘এ’ গ্রুপে ভারত, পাকিস্তান ও হংকং। ‘বি’ গ্রুপে খেলবে বাংলাদেশ, শ্রীলঙ্কা ও আফগানিস্তান।
যদিও বিশ্বকাপের এখনো প্রায় আট মাসের মতো বাকি তারপরও এশিয়া কাপের পাঁচ দলই বিশ্বকাপে খেলবে বলে ‘বিশ্বকাপ মহড়া’ প্রসঙ্গ এখানে থাকছে। তেমনি উত্তেজনার ভারত-পাকিস্তান লড়াইও থাকছে এই আসরে। দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী দল রয়েছে আবার একই গ্রুপে। ২০১৭ চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির ফাইনালে ভারতকে উড়িয়ে শিরোপা জিতেছিল পাকিস্তান। ভারতের তাই সেই পরাজয়ের হিসেব চুকানোর বিষয়ও উঠে আসছে আলোচনায়।
এশিয়া কাপে গ্রুপ পর্বে প্রতিটি দল একে অপরের মুখোমুখি হবে একবার করে। দুই গ্রুপ থেকে সেরা দুটি করে দল নিয়ে হবে সুপার ফোর। ‘এ’ গ্রুপে ভারত-পাকিস্তানকেই সুপার ফোরের দাবিদার এক রকম বলে দেয়া যায়। যদি না বিস্ময়কর কিছু না ঘটে। অপর দলটি যে ওয়ানডে মর্যাদা না পাওয়া হংকং। তবে যাদের ম্যাচও এশিয়া কাপে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ম্যাচের মর্যাদা পাবে। অন্যদিকে গ্রুপ ‘বি’ কে বলতে হবে মৃত্যুকূপ। এই গ্রুপ থেকে বাংলাদেশ, শ্রীলঙ্কা ও আফগানিস্তান তিন দলই দাবি রাখে সুপার ফোরের।
দলের শক্তি বিশ্লেষণ করলে দেখা যাবে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির শিরোপা জয়ী পাকিস্তান দলে রয়েছে এক ঝাঁক ফাস্ট বোলার। মোহাম্মদ আমির, হাসান আলি যে বোলিং লাইনের নেতৃত্বে থাকবেন। ব্যাটিংটাই বা কম কোথায়। চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে দুর্দান্ত খেলা ফখর জামান রয়েছেন। আছেন বাবর আজম, হারিস সোহেলের মতো ব্যাটসম্যান। অধিনায়ক সরফরাজ আহমেদ, শোয়েব মালিক তো রয়েছেই।
ভারতের শক্তি বরাবরই দুর্দান্ত ব্যাটিং লাইন। এশিয়া কাপে ভারত খেলতে যাচ্ছে নিয়মিত অধিনায়ক বিরাট কোহলিকে ছাড়া। নির্বাচকরা বিশ্বের অন্যতম সেরা ব্যাটসম্যানকে বিশ্রাম দিয়েছে এই আসরে। কোহলির পরিবর্তে ভারতকে নেতৃত্বে দিবেন রোহিত শর্মা। কোহলি না থাকলেও ব্যাটিংয়ে শিখর ধাওয়ান, লোকেশ রাহুল, রোহিত শর্মা, হার্দিক পান্ডিয়া রয়েছেন। আছেন মহেন্দ্র সিং ধোনিও। আর জসপ্রিত বুমরাহ, ভুবনেশ্বর কুমারদের পেস বোলিং লাইনটাও এখন সমাদ্রিত। জুববেন্দ্র চাহাল, কুলদিপ জাদবদের নিয়ে ভয় ধরানো স্পিন বোলিং আক্রমণ তো রয়েছেই।
এবার এশিয়া কাপে অন্যতম দাবিদার হতে পারে বাংলাদেশও। মাশরাফি বিন মর্তুজার দলটি যে দারুণ খেলছে সম্প্রতি। ক’দিন আগেই ওয়েস্ট ইন্ডিজের মাটিতে জিতেছে ওয়ানডে সিরিজ। সাকিব আল হাসানের নেতৃত্বে জয় করেছে টি-টোয়েন্টি সিরিজ। তাছাড়া সর্বশেষ ২০১৬ আসরের রানার্সআপ তারা। যে আসরটি হয়েছিল টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে। বাংলাদেশকে হারিয়ে সেখানে শিরোপা জয় করে ভারত। ২০১২ সালে ওয়ানডে ফরম্যাটেও ঘরের মাঠে ফাইনালে খেলে বাংলাদেশ। পাকিস্তানের বিপক্ষে ২ রানে হেরে সেবার শিরোপা বিসর্জন দিতে হয়েছিল টাইগারদের।
এবারও ওয়ানডে ফরম্যাট বলেই বাংলাদেশ থাকছে আলোচনায়। মাশরাফির নেতৃত্বাধীন দারুণ পেস বোলিং আক্রমণ লাল-সবুজের। তামিম ইকবাল, সাকিব আল হাসান, মাহমুদউল্লাহ, মুশফিকুর রহীমদের নিয়ে ব্যাটিং লাইনআপ।
পাঁচবারের চ্যাম্পিয়ন শ্রীলঙ্কা কি ছেড়ে কথা বলবে? অ্যাঞ্জেলো ম্যাথুস, উপুল থারাঙ্গা, থিসারা পেরেরা, লাসিথ মালিঙ্গার মতো অভিজ্ঞ ক্রিকেটার রয়েছে তাদের দলে। তবে এশিয়া কাপ শুরুর আগে চোট জর্জরিত দলটি। টেস্ট অধিনায়ক দিনেশ চান্ডিমাল ছিকটে গিয়েছিলেন আগেই। বৃহস্পতিবার ছিটকে গেছেন দানুশকা গুনাথিলাকা।
ক্রিকেটে অভূতপূর্ব উত্থানের গল্প তৈরি করা আফগানিস্তানের জন্য নিজেদের মেলে ধরার আরেক আসর এশিয়া কাপ। যেখানেও আলোচনায় থাকছেন টি-টোয়েন্টির সেরা স্পিনার রশিদ খান। ব্যাটিংয়ে মোহাম্মদ শাহজাদ, অলরাউন্ডার মোহাম্মদ নবী তো রয়েছেই।
বাদ থাকে হংকং। যে দলে বেশিরভাগই সেমি-পেশাদার ক্রিকেটার। যাদের আসল লক্ষ্য প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ক্রিকেট খেলা। তবে ফরম্যাটের কারণেই এবার এশিয়া কাপ দারুণ প্রতিদ্বন্দ্বীতার আভাস দিচ্ছে। বিশেষ করে সুপার ফোরের লড়াই হবে বিশেষ আকর্ষণের। বিশ্বকাপের আগে অবশ্য ভারত, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা, বাংলাদেশ এমনকি আফগানরাও চাইবে আসরটি সাফল্য দিয়ে শেষ করতে। তো কার হাতে যাবে শিরোপা? উত্তর জানতে ২৮ সেপ্টেম্বর ফাইনাল পর্যন্ত অপেক্ষায় থাকতে হবে।