বিশ্বমানব হবি যদি শাশ্বত বাঙালি ’হ

আপডেট: এপ্রিল ১৪, ২০১৮, ১২:৩৬ পূর্বাহ্ণ

ড. হাসান রাজা


অপার্থিব সৌন্দর্য্যরে নান্দনিক প্রকাশ এই মানবিক পৃথিবী। এরই মধ্যে দিগন্ত বিস্তৃত পরম প্রকৃতির অশেষ স্নেহ আর ভালোবাসায় সিক্ত জননী জন্মভূমিশ্চ স্বর্গাদপী গরিয়সী আমার মাতৃভূমি, আমার বাংলাদেশ। প্রায় আট হাজার বছরের সুদীর্ঘ অস্তিত্ব রক্ষার অসামান্য ধারাবাহিক লড়াই-সংগ্রামের সীমানা পেরিয়ে আজ আমরা স্বাধীন সার্বভৌম বাঙালি জীবনের সর্বশ্রেষ্ঠ প্রাপ্তি মহান স্বাধীনতা অর্জনের সুবর্ণ জয়ন্তীর দ্বারপ্রান্তে।
হিন্দু-মুসলিম-বৌদ্ধ-খৃস্টানসহ নানা জাতি, বর্ণ, গোত্র’র পারস্পরিক হৃদ্যতা আর অসাম্প্রদায়িক চেতনার অটুট বন্ধনে আবদ্ধ হাজার হাজার বছরের ঐতিহ্যে লালিত আমাদের আবহমান বাংলা যেন সারা বিশ্বের বিস্ময়। স্বর্গালোকিত সর্বজনিন মানবতা বোধের ফল্গুধারায় স্নাত চিরায়ত বাঙালির জীবনদর্শন সর্বজনিন মানবিক সৌহার্দ আর সম্প্রীতির মেলবন্ধনের সূতিকাগার। এ দেশের হাজারও নদ-নদী, ফুল-ফল, পশু-পাখি, আবহমান বাঙলার চিরচেনা সুজলা-সুফলা, শস্য-শ্যামলা সবুজ প্রকৃতি, দিগন্ত বিস্তৃত মাঠ, সোঁদা মাটির গন্ধে ব্যাকুল বাঙালি হৃদয় বিশ্বজনিন মানবিক ও উদার দৃষ্টিভঙ্গির উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। মানুষে মানুষে আত্মিক সম্পর্ক সৃষ্টির নিরন্তর বৈভবে উদ্ভাসিত বাঙালির আজন্ম স্বাধীন অস্তিত্বের শেকড় সন্ধানী সাংস্কৃতিক পরিম-লের আদর্শিক চেতনার মনস্তাত্বিক পুরোধা আমাদের লোক কবিগণ। তাঁরা বিশ্বমানবাত্মার সামগ্রিক কল্যাণ কামনায় সকল সময় তাদের সৃজনশীল ভাবনার আকাশকে বিশ্বব্যাপি উন্মুক্ত রেখেছেন। পরম আত্মবিশ্বাসের মহামানবিক সুরে বিশ্ব ভ্রাতৃত্বের সুমহান ঐক্যের সর্বজনিন আহ্বানে গেয়ে উঠেছেনÑ‘সবার উপরে মানুষ সত্য তাহার উপরে নাই’। আবার আত্মদর্শী স্বদেশ প্রেমের অশেষ সৌরভে-গৌরবে অবগাহন ক’রে বিশ্বদরবারে নেতৃত্বদানের সুদৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করতে ঘোষণা করেছেনÑ‘বিশ্বমানব হ’বি যদি শাশ্বত বাঙালি ’হ।’
এই বাঙালি হয়ে জন্মলাভের যে মহিমান্বিত আত্মমর্যাদা সেটি আজ পর্যন্ত যারা আত্ম উপলব্ধি করেছেন, তাঁদের দিকে তাকালে নিঃসন্দেহে আমাদের বুক গর্বে ফুলে উঠতে পারে। একজন পূর্ণ বাঙালি হয়ে উঠতে পারলেই যে আমরা বিশ্বমানবের কাতারে গিয়ে দাঁড়াতে পারব সেটি শুধু মাত্র কথার কথা নয়। কবি গুরু সদয় দত্তের (১৮৮২-১৯৪১) বিশ্বমানব হতে হলে শাশ্বত বাঙালি হওয়ার আহ্বানেরও বহু পূর্বে বাংলা ভাষার আদি পদ সংকলন তথা সাহিত্যের প্রাচীনতম নিদর্শন দশম শতাব্দীর ‘চর্যাপদ’ এর দ্বিতীয় স্বনামধন্য কবি ভুসুকু পা তার এক কাব্যে নিজেকে বাঙালি বলেই গৌরব অনুভব করেছিলেন। বলেছিলেন-‘আজি ভুসুকু বঙ্গালী ভইলী। নিঅ ঘরিণী চন্ডালে লেলী।’ গুরু সদয় দত্ত বা বৌদ্ধ ভিক্ষু ভুসুকু পা’র দৃষ্টিতে বাঙালিত্ব অর্জন যে শুধু একটি কথার কথা নয়, সেটি নিঃসন্দেহে সাধনালব্ধ অর্জনীয় একটি বিষয়।
শতাব্দী লাঞ্ছিত এই বাংলাদেশের পোড় খাওয়া মানুষের বিদেশি বেনিয়াদের সঙ্গে লড়াই-সংগ্রাম করে টিকে থাকার ইতিহাস বহু দিনের। মাতৃভাষা বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা হিসেবে স্বীকৃতি পেতে পৃথিবীর ইতিহাসে প্রাণ দেয়ার বিরল ইতিহাস সৃষ্টির মধ্য দিয়ে আমরা বাঙালিরা স্বাধিকার থেকে স্বাধীনতা আন্দোলনের সূচনা করেছিলাম। বায়ান্নর রাষ্ট্রভাষা আন্দোলন, চুয়ান্নর যুক্তফ্রন্ট নির্বাচন, আটান্নর সামরিক শাসনবিরোধী আন্দোলন, বাষট্টির শিক্ষা-আন্দোলন, ছিষট্টির ছয় দফা, ঊনসত্তরের মহান গণ-অভ্যুত্থান, সত্তরের নির্বাচনের পর দীর্ঘ নয় মাস রক্তক্ষয়ী সংগ্রামের মধ্য দিয়ে ৩০ লক্ষ বীর বাঙালির আত্মাহুতি ও ৪ লক্ষ মা-বোনের সম্ভ্রমের বিনিময়ে একনদী রক্ত পেরিয়ে আমরা আমাদের বাঙালি জীবনের সর্বশ্রেষ্ঠ প্রাপ্তি মহান স্বাধীনতা অর্জন করেছিলাম। আর বাঙালির এই মহান ভাষা আন্দোলন এবং দীর্ঘ নয় মাস রক্তক্ষয়ী জীবন যুদ্ধের নেতৃত্বদানসহ বাঙালির সামগ্রিক কল্যাণে সমগ্র জীবন উৎসর্গ করে সকল কালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি হিসেবে পরম মর্যাদার আসনে অধিষ্ঠিত হয়েছেন জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। পরবর্তীতে অকৃতজ্ঞ পথভ্রষ্ট বিশ্বাসঘাতকদের ষড়যন্ত্রে ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট সপরিবারে শাহাদত বরণ করলেও তাঁর কাছে আমরা বাঙালিরা চিরকালের ঋণী। তিঁনি এখন বাঙালির শোক নয়, শক্তির প্রতীক আর সামনে এগিয়ে যাবার চির প্রেরণা। তিঁনিই শ্রেষ্ঠতম বিশ্ববাঙালি।
বাঙালি জীবনাদর্শ ও চেতনার সঠিক পথ বিনির্মাণে বঙ্গবন্ধু তাই আমাদের শ্রেষ্ঠ আলোকবর্তিকা। বাঙালির চিরকালের শত্রু, বাংলা ভাষা-দেশ ও জাতির বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রকারী স্বাধীনতার পরাজিত শক্তির ভিতরে-বাহিরে, দেশে-বিদেশের নানা ধরনের সকল ষড়যন্ত্রকে প্রতিহত করে বাঙালিরা এখন বিশ্বের উন্নয়নশীল রাষ্ট্রের দৌড়গোড়ায়। বাঙালি হিসেবে বিশ্বের শিল্প-সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক পরিম-লে ১৯১৩ সালে বাঙালি বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার অর্জনের মধ্য দিয়ে বিশ্বসভায় বাংলা ভাষা যেমন গৌরবদীপ্ত বিশ্বভাষার স্বীকৃতি লাভ করে তেমনি বাঙালি হিসেবেও আমরা বিশ্ব দরবারে সম্মানের আসনে অধিষ্ঠিত হয়েছি।
বাংলা ভাষাকে রাষ্ট্রভাষার মর্যাদা দানের লড়াইয়ে ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি বাঙালিরা তাদের মাতৃভাষা বাংলার মান রক্ষার জন্যে প্রথম রক্ত দেয়, সে ঘটনার সাতচল্লিশ বছর পরে ১৯৯৯ সালের ১৭ নভেম্বর ইউনেস্কো ২১ ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস রূপে ঘোষণা করেছে, যার ফলে প্রতি বছর বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ২১ ফেব্রুয়ারি মাতৃভাষা দিবস রূপে পালিত হচ্ছে। এ জন্যে আমরা গৌরবান্বিত। বাংলা ভাষা ও বাঙালিত্বের প্রতি সর্বস্ব নিবেদিত জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তাই ১৯৭১ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি বাংলা একাডেমিতে অমর একুশের অনুষ্ঠানমালা উদ্বোধন করতে এসে এক ঐতিহাসিক ঘোষণা দিয়েছিলেন। তিঁনি বলেছিলেন-‘আমি ঘোষণা করছি, আমাদের হাতে যেদিন ক্ষমতা আসবে সেইদিন থেকেই দেশের সর্বস্তরে বাংলাভাষা চালু হবে। মাতৃভাষায় বেশি বেশি গবেষণা করুন, আমরা ক্ষমতা হাতে নেয়ার সঙ্গে সঙ্গে বাংলা ভাষা চালু করে দেবো, সে বাংলা যদি ভুল হয়, তবে ভুলই চালু হবে, পরে তা সংশোধন করা হবে।’ বঙ্গবন্ধু তাঁর কথা রেখেছিলেন, বাংলাদেশের সংবিধানের রাষ্ট্রভাষা সংক্রান্ত ধারায়, প্রজাতন্ত্রের রাষ্ট্রভাষা বাংলা প্রতিষ্ঠিত করে। সর্বোপরি বঙ্গবন্ধু ১৯৭৪ সালে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে সর্বপ্রথম বাংলায় ভাষণ দিয়ে বাংলা ভাষা এবং বাংলাদেশকে আবারো প্রাতিষ্ঠানিকভাবে সারা বিশ্বের দরবারে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে মর্যাদার আসনে স্থাপন করে গেছেন। কারণ, বাংলা ভাষার রাষ্ট্রীয় অধিকার আদায়ের মধ্য দিয়েই আমরা বাঙালিরা স্বাধিকার থেকে স্বাধীনতা অর্জনের সর্বোচ্চ প্রতিজ্ঞায় সম্মিলিত হয়েছিলাম। যদিও আমাদের প্রাণের মাতৃভাষা আমাদের প্রিয় বাংলা ভাষার অধিকার আদায়ের জন্য আত্মাহুতি দেয়ার দিনটি আজ সারা পৃথিবীর সকল ভাষাভাষির জন্য আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস। কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় আজ পর্যন্ত দেশের সর্বস্তরে প্রমিত মাতৃভাষা বাংলা সম্যকভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়নি। অথচ পৃথিবীর ইতিহাসে আমরাই একমাত্র জাতি যারা মাতৃভাষার অধিকার আদায়ের জন্য প্রাণ দিয়েছিলাম।
মাতৃভাষা বাংলাকে মনেপ্রাণে সঠিকভাবে ভাল না বাসলে কখনই এদেশে জন্মলাভকারী কোনো মানুষ প্রকৃত বাঙালি বা দেশপ্রেমিক হতে পারে না। তাই মাতৃভাষার প্রতি দায়বদ্ধ থেকেই এই বাঙালি হয়ে ওঠার বিশ্বাসে এখন যে কোনও মূল্যে বাংলা ও বাঙালিত্বের সুমহান চেতনাকে রাষ্ট্রীয়ভাবে সর্বস্তরে নতুনভাবে শাণিত করার সময় এসেছে। একটি দেশে জন্মলাভের পর সে দেশের প্রতিটি মানুষের তার মাতৃভূমির প্রতি যে শ্রদ্ধা ও ভালবাসা থাকা দরকার তার প্রতি আজ সুদৃষ্টি দিতে হবে আমাদের। বিশ্বমানব হওয়ার যে আকাক্সক্ষা সেই সত্যের আলোর দীপ্তিতে আলোকিত হতে ঐতিহ্যিক দেশ-প্রেম আর সুমহান মানবিক জীবন আদর্শকে ধারণ না করলে বৃথায় শেষ হবে আমাদের বাঙালি জীবন। কেননা, এদেশের মাটিতে জন্মলাভের পরও এদেশের আলো, মাটি, বাতাসে বেড়ে উঠেও একপর্যায়ে আমাদের দূরদৃষ্টির অভাবে তথাকথিত ধর্মীয় উস্কানি ভরা সাম্প্রদায়িকতার সাথে তথাকথিত বিদেশি ভাষাতে শিক্ষার্জন করতে গিয়ে চরমভাবে বিভ্রান্ত ও দেশদ্রোহী হয়ে উঠছে আমাদের নতুন প্রজন্ম। সাম্প্রদায়িকতার এ বিষবাষ্প থেকে রক্ষা পেতে সব সময় ব্যক্তিগত ও রাষ্ট্রীয়ভাবে সচেতন থাকতে হবে আমাদের। আর আমাদের নতুন প্রজন্মকে বিভ্রান্ত করতে এই কাজটি খুবই সূক্ষ্মভাবে সম্পন্ন করছে সরকারের সাথে মিশে থাকা কিছু মুখোশধারী ওহাবী ধর্মান্ধ স্বাধীনতার শত্রুদের অনুচরবর্গ। মুখে জয়বাংলা বললেও অন্তরে তারা চিরকাল বাঙালি ও অসাম্প্রদায়িকতার শত্রু। তাদের মীরজাফরী কূট চক্রান্ত যে কোনো মূল্যে রূখে দিতে হবে আমাদের।
বাংলাদেশ এবং বাঙালিত্ব আসলে একে অপরের পরিপূরক। প্রায় আট হাজার বছরের ঐতিহ্যকে স্মরণ করলে আমরা দেখতে পাই আমাদের আদি বংশধরগণ ছিলেন অনার্য। সমুদ্র পৃষ্ঠে জেগে ওঠা ব-দ্বীপে প্রথমে ‘বঙ’ জনগোষ্ঠি বসবাস শুরু করে। এখান থেকেই পরবর্তীতে বাংলার গোড়া পত্তন। যদিও নিজেদের অস্তিত্ব রক্ষার তাগিদে একদা নিগ্রোটি, অস্টিক, দ্রাবিড়, মঙ্গোলীয়, পু-্র জাতি এই ভূ-খ-ে বসতি স্থাপন করে। পনেরশত খ্রিস্টপূর্বে আর্যদের আগমন এবং পরবর্তীতে আর্যভাষা থেকে প্রাকৃত হয়ে পূর্ব মাগধী অপভ্রংশ থেকে বাংলা ভাষার উদ্ভবের মধ্য দিয়ে আমরা আমাদের স্বকীয় মাতৃভাষার এতিহ্য ধারণে এগিয়ে যায়। আর্যদের পরে তেরশতকের দিকে বাংলায় মুসলিমদের আগমন ঘটে। এসময়ে বৌদ্ধ, জৈন ও হুন আদিবাসীদের পাশাপাশি মোগল ও পাঠানরাও এদেশে বসতি স্থাপন ঘটায়।
আর্যদের পরবর্তী পর্বে বহিরাগতদের মধ্যে সর্বাপেক্ষা উল্লেখযোগ্য আরব বণিক সম্প্রদায়। ত্রয়োদশ শতাব্দীর পূর্ব থেকেই এ দেশে তাদের আগমন অব্যাহত ছিল। সেই সাথে অসাম্প্রদায়িক চেতনায় সমৃদ্ধ সুফি দরবেশদের আগমন এবং দেশের অভ্যন্তরে, প্রত্যন্ত অঞ্চলে তাদের ছড়িয়ে পড়ার বিষয়টি ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অপরদিকে, ত্রয়োদশ শতাব্দী থেকে এ দেশে মুসলমান সামরিক অভিযানের সূত্রপাত ঘটে। বলাবাহুল্য শুধুমাত্র বাণিজ্যিক-কর্মকা-, ধর্মের বাণী এবং যুদ্ধবিগ্রহের সাথেই তাদের আগমনের এই সমুদয় প্রক্রিয়ার পরিসমাপ্তি ঘটেনি। আসলে এইভাবে বঙ্গভূমিতে বহিরাগত মুসলমানদের অভিযানের পরিণতিতে ফলস্বরূপ কয়েক শতাব্দীর মধ্যেই তাদের এই দেশে স্থায়ী বসতি স্থাপিত হয়ে যায়। মোগল আমল (১৬শ-১৭শ শতাব্দী) নাগাদ এই দেশের নাম পরিচিতি ক্রমশ ‘বঙ্গাল’ হয়ে ওঠে। সম্রাট আকবরের সভাসদ ঐতিহাসিক আবুল ফজল তাঁর রচিত আইন-ই-আকবরী গ্রন্থে ‘বাঙ্গালা’ নামটির ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে জানিয়েছেন এই ভাবে যে, ‘বঙ্গ’ এই শব্দের সাথে পূর্ববঙ্গীয় ‘আইল’ (সংস্কৃতমূলে আলি) শব্দের যোজনা করে, অতএব নি®পন্ন সাধিত শব্দটি ‘বাঙ্গাল’ ও ‘বাঙ্গালা’। এই বঙ্গদেশ ঘোরতর বর্ষাপ্রবণ এবং নদীমাতৃক বিধায় তদ্দরুণ সময়কালে জোয়ারের স্রোত এবং বর্ষাপ্লাবন ঠেকাবার বাঁধ বাঁধা এবং কৃষি উৎপাদনের জন্য আল বাঁধার নিতান্ত প্রয়োজন হয়ে পড়ে। বর্ষণ প্রাচুর্যের এই দেশ ছিল স্বভাবতই আল বহুল। এই প্রসঙ্গে ড. নীহাররঞ্জন রায় লিখছেন যে, তার মতে আবুল ফজল মহাশয়ের কথার অর্থ এই রকম : ‘যে- বঙ্গদেশ আল বা আলিবহুল, যে- বঙ্গদেশের উপরিভূমির বৈশিষ্ট্যই হইতেছে আল, সেই দেশই বাঙ্গালা বা বাংলাদেশ।’
বিশ্বের যে কোনো ভাষাভাষি মানুষদের তুলনায় আমরা বাঙালিরা আজ অনেক বেশি ঐশ্বর্যম-িত। নিজস্ব ভাষা, কৃষ্টি, সংস্কৃতি, শিল্প-সাহিত্য তথা সভ্যতার অসামান্য সৃজনশীল কর্মকা-ে আমাদের ইতিহাস বিশ্বের দরবারে আজ নানাভাবে প্রশংসিত। ক্রিকেটে খেলায় ১৯৯৭ সালে বাংলাদেশ আইসিসি চ্যা¤িপয়নশিপ-এ বিজয়ী হবার মধ্য দিয়ে বিশ্ব ক্রিকেটের বৃহত্তম আসর ‘আইসিসি বিশ্বকাপ ক্রিকেট ১৯৯৯’ এ খেলবার সুযোগ পায়। যা বিশ্ব দরবারে বাংলাদেশকে এক নতুন মাত্রায় উপস্থাপিত করেছে। এবং এর জয়যাত্রা ক্রমাগত অব্যাহত রয়েছে। ২০১৭ সালের অক্টোবরের শেষে ইউনেস্কো বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানর ৭ মার্চের ভাষণকে ‘ডকুমেন্টারি হেরিটেজ’’ (বিশ্ব প্রামাণ্য ঐতিহ্য) হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। আর জাতির জনকের কন্যা শেখ হাসিনা অর্জন করেছেন দেশ ও জাতির পক্ষ থেকে পরিবেশ বিষয়ক সর্বোচ্চ আন্তর্জাতিক পুরষ্কার ‘চ্যা¤িপয়ন্স অব দ্য আর্থ’ । এই পুরস্কার লাভের পর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে ভাষণ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিশ্ববাসীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন। বাংলাদেশের বিভিন্ন পর্যায়ের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ১৯৯৭ সাল থেকে এ পর্যন্ত আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ২৭টি পুরস্কার ও পদক অর্জন করেছেন। এই অর্জন আমাদের সামগ্রিক বাঙালি অস্তিত্বের বিজয় ঘোষণা করে।
ক্রমশ অন্ধকার থেকে আলোর পথে এগিয়ে চলেছি আমরা। অথচ আমাদের আশে-পাশেই রয়েছে আমাদের স্বাধীনতার শত্রুপক্ষ। স্বাধীনতা উত্তর বাংলাদেশে তারা বহু বর্ণে বহুরূপে ঐক্যবদ্ধ। একমাত্র ধর্মের অপব্যাখ্যাকে পূঁজি করেই তাদের বহুমুখি দেশদ্রোহিতা বিস্তৃত। ইরান থেকে আগত আত্মদর্শী সুফিজম যেভাবে আমাদের সহজিয়া বাউল আর বৈষ্ণবদের সঙ্গে মিলেমিশে মরমী জীবনাদর্শে একাকার হয়ে মহামানবিক ঐক্য বিনির্মাণ করেছিল। পরবর্তীতে সেই অসাম্প্রদায়িক মহামানবিক চেতনাকে বিনষ্ট করতে পবিত্র ইসলামের চির শত্রু ওহাবীরা নানাভাবে ইসলামের অপব্যাখ্যা দিয়ে আজ পর্যন্ত দলে উপদলে ভাগ হয়ে আমাদের সহজ সরল বাঙালিদের বিভ্রান্ত করে চলেছে। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের নেতৃত্বদানকারী আওয়ামীলীগের মধ্যেও এরা গুপ্তভাবে সোচ্চার রয়েছে। এখন পর্যন্ত ধর্মীয় মাহফিলের নামে তারা সাম্প্রদায়িক ওহাবী মতবাদের প্রচার করে চলেছে। একদা ধর্মের নামে ফতোয়া, উত্তপ্ত বাহাসের জোর ছিল বিশ শতকের কয়েক দশক অবধি। সেই দুঃসময়ে সুস্থতার সুশীতল বাতাস বইয়ে দিয়ে বাঙালিদের ঐক্যবদ্ধ করেছিলেন আমাদের কতিপয় গুণি-বিদ্বান-মহাজনেরা। গোঁড়ামি-ভ-ামির বিরুদ্ধে প্রতিরোধের প্রচারণা গড়ে তুলেছিলেন মুক্তবুদ্ধির দুঃসাহসী কতিপয় কবি, লেখক, বুদ্ধিজীবী এবং দেশ-প্রেমিক জনদরদী নেতাগণ। যাঁরা আমাদেরই পিতা-পিতামহ। আত্মপরিচয়ের সন্ধানে তাঁরা জনমত সংগঠনের উদ্যোগী হয়েছিলেন। সেই সব চির বাঙালি আমাদের অগ্রজদের অনন্ত বিশ্বাসের দিকে তাকালে দেখতে পায়, ১৯৩০ সালে নোয়খালী মুসলিম ইনস্টিটিউটের বার্ষিক অধিবেশনে সভাপতির ভাষণ দিতে গিয়ে এস. ওয়াজেদ আলি বলেছিলেন-‘আমাদের মুসলমানদের ধমনীতে বিদেশীর রক্তও আছে, আর এদেশীয় রক্তও আছে; আর্যের রক্তও আছে, আর অনার্যের রক্তও আছে, তথাকথিত উচ্চ জাতীয় হিন্দুর রক্তও আছে, আর তথাকথিত নীচ জাতীয় হিন্দুর রক্তও আছে। এ সবকে নিয়েই আমাদের গৌরব করতে হবে, এখন আমরা হচ্ছি বাঙালি।’ আমাদের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম ১৩৪৯ (১৯৪২ খ্রি.) সালের ৩ বৈশাখ নবযুগ পত্রিকার ‘বাঙালির বাংলা’ প্রবন্ধে লেখেন-বাঙালিকে, বাঙালীর ছেলেমেয়েকে ছেলেবেলা থেকে শুধু এই এক মন্ত্র শেখাও : এই পবিত্র বাংলাদেশ / বাঙালীর-আমাদের। বাংলা বাঙালীর হোক। বাংলার জয় হোক। বাঙালীর জয় হোক।
বহু ভাষাবিদ ড. মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ, ৩১ ডিসেম্বর, ১৯৪৮ সালে পূর্ব পাকিস্তান সাহিত্য সম্মেলনে মূল সভাপতির ভাষণে বলেছিলেন-‘আমরা হিন্দু বা মুসলমান যেমন সত্য, তার চেয়ে বেশী সত্য আমরা বাঙালী। এটি কোনও আদর্শের কথা নয়, একটি একটি বাস্তব কথা। মা প্রকৃতি নিজের হাতে আমাদের চেহারায় ও ভাষায় বাঙালিত্বের এমন ছাপ মেরে দিয়েছেন যে, তা মালা-তিলক টিকিতে কিংবা টুপি-লুঙ্গি দাড়িতে ঢাকবার জোটি নেই।’ আজ তাই বাঙালিত্ব অর্জনের দিন। আত্ম প্রতিজ্ঞায় দীপ্তিমান হয়ে ওঠার দিন। কেননা-বাঙালির প্রাণের উৎসব বৈশাখ আজ জাগ্রত দ্বারে। এই দেশের মানুষের রক্ত-মাংশে মিশে থাকা ঢাক-ঢোলের বাদ্যি-বাদনের সাথে সকল পুরাতন জরা-মৃত্যুকে পেছনে ফেলে আজ নব জীবনের বারতা নিয়ে আমাদের বাঙালি জীবনে বৈশাখ বিশ্বজয়ের আনন্দে বিভোর। তাই বিশ্বমানব হয়ে ওঠার চির মন্ত্র বিশুদ্ধ বাঙালিত্বের। আজ তাই ধর্মান্ধতা নয়, মহামানবিক জীবন অভিধায় বাঙালি মননে গেয়ে উঠতে চাই-ঐ এলো এলো ঐ/ ঐ এলো বৈশাখ/ চারিদিকে বাঁশি বাজে/ বাজে ঢোল বাজে ঢাক। মানুষের ঢল নামে যায় শোভাযাত্রা / জীবনে জীবন খোঁজে নতুন এক মাত্রা। বিগত দিনের যত গ্লানি আর বেদনা / ধুয়ে যাক মুছে যাক/ফিরে যেন আসে না। দলে দলে সন্ত্রাস, হত্যা, ধর্ষণ / ভাসিয়ে নিয়ে যাক বৈশাখী বর্ষণ। স্বদেশ প্রেমে জাগে নতুন সূর্যোদয় / মানুষে মানুষে মিলে মানবতার হোক জয়।’ সকল মানবিক সত্যকে ধারণ করে নিজস্ব মাতৃভাষা বাংলার পাশাপাশি সাল গণনার প্রয়োজনেও আমরা বাঙালিরা নিজস্ব নিয়মেই বাংলা সাল গণনায় সমৃদ্ধ হয়েছি। সুতরাং বাঙালির সুমহান ঐতিহ্য-আবহমানতায়, নানা বংশরক্তের সংমিশ্রণ-ধারাবাহিকতায় আর ভাষা-সংস্কৃতির সংকর উত্তরাধিকারে ঋদ্ধ আমি গর্বিত বাঙালি।
বাংলা ভাষা ও নববর্ষ আমাদের অসাম্প্রদায়িক চেতনার আলোকিত সম্মিলন। সভ্যতার বিকাশের আদি যুুগ থেকেই মানুষ কাল বা সময় বিভাজনের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করে আসছে। সে প্রয়োজনের তাগিদেই বিভিন্ন দেশে বিভিন্ন ভাবে বছর, মাস, সপ্তাহ ইত্যাদি গণনার প্রথা প্রচলিত হয়। তারই ফলে বিভিন্ন দেশে বিভিন্ন অব্দের প্রচলন লক্ষ্য করা যায়। ভারতীয় উপমহাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বিভিন্ন অব্দের উদ্ভব হয়। বাংলায় বিভিন্ন সময়ে আমরা বিভিন্ন অব্দের প্রচলন লক্ষ্য করেছি। যেমন-মল্লাব্দ, শকাব্দ, লক্ষনাব্দ, পালাব্দ, নশরত, শাহী সন, চৈতন্যাব্দ ইত্যাদি লক্ষণীয় বিষয়, এসব অব্দ প্রচলনের পিছনে রাজ-রাজাদের নাম জড়িত রয়েছে। কিন্তু বঙ্গাব্দ বা বাংলা সন প্রচলনের পিছনে যারই অবদান থাকুক না কেন, এর নামের সঙ্গে সংযুক্ত রয়েছে বাঙালি জাতির নাম। সুতরাং বাংলা সন হচ্ছে বাঙালি জাতির একান্ত নিজস্ব অব্দ। সম্রাট আকবরের (১৫৫৬-১৬০৯) নির্দেশে এবং বিজ্ঞ রাজ জ্যোতিষী ও প-িত জনাব আমীর ফতেহ উল্লাহ সিরাজীর গবেষণার ফলে বাংলা সনের উৎপত্তি ঘটে ১৫৮৪ খ্রিস্টাব্দ থেকে। বাংলা বর্ষপঞ্জি প্রথমে ‘তারিখ-ই-এলাহী’ বা ‘ফসলি সন’ নামে পরিচিত ছিল। ১৫৮৪ সালের ১০ বা ১১ মার্চ তারিখে এটি ‘বঙ্গাব্দ’ নামে প্রচলিত হয়। এ নতুন সালটি সম্রাট আকবরের রাজত্বের ২৯তম বর্ষে প্রবর্তিত হলেও তা গণনা করা হয় ১৫৫৬ খ্রিস্টাব্দের ৫ নভেম্বর থেকে। কারণ হিজরি সনে রাত আগে আসে এবং দিন পরে আর খ্রিস্টিয় মতে মধ্যরাত থেকে দিন শুরু হয়, ফলে ভৌগলিক দিক দিয়ে কৃষি কাজের জন্য বছর মেলানো কঠিন হয়ে পড়ত। কিন্তু বাংলা সনে সূর্যাস্তের সাথে সাথে নতুন দিন শুরু হয়ে যায়। যেহেতু কৃষি নির্ভর বাঙালি সমাজে ফসল ফলানোর সাথে সম্পর্কিত বিধায় বাংলা সন প্রবর্তনের পূর্বে হিজরি সাল গণনায় প্রতিবছর ১০ দিন করে এগিয়ে আসায় দিন গণনায় প্রচুর হেরফের দেখা দেয়। বিধায় এ সকল সমস্যা থেকে উত্তরণ ঘটিয়ে দেশের ভৌগলিক ও পারিপার্শ্বিক বৈশিষ্টে আমরা ১৪ এপ্রিল থেকেই আমাদের বাংলা নতুন বছরের গণনা শুরু করি। যার মাধ্যমে আমাদের বাঙালি জীবন ও সংস্কৃতি নিজস্ব বৈশিষ্টে সমুজ্জ্বল হয়ে উঠেছে। পুরাতন হিসেব পেছনে ফেলে নতুনভাবে আগামীকে বরণ করতে তাই গ্রাম-গঞ্জে বৈশাখের ১ তারিখে তথা পহেলা বৈশাখের দিনে বাংলা বর্ষবরণের পাশাপাশি ‘হাল খাতা’ বা নতুন খাতা খোলার মাধ্যমে ব্যবসাকে এগিয়ে নেয়ার এ রীতি এখনও আবহমান বাংলার একটি জনপ্রিয় ঐতিহ্য।
তাই আজও যারা বাংলা বর্ষবরণের নান্দনিক মঙ্গল শোভাযাত্রাকে হিন্দুয়ানি বলে নানারকম মিথ্যাচার আর ধর্মীয় বিধি-নিষেধের অপব্যাখ্যায় বিতর্কিত করতে চায় তাঁদের জন্য ঘৃণা আর অভিশাপ। তাদের জন্য বলতে চাই-বাংলা ভাষা আমার অস্তিত্বের স্মারক আর ’৭১ আমার বাঙালি জীবনের সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ অর্জন। মুক্তিযুদ্ধে বিজয় থেকে আহৃত, সংযোজিত আমার বিশ্ব পরিচয় তথা লাল সবুজের রাষ্ট্রীয় নাগরিকত্বের পরিচিতি অভিধায় আমি বাঙালি, বিশ্ব নাগরিক। অতএব উন্নত শিরে কবি সৈয়দ শামসুল হক (২৭ ডিসেম্বর ১৯৩৫-২৭ সেপ্টেম্বর ২০১৬) এর কণ্ঠে কণ্ঠ মিলিয়ে ঘোষণা করতে চাই-‘পরিচয়ে আমি বাঙালি আমার আছে ইতিহাস গর্বের, কখনই ভয় করিনাকো আমি উদ্যত কোন খড়গের, শত্রুর সাথে লড়াই করেছি স্বপ্নের সাথে বাস, অস্ত্রেও শান দিয়েছি যেমন শস্য করেছি চাষ; একই হাসি মুখে বাজিয়েছি বাঁশি, গলায় পড়েছি ফাঁস; আপোষ করিনি কখনোই আমি এই হল ইতিহাস। এই ইতিহাস ভুলে যাবো আজ আমি কি তেমন সন্তান? যখন আমার জনকের নাম শেখ মুজিবুর রহমান, তারই ইতিহাস প্রেরণায় আমি বাংলার পথ চলি, চোখে নীলাকাশ, বুকে বিশ্বাস, পায়ে উর্বর পলি।’
সুতরাং, বাঙালি জীবনের ফুলচিত্রগীতিগাঁথাকর্মরূপময়তার অশেষ নান্দনিক সৌরভে আত্ম নিবেদিত হয়ে বাংলা মায়ের কোলে বার বার জন্ম নেয়ার অসীম ইচ্ছা বুকে রেখে বলতে চাই- যারা আমার হাজার বছরের সংগ্রামী বাংলা দেশ-ভাষা-শিক্ষা-সংস্কৃতিকে ধর্মীয় অপব্যাখ্যায় বিভ্রান্ত করতে চায় তাদের দাঁতভাঙ্গা জবাব দিতে মধ্যযুগের বিখ্যাত বাংলা প্রেমিক কবি আবদুল হাকিম (১৬২০Ñ১৬৯০) তার ‘নূরনামা’ কাব্যে অনেক আগেই যা লিখেছিলেন, তার কয়েকটি চরণ সবিশেষ উল্লেখ করে শেষ করতে চাইÑ‘যেই দেশে যেই বাক্য কহে নরগণ। সেই বাক্য বুঝে প্রভু আপে নিরঞ্জন। সর্ববাক্য বুঝে প্রভু কিবা হিন্দুয়ানী। বঙ্গদেশী বাক্য কিবা যত ইতি বাণী। মারফত ভেদে যার নাহিক গমন। হিন্দুর অক্ষর হিংসে সে সবের গণ। যে সবে বঙ্গেত জন্মি হিংসে বঙ্গবাণী। সে সব কাহার জন্ম নির্ণয় ন জানি।। দেশী ভাষা বিদ্যা যার মনে না জুয়ায়। নিজ দেশ তেয়াগী কেন বিদেশ ন যায়।’
সবাইকে বাঙালিত্বের শুভেচ্ছা। জয় হোক বাংলার। জয় হোক বাঙালির। শুভ বাংলা নববর্ষ।
লেখক : গবেষক
যধংংধহৎধলধথৎধল@ুধযড়ড়.পড়স

Don`t copy text!