বিশ্ব মানসিক স্বাস্থ্য দিবস বাংলাদেশে মানসিক স্বাস্থ্যের অবস্থা এবং এশিয়ান হেলথ সাইকোলজি কংগ্রেসে অংশগ্রহণ

আপডেট: অক্টোবর ১০, ২০১৯, ১২:৪৮ পূর্বাহ্ণ

ড. সুলতানা নাজনীন


বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ঘোষণায় বলা হয়েছে- সামগ্রিক দৈহিক, মানসিক ও সামাজিক সূস্থতাই সুস্বাস্থ্য। শুধুমাত্র দৈহিক রোগের অনুপস্থিতিই সুস্থতা নয়। এছাড়াও দৈহিক, মানসিক ও সামাজিক সুস্থতা মিলে যে সুস্বাস্থ্য, তা একটি অপরটির সাথে জড়িত।
বিশ্বে মোট জনসখ্যার প্রায় ৩০০ মিলিয়ন মানুষ ’বিষণ্নতা’ এবং ২৬০ মিলিয়নের বেশি মানুষ Anxiety disorder এ ভুগছেন। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) র রিপোর্টে বলা হচ্ছে, বিশ্বের রোগাক্রান্ত মানুষেন ১৩% রোগী মানসিক রোগাক্রান্ত।
এ প্রসঙ্গে, Depression সম্পর্কে জেনে নেয়া ভাল, , Depression is part of normal experience to feel unhappy during times of adversity. The Syndromes are (1)  depressed mood (2) Negative thinking (3) Lack of enjoyment (4)  Reduced energy, and (5) Slowness.
বাংলাদেশের বয়স্ক জনসংখ্যার ১৬.১% এর Mental disorder রয়েছে। ছেলেদের চাইতে মেয়েদের মানসিক সমস্যা বেশি। নারীরা বেশি ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (WHO) গবেষণায় দেখা গেছে যে, ৩৩% নারী Depression-এ ভুগছেন। ডিপ্রেসনের ১১.৪ % নারীর আত্মহত্যার প্রবণতা রয়েছে। অন্য গবেষণায় দেখা গেছে, গর্ভাবস্থায় ডিপ্রেসনের ১৪% নারী নিজেই নিজের ক্ষতি করার কথা চিন্তা করে।
এই গবেষণায় আরও দেখা গেছে, ছেলে সন্তান জন্ম দেবার অক্ষমতা মায়েদের ডিপ্রেসনের একটা বড় কারণ। স্বামী এবং শাশুড়ির অসহযোগিতাপূর্ণ আচরণ এ জন্য অনেকখানি দায়ী।
বাংলাদেশে ১৩.৪ % শিশুর Behavior disorders রয়েছে, ০.৬ % এর Mild mental retardation (মৃদু মানসিক প্রতিবন্ধিতা) রয়েছে। এছাড়া বাংলাদেশে ড্রাগ আসক্তিতে ভোগার সংখ্যা ১৫ থেকে ৩০ বছর বয়সী তরুণ যুবকদের বেশি।
বাংলাদেশে হাসপাতালে মাত্র ৮% বেড রয়েছে মানসিক রোগীর জন্য। ৫০০ বেড সম্পন্ন একমাত্র মানসিক হাসপাতালটি ১৯৫৭ সালে প্রতিষ্ঠিত। ঢাকাতে প্রতিষ্ঠিত ১৫০ বেড সম্পন্ন ন্যাশনাল ইন্সটিটিউট অফ মেন্টাল হেলথ হাসপাতালটি ১৯৮১ সালে প্রতিষ্ঠিত। এরা মানসিক স্বাস্থ্য বিষয়ে প্রশিক্ষণ দিয়ে থাকে। ১৯৬৯ সালে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রথম মানসিক সমস্যাগ্রস্তদের জন্য আউটডোর ক্লিনিক চালু হয়। বর্তমানে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালেও মানসিক সমস্যাগ্রস্তদের জন্য আউটডোর সেবা চালু আছে।
বাংলাদেশ সরকারের মিনিস্ট্রি অব হেলথ ও ফ্যামিলি ওয়েলফেয়ারের স্বাস্থ্য খাতে মোট খরচের মাত্র ০.৫% মানসিক স্বাস্থ্য ক্ষেত্রে বরাদ্দ যা অত্যন্ত নিম্ন মানের তাৎপর্য বহন করে। বাংলাদেশে সচেতনতার অভাব এবং মেডিক্যাল কেয়ারের অভাবের কারণে মানসিক অসুস্থতা বেশি। এছাড়াও Social Stigma মানসিক সেবা গ্রহিতা ও অসুস্থতার সাথে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। বাংলাদেশের ৬০% বিবাহিত নারীর মতামত, তারা প্রতিনিয়ত Physical ও Sexual Violence এর শিকার হয়। জেন্ডার বৈষম্যমূলক ভায়োলেন্স যেমন, যৌতুক, ধর্ষণ, জোরপূর্বক গর্ভপাত ও জোর পূর্বক পতিতাবৃত্তিতে নিয়োজিত করানো, প্রভৃতি নারীদের মারাত্মক মানসিক ও মনোদৈহিক রোগের কারণ ।
২০১৫ সালে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ডি.এস.এম. ৫ ঘোষণায় অ্যাডিকটিভ ডিসঅর্ডার সমূহের মধ্যে ইন্টারনেট আসক্তিকে অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং এই আসক্তি এখন ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে।
সব শেষ কথা, যা না বললে অপূর্ণ থেকে যাবে তা হলো, বাংলাদেশের জন্য মানসিক স্বাস্থ্য রক্ষায় জরুরি ভিত্তিতে একটি Twenty first century Mental Health Act প্রয়োজন।
লেখক: চিফ সাইকোলজিস্ট, সিভাস ইন্সটিটিউট, রাজশাহী