বিশ্ব মুগুর পা দিবস পালন || রাজশাহীতে ১১৫৫ জন শিশুর ক্লাবফুট বা মুগুর পা নিয়ে চিকিৎসাধীন

আপডেট: জুন ৪, ২০১৮, ১:৪৬ পূর্বাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক


ক্লাবফুট বা পায়ের পাতার অভিশাপমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার দৃঢ় প্রত্যয়ে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পালিত হয়েছে বিশ্ব ক্লাবফুট দিবস। গতকাল রোববার মেডিকেল কলেজের অর্থোপেডিকস্ সার্জারি বিভাগ ও গ্লেনকো ফাউন্ডশেনের ‘ওয়াক ফর লাইফ’ প্রকল্পের উদ্যোগে এ দিবস পালিত হয়েছে।
দিবসটি উপলক্ষে হাসপাতালের মেইন গেট থেকে একটি র‌্যালি বের করা হয়। র‌্যালিটি ক্যাম্পাসের বিভিন্ন অংশ প্রদক্ষিণ করে হাসপাতালের বহিঃবিভাগে গিয়ে শেষ হয়। র‌্যালিতে হাসপাতালের পরিচালক বিগ্রেডিয়ার জেনারেল মো. জামিলুর রহমান, অর্থোপেডিক বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. এম এ কে সামস্উদ্দিনসহ ক্লাবফুটের অভিশাপ থেকে মুক্ত হওয়া অনেক শিশু ও তাদের বাবা-মায়েরা উপস্থিত ছিলেন।
চিকিৎসকদের মতে, ক্লাবফুট একটি জন্মগত শারীরিক সমস্যাÑ যেখানে শিশুর পায়ের পাতা ভিতরের দিকে বাঁকানো থাকে এবং বাংলাদেশে প্রতিবছর প্রায় ৪ হাজার শিশু এই জন্মগত ত্রুটি নিয়ে জন্মগ্রহণ করে। সঠিক সময়ে এটার চিকিৎসা না করালে শিশু সারা জীবনের জন্য পঙ্গু হয়ে যেতে পারে। পনসেটি মেথড এর মাধ্যমে এর সহজ ও সঠিক চিকিৎসা হয়ে থাকে। আমেরিকান অর্থোপেডিক সার্জন ডা. ইগনেসিও পনসেটি বহু গবেষণার মাধ্যমে এ পদ্ধতিটি আবিষ্কার করেন। তার এ আবিস্কারকে স্মরণীয় রাখতে সমগ্র বিশ্বব্যাপি তার জস্মদিন ৩রা জুন কে বিশ্বক্লাবফুট দিবস হিসেবে পালন করা হয়।
এরই ধারাবাহিকতায় স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় ওয়াক ফর লাইফের সহযোগিতায় রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা প্রদান করে আসছে। এ পর্যন্ত অধ্যাপক ডা. ওবায়দুল হক এর তত্ত্বাবধানে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপালে ওয়াক ফর লাইফ এর ক্লাবফুট ক্লিনিকটিতে ১১৫৫ জন শিশুর ক্লাবফুট বা মুগুর পা চিকিৎসার আওতাভুক্ত করেছে।
রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক জামিলুর রহমান বলেন, বাংলাদেশে একটি শিশুকেও যেন ক্লাবফুটের সমস্যা নিয়ে বেঁচে থাকতে না হয়। এটা যে সঠিক চিকিৎসার মাধ্যমে ভালো হয় তা মানুষকে জানাতে হবে। ক্লাবফুট বা বাঁকা পা নিয়ে জন্মানো শিশুদের চিকিৎসাসেবায় এ হাসপাতালের পক্ষে যা যা করা সম্ভব তার সবকটুই করা হবে। তিনি ওয়াক ফর লাইফ এর উদ্যোগকে স্বাগত জানান।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ