বুদ্ধিমত্তা বাড়াতে মানব মস্তিষ্কে কম্পিউটার চিপ!

আপডেট: মার্চ ১৪, ২০১৯, ১২:২০ পূর্বাহ্ণ

সোনার দেশ ডেস্ক


খুব বেশিদিন না, আগামী ৫ বছরের মধ্যেই মানুষের মস্তিষ্কে ক্ষুদ্র কম্পিউটার চিপ স্থাপন করে মানুষকে আরো বুদ্ধিমান করে গড়ে তোলার চেষ্টা চালাতে যাচ্ছেন গবেষকরা। ওইসব চিপ মস্তিষ্ক ও কম্পিউটারের মধ্যে একটি যোগসূত্র তৈরি করে মানুষের বুদ্ধিমত্তা বাড়াবে বলেই দাবি করা হচ্ছে।
উচ্চ প্রযুক্তির চিপ মানুষের মস্তিষ্কে স্থাপনের মাধ্যমে বুদ্ধিমত্তা বাড়ানোর পথ তৈরি করছেন বিজ্ঞানীরা। মানুষের মস্তিষ্ক হ্যাক করে তার কর্মক্ষমতা আরো বাড়ানোর চেষ্টায় কাজ করছেন বিশেষজ্ঞরা। নর্থওয়েস্টার্ন ইউনিভার্সিটির নিউরো সায়েন্টিস্ট ড. মোরান কার্ফ জানিয়েছেন, সাম্প্রতিক প্রযুক্তিগত উন্নয়নে মানুষের মস্তিষ্কে কম্পিউটার চিপ স্থাপন করে তার ক্ষমতা বাড়ানোর বিষয়টি সম্ভব হবে আগামী ৫ বছরের মধ্যেই। মানুষের বুদ্ধিমত্তা বাড়াতে এই নিউরো সায়েন্টিস্ট এমনই একটি বিশেষ চিপ নিয়ে গবেষণা করছেন।
অন্যদিকে, মানুষের মস্তিষ্কে চিপ বসানোর এ ধরনের আইডিয়া নিয়ে প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ ইলন মাস্ক নিউরালিংক নামের একটি ব্রেন-কম্পিউটার ডিভাইস তৈরির কাজ করছেন। এমনকি আমেরিকান সেনাবাহিনী মানুষের মস্তিষ্ক হ্যাক করার উপায় খুঁজছে। এন থ্রি নামে আমেরিকান সেনাবাহিনী একটি প্রোগ্রাম হাতে নিয়েছে, যার লক্ষ্য ভবিষ্যতে ব্রেইন ওয়েভের মাধ্যমে প্রযুক্তিগত কাজ করা। তার মানে হলো সেনা সদস্যরা অদূর ভবিষ্যতে হয়তো তাদের মস্তিষ্কের মাধ্যমে ড্রোন ও সাইবার সিস্টেম নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে।
বিষয়টা সায়েন্স ফিকশনের মতো মনে হলেও নন সার্জিকাল সিস্টেম হিসেবে গিলে খাওয়া, শরীরে ইনজেক্ট করা বা নাক দিয়ে শরীরের ভেতরে নেয়া কোনো ডিভাইস উদ্ভাবনের কথা ভাবছে আমেরিকান সেনা কর্তৃপক্ষ। এছাড়া আমেরিকান সেনাবাহিনী টার্গেটেড নিউরো প্লাস্টিসিটি ট্রেইনিং নামের একটি প্রোগাম হাতে নিয়েছে। এর ফলে ইলেকট্রিকাল স্টিমুলেশনের মাধ্যমে একজন মানুষ এমন অনেক জটিল কাজ সহজে করতে পারবে, যা স্বাভাবিকভাবে করতে গেলে কয়েক হাজার ঘণ্টা ব্যয় হতে পারে।
ড. মোরান বলেন, এমনভাবেই বিজ্ঞানী ও গবেষকরা মস্তিষ্কে কোনো ধরনের অপারেশন ছাড়া প্রযুক্তির সহায়তায় মস্তিষ্ককে নিয়ন্ত্রণ করার পথ খুঁজছে। এমন কিছু কি খাওয়া যায়, যা মস্তিস্কে গিয়ে জমা হবে ও সেখানে গিয়ে কাজ করতে পারবে? এই প্রশ্নের সমাধান হয়তো কয়েক বছরেই সম্ভব, বলছেন ড. মোরান। তথ্যসূত্র: ডেইলি মেইল