বুলবুল কাফনের কাপড় পরলেন না, ভোটও দিলেন না

আপডেট: জুলাই ৩১, ২০১৮, ১:০৯ পূর্বাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক


রাজশাহী সিটি করপোরেশন (রাসিক) নির্বাচনে ভোট দিলেন না বিএনপি মনোনিত প্রার্থী মোহাম্মদ মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল। তিনি ভোটের আগের দিন শনিবার ঘোষণা দিয়েছিলেন তিনি কাফনের কাপড় পরে ভোট দিতে যাবেন। সকাল ৮ টায় তাঁর ভোট কেন্দ্রে যাওয়ার কথাÑ সাংবাদিকদের এসএমএস করে জানানো হয়েছিল। সোমবার সকাল ৮টার আগেই সাংবাদিকরা গিয়ে তার ভোট কেন্দ্র উপশহর স্যাটেলাইট টাউন হাই স্কুলে গিয়ে অবস্থান নেয়। সময় বয়ে যায় কিন্তু বিএনপির মেয়র প্রার্থী বুলবুল আসেন আর আসেন নি। সকাল ১১ টা পর্যন্ত অপেক্ষা করেও জনাব বুলবুলকে ওই কেন্দ্রের আশপাশেও পাওয়া যায় নি। শেষ পর্যন্ত তিনি নিজের ভোটাধিকারই প্রয়োগ করেন নি। ভোট দেন নি তার প্রধান নির্বাচনি এজেন্ট তোফাজ্জল হোসেন তপুও। তবে ভোট দিয়েছেন বুলবুলের সাথে প্রচারণায় অংশ নেয়া সাবেক মেয়র মিজানুর রহমান মিনুসহ বিএনপির স্থানীয় ও কেন্দ্রীয় নেতারা। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিএনপির এক ক্ষুব্ধ কর্মি বললেন, মেয়র বুলবুলকে যে হাজার হাজার ভোটার ভোট দিলেনÑ তিনি তার নিজের ভোট প্রয়োগ না করে ওই ভোটারদের তিনি তিরস্কার করলেন?
কথা ছিল, নগরীর উপশহর স্যাটেলাইট টাউন হাই স্কুলে সকাল ৮টায় ভোট প্রদান করে বিভিন্ন ভোট কেন্দ্রে পরিদর্শনে বের হবেন বিএনপি প্রার্থী মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল এবং আওয়ামী লীগ মনোনিত মেয়র প্রার্থী এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন। কিন্তু সকাল ৮:১৫ মিনিটে লিটন ভোট প্রদান করলেও আসেন নি বুলবুল। এরপরও মিডিয়াকর্মীরা তার জন্য অপেক্ষায় ছিলেন। পরে জানা গেল, এজেন্টদের কেন্দ্রে থেকে বের করে দেওয়ার অভিযোগের কারণে তিনি স্যাটেলাইট হাই স্কুল কেন্দ্রে আসবে দুপুরের পর। পরে বেলা দুইটার পর বুলবুল নিশ্চিত করেন, তিনি ভোট দিচ্ছেন না। কারণ জানতে চাইলে তিনি তার এজেন্টদের কেন্দ্র থেকে বের করে দেয়ার অভিযোগ এনে বলেন, ‘এই বিপন্ন গণতন্ত্রে আমার পোলিং এজেন্টরা ভোট দিতে পারেনি, সেখানে আমার ভোট দিয়ে লাভ কী?’
এদিকে বিকাল ৪টায় ভোটগণনা শুরু হলেও নগরীর বিনোদপুর এলাকায় ইসলামীয়া কলেজ কেন্দ্র থেকে নিজের প্রতিক্রিয়া জানিয়ে এলাকা ত্যাগ করেন বুলবুল। প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেন, এই নির্বাচন একটা নীলনক্সা। এর আগে তিনি এই কেন্দ্রে বেলা সাড়ে ১১টা থেকে গিয়ে খোলা জায়গায় বসে ছিলেন বুলবুল। ইসলামীয়া কলেজ কেন্দ্র নিয়ে তার অভিযোগ, এই কেন্দ্রে মেয়র পদে কোনো ব্যালট ছিল না। যদিও বুলবুলের অভিযোগ সত্য নয় জানিয়ে এই কেন্দ্রের প্রিজাইডিং কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ-হেল শাফি বলেছেন, এটা ভুল বুঝাবুঝি। তারা বিএনপি নেতাকে বুঝানোর চেষ্টা করেছেন।
জানতে চাইলে বুলবুলের প্রধান নির্বাচনি এজেন্ট তোফাজ্জল হোসেন তপু বলেন, ‘প্রহসন চলছে। এই ভোটের দাম নাই। ভোট দিয়ে করব কী? সব জায়গায় ব্যালট পেপার ছিনতাই।’ শেষ পর্যন্ত প্রধান নির্বাচনি এজেন্ট তপুও ভোট দেন নি।
বুলবুল ভোট না দিলেও অন্য চার মেয়র প্রার্থী নিজ নিজ কেন্দ্রে ভোট প্রদান করেছেন। তারা হলেন নৌকা প্রতীকের আওয়ামী লীগের মনোনিত প্রার্থী এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন, কাঁঠাল প্রতীকের বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির মো. হাবিবুর রহমান, হাতপাখা প্রতীকের ইসলামী শাসন আন্দোলনের মো. শফিকুল ইসলাম ও হাতী প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. মুরাদ মোর্শেদ।
৩০টি সাধারণ ওয়ার্ড ও ১০টি সংরক্ষিত ওয়ার্ডে কাউন্সিলর পদে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। মোট ভোটার ৩ লাখ ১৮ হাজার ১৩৮ জন। ১৩৮টি কেন্দ্রে ভোট নেয়া হচ্ছে।