বুয়েটে আবরার হত্যা: ছাত্রলীগ থেকে ১১ জনকে স্থায়ী বহিষ্কার

আপডেট: অক্টোবর ৮, ২০১৯, ১:০৪ পূর্বাহ্ণ

সোনার দেশ ডেস্ক


বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট)-এর দ্বিতীয় বর্ষের (১৫ ব্যাচ) শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে ১১ নেতাকে ছাত্রলীগ থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে। তারা সবাই বুয়েট ছাত্রলীগের বিভিন্ন পদে ছিলেন।
সোমবার (৭ অক্টোবর) রাতে ছাত্রলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আল-নাহিয়ান খান জয় ও ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্য স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বহিষ্কৃতরা হলো-বুয়েট ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান রাসেল, সহ-সভাপতি মুহতাসিম ফুয়াদ, সাংগঠনিক সম্পাদক মেহেদী হাসান রবিন, তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক অনিক সরকার, ক্রীড়া সম্পাদক মেফতাহুল ইসলাম জিয়ন, সাহিত্য সম্পাদক মনিরুজ্জামান মনির, উপ-সমাজসেবা সম্পাদক ইফতি মোশাররফ সকাল, উপ-দফতর সম্পাদক মুজতবা রাফিদ, মুনতাসির আল জেমি (সদস্য), এহতেসামুল রাব্বি তানিম (সদস্য)ও মুজাহিদুর রহমান (সদস্য)।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ‘বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে সাম্প্রতিক অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ কর্তৃক গঠিত তদন্ত কমিটির নিকট প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে উক্ত ঘটনায় সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে তাদের স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হলো।’
এর আগে, সোমবার (৭ অক্টোবর) দিনের বেলায় বাংলাদেশ ছাত্রলীগের পক্ষ থেকে বুয়েটের ঘটনার তদন্তে দুই সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছিল। সেই তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের ভিত্তিতে রাতেই এই বহিষ্কারাদেশ দেওয়া হয়।
উল্লেখ্য, ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দেওয়ার জের ধরে আবরার ফাহাদকে রোববার (৬ অক্টোবর) রাতে ডেকে নিয়ে যায় বুয়েট শাখা ছাত্রলীগের কয়েকজন নেতাকর্মী। এরপর রাত ৩টার দিকে শেরেবাংলা হলের নিচতলা ও দোতলার সিঁড়ির করিডোর থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
সোমবার দুপুর দেড়টার দিকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতাল মর্গে আবরারের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়। ফরেনসিক বিভাগের প্রধান ডা. সোহেল মাহমুদ লাশের ময়নাতদন্ত করেন। তিনি বলেন, ‘ছেলেটিকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে।’
এ ঘটনায় আবরারের বাবা বরকত উল্লাহ বাদী হয়ে ১৯ জনকে আসামি করে রাজধানীর চকবাজার থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। সন্ধ্যা পর্যন্ত ৯ জন ছাত্রলীগ নেতাকে আটক করেছে পুলিশ।
নিহত আবরার বুয়েটের ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। তিনি শেরেবাংলা হলের ১০১১ নম্বর কক্ষে থাকতেন।-বাংলা ট্রিবিউন