বুয়েটে ছাত্র হত্যা বিচার চাই, রাজনীতি নয়

আপডেট: অক্টোবর ১০, ২০১৯, ১২:৪৯ পূর্বাহ্ণ

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শেরেবাংলা হলে মারধর করে ১৫ ব্যাচের শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদকে হত্যার ঘটনায় এখন দেশ জুড়ে তোলপাড় চলছে। কোনো মতপথ নয়Ñ একজন মেধাবী ছাত্রের মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ড দেশের মানুষকে স্পর্শ করেছে। সকলেই বেদনার্দ্র, এমন ঘটনা কারোরই প্রত্যাশিত নয়। সর্বক্ষেত্রে আলোচনার বিষয়ও আবরার হত্যাকাণ্ড। সংবাদ মাধ্যমগুলোও ঘটনার আপডেট জানাতে বিলম্ব করছে না।
প্রধানমন্ত্রীর দৃঢ়তায় পরিচালিত শুদ্ধি অভিযানে যখন সরকারের ভূমিকা যখন জনমনে প্রশংসিত হচ্ছিলÑ ঠিক ওই মুহূর্তে ছাত্রলীগের কর্মিদ্বারা আবরার হত্যাকাণ্ডের অভিযোগ সরকারকে বিব্রতকর অবস্থার মধ্যে ফেলে দিয়েছে। সরকার এমন এক সময়ের মোড় অতিক্রম করছে যে, দেশের ঐতিহ্যবাহী রাজনৈতিক সংগঠন আওয়ামী লীগ এবং সরকার যাদের সামনে এই মুহূর্তে সঠিক রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করাই বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিয়েছে। সরকারের যত অর্জন কোনোভাবেই দলের মধ্যেকার বিশৃঙ্খলাকারীদের জন্য ম্লান হতে দেয়া যায় না।
আবরার হত্যাকাণ্ডের পরপরই সরকারের সিদ্ধান্ত এখন পর্যন্ত যথার্থই আছে। কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ কাল বিলম্ব না করেই হত্যাকাণ্ডে অভিযুক্তদের সংগঠঠ থেকে বহিস্কার করাছে। সরকার দ্রƒত অভিযুক্তদের গ্রেফতার এবং হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের আইনের আওতায় এনে শাস্তির ব্যবস্থার অঙ্গীকারও ব্যক্ত করা হয়েছে।
ইতোমধ্যেই ছাত্রলীগের ৯ নেতাসহ ১৩ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এদের ১০ জনকে ৫ দিনের পুলিশ হেফাজতে নেয়া হয়েছে। হত্যার ঘটনায় ১৯ জনকে আসামি করে চকবাজার থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। আবরারের বাবা বরকত উল্লাহ বাদী হয়ে হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। ছাত্রী লীগের তদন্ত কমিটি তাদের প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। বুয়েটছাত্র আবরারকে পিটিয়ে মারার অভিযোগ যাদের বিরুদ্ধে উঠেছে, ছাত্রলীগের সেই নেতাকর্মীরা তখন ‘মাতাল’ ছিলেন বলে সংগঠনটির কেন্দ্রীয় কমিটির তদন্তে উঠে এসেছে। বুয়েটের শেরে বাংলা হলের ২০১১ নম্বর কক্ষে আবরারের উপর নির্যাতন কয়েক ঘণ্টা ধরে চললেও তখন হল প্রশাসন ‘নির্লিপ্ত’ ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে সরকার সমর্থক ছাত্র সংগঠনটি। ছাত্রলীগ এই প্রশ্ন যখার্থই তুলেছে। প্রভোস্ট ও হল টিউটাররা যে, দায়িত্ব পালন করেন এটি একটি দৃষ্টান্ত। আবরার হত্যার বিচার অবশ্যই হতে হবেÑ তার সাথে বিশ্ববিদ্যালয় সমূহের প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনাও ঢেলে সাজানোর সময় এসেছে।
খুবই দুঃখজনক ঘটনা যে, বুয়েট উপাচার্য শিক্ষার্থীদের অব্যাহত দাবির মুখে হত্যাকাণ্ডের ৩০ ঘণ্টা পর ঘটনার মুখোমুখি হলেন। তিনি অসুস্থ এবং অসুস্থ নয়Ñ দুই দাবিই ছিল। অসুস্থ যদি ধরে নেয়াও হয়- তা হলে একজন ছাত্রের হত্যাকাণ্ডে আসতে পারবেন না, এটা হতে পারে না। শারীরিক ঝুঁকি নিয়েই সে দায়িত্ব পালন করতে পারতেন। দায়িত্বশীলদের কাছে জীবন যে কত তুচ্ছ এসব আচরণের মধ্য দিয়ে প্রকাশ পায়।
আবরার হত্যাকাণ্ডে বিচার দেশের সব মানুষই চায়- কিন্তু এই হত্যাকাণ্ড নিয়ে কদাকার রাজনৈতিক ফায়দা লোটার চেষ্টা হলে সেটা খুবই বেদনাদায়ক হবে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে এতো বেশি কৌতুহল দেখানো হচ্ছে যা এই হত্যাকাণ্ডের বিচার প্রক্রিয়াকেও ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। সরকারের পক্ষ থেকে যে ধরনের তৎপরতার প্রয়োজন ছিল তার খামতি আছে বলে মনে হয় না। আবরার হত্যাকাণ্ড সামনে রেখে কেউ বা কোনো গোষ্ঠি ফায়দা লুটতে চাইবে এটা মোটেও কাম্য নয়। এ ব্যাপারে সকলের সতর্ক থাকাই বাঞ্ছনীয়।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ