বুয়েট ছাত্র হত্যায় জড়িত দুই জন রাজশাহীর; অভিযুক্তদের চেনে না স্থানীয় ছাত্রলীগ

আপডেট: অক্টোবর ৯, ২০১৯, ৯:৪২ অপরাহ্ণ

রাবি প্রতিবেদক


বাংলাদেশ প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শেরে বাংলা হলে দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র আবরার ফাহাদের হত্যা মামলায় জড়িতদের মধ্যে দুইজনের বাড়ি রাজশাহীতে। এরা হলেন, অনিক সরকার ও মেহেদী হাসান রবিন। গত সোমবার রাতে বুয়েট ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদকসহ আবরার হত্যায় জড়িত ১৯ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেছেন তারা বাবা। হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় এখন পর্যন্ত ১৩ জনকে আটক করা হয়েছে বলে জানান অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার কৃষ্ণপদ রায়।
এদের মধ্যে অনিক সরকার রাজশাহী অঞ্চলের মোহনপুর উপজেলার বড়ইকুড়ি গ্রামের আনোয়ার হোসেনের ছেলে। আর মেহেদী হাসান রবিন পবা উপজেলার কাপাসিয়া এলাকার মাকসুদ আলীর ছেলে।
আটকৃত অনিক সরকার বুয়েট ছাত্রলীগের তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক। তিনি ইতোমধ্যেই গ্রেপ্তার হয়েছেন। তবে মেহেদী হাসান রবিন ছাত্রলীগের কোনো পদে আছে কিনা তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
এদিকে বুয়েট ছাত্রলীগের তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক অনিক সরকার সম্পর্কে জানতে চাইলে রাজশাহীর মোহনপুর উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মোরশেদ বলেন, ‘অনিক অনেক জুনিয়র ছেলে। তাকে আমি তেমন চিনি না, কখনও কথাও হয়নি। তবে তার ফেস আমার পরিচিত।’
আটককৃত মেহেদী হাসান রবিনের সম্পের্কে জানতে চাইলে পবা উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি রাজু বলেন, ‘আমি ওই নামে এলাকার বুয়েটে পড়ুয়া কাউকে চিনি না। তার কথাও কারও কাছে শুনি নাই।’
এ ঘটনায় বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে ১১ জনের জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত এই ১১ জনকে ছাত্রলীগ থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে। গত সোমবার রাতে ছাত্রলীগের সভাপতি (ভারপ্রাপ্ত) আল-নাহিয়ান খান এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, আমরা যে তদন্ত কমিটি গঠন করেছি, সেই তদন্ত কমিটি প্রাথমিকভাবে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে ১১ জনের জড়িত থাকার প্রমাণ পেয়েছে। তাদের সাংগঠনিকভাবে ছাত্রলীগ থেকে তাদের স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে।
অনিক ছাড়াও গ্রেপ্তারকৃত অন্যরা হলেন, বুয়েট শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মেহেদি হাসান রাসেল, সহ-সভাপতি মুস্তাকিম ফুয়াদ, সহ-সম্পাদক আশিকুল ইসলাম বিটু, উপ-দফতর সম্পাদক মুজতবা রাফিদ, উপ-সমাজকল্যাণ সম্পাদক ইফতি মোশাররফ সকাল, উপ-আইন সম্পাদক অমিত সাহা, ক্রীড়া সম্পাদক সেফায়েতুল ইসলাম জিওন এবং গ্রন্থনা ও গবেষণা সম্পাদক ইশতিয়াক মুন্না।
গত রোববার (০৬ অক্টোবর) দিনগত রাতে বুয়েটের শেরে বাংলা হলের দ্বিতীয় তলা থেকে আবরার ফাহাদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তিনি বুয়েটের ইলেক্ট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেক্ট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং (ইইই) বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষে পড়তেন। তাকে কক্ষ থেকে ডেকে নিয়ে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন ফাহাদের সহপাঠীরা। তিনি ছিলেন শেরে বাংলা হলের আবাসিক ছাত্র।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ