বৃক্ষরোপনে ইথিওপিয়ার বিশ্ব রেকর্ড বিশ্বের জন্যই এক মহান দৃষ্টান্ত

আপডেট: আগস্ট ৩, ২০১৯, ১২:৩৮ পূর্বাহ্ণ

আফ্রিকার দেশ ইথিওপিয়া বিশ্ব রেকর্ডের অধিকারী হলো। বিশ্বের পরিবেশ বাঁচাতে অভিনব উদ্যোগ সফল করে পৃথিবীর মানুষের সামনে সম্ভাবনার পথ খুলে দিয়েছে। এটি এমন একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত যা বিশ্বের দেশসমূহকে তাদের দায়িত্বর ব্যাপারে সতর্ক করেও দিল। জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে সারা বিশ্ব যখন উদ্বেগ-উৎকণ্ঠিত- তখনই ইথিওপিয়া এই মুহূর্তের করণীয়Ñ যা কাজের মধ্য দিয়ে প্রমাণ করলো। ইথিওপিয়ার এই কৃতিত্ব এখন দেশে দেশে ব্যাপকভাবে প্রশংসিত হচ্ছে।
সংবাদ মাধ্যমের তথ্য থেকে জানা যায়, ২৯ জুলাই মাত্র ১২ ঘণ্টায় ৩৫ কোটি ৩৬ লাখ ৩৩ হাজার ৬৬০টি চারাগাছ লাগানো হয়েছে। চারাগাছ লাগিয়ে বিশ্বরেকর্ড করেছে ইথিওপিয়া। ইথিওপিয়ার প্রধানমন্ত্রী আবি আহমেদের লক্ষ্য ‘গ্রিন লিগ্যাসি’ শীর্ষক এই প্রকল্পের মাধ্যমে খরা-কবলিত ইথিওপিয়ায় গাছ লাগিয়ে বর্ষা ডেকে আনা। বৃক্ষরোপনের কথা টুইট করে জানানো হয়েছে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর থেকে। এককালে ঘন সবুজ অরণ্যেমোড়া আফ্রিকা মহাদেশের ইথিওপিয়ায় জনবসতি বাড়ার সঙ্গেসঙ্গেই নির্বিচারে অরণ্য নিধন চলেছে। যার ফলে প্রায় সারা দেশ এখন ভয়াবহ খরার সম্মুখীন। সারা দেশের ১০০০টি জায়গায় চারাগাছ লাগানো হয়েছে। দেশবাসীকে এই বৃক্ষরোপন উৎসবে যোগ দিতে আহ্বান জানিয়ে টুইট করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর ডাকে সাড়া দিয়ে মাত্র ছয় ঘণ্টাতেও ১০ কোটির উপর গাছ লাগান দেশবাসীরা। মে মাস থেকে অক্টোবরের মধ্যে চার বিলিয়ন গাছ সারা দেশে লাগানোর লক্ষ্যমাত্রা নিয়েছেন আবি আহমেদ। যার অর্থ প্রতি একজন নাগরিককে ৪০টা গাছ লাগাতে হবে।
ইথিউপিয়ার লোকসংখ্যা ১১ কোটি ২০ লাখ। অর্থাৎ ২৯ জুলাই ১২ ঘণ্টায় দেশটির প্রতি নাগরিক গড়ে তিনটিরও বেশি বৃক্ষরোপন করেছেন। নিঃসন্দেহে এটি একটি বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ উৎসব সংঘটিত হয়েছেÑ যা বিশ্ব জনিন উৎসবের অনুপ্রেরণা যোগাচ্ছে। এই উৎসব মানুষ ও প্রকৃতিকে বাঁচাবে, অন্য প্রাণীদের বাঁচাবেÑ পৃথিবীর জীববৈচিত্র সমৃদ্ধ ও সুরক্ষিত হবে। পৃথিবীকে সুরক্ষিত রাখার ইথিওপিয় এই মডেল সব দেশের জন্য অপরিহার্য। জীববৈচিত্র এমন একটি বিষয় যা স্থান, কালের ওপর নির্ভর করে না। একটি দেশের পরিবেশ বিপর্যয়ের অর্থই হলো বিশ্বের বিপর্যয়। অন্তত এই পৃথিবীকে পরিবেশসম্মত উপায়ে বাসযোগ্য রাখার মত ইস্যুটি বিশ্বজনিন। বিশ্বের সব দেশ মিলেই এর সুরক্ষা দিবে এবং সেই লক্ষে কাজ করবে। ইথিওপিয়ার জনগণ সেই বার্তাটিই বিশ্বাবাসীকে জানান দিল।
বৃক্ষরোপনের মত এমন একটি মহৎ উৎসব বাংলাদেশের জন্য খুবই প্রয়োজন। আশির দশক থেকে বৃক্ষ রোপনের ক্ষেত্রে একটা সামাজিক আন্দোলন চলছে বটে কিন্তু সেটা জোয়ারভাটার মতই উঠানামা করেছে। কিন্তু এতে করে চাহিদা অনুপাতে বনভূমির পরিমাণ কাক্সিক্ষত পর্যায়ে নেয়া সম্ভব হয়নি। এ ক্ষেত্রে জাতীয়ভাবেই বৃক্ষরোপনের জন্য লক্ষ্য নির্দিষ্ট করার সময় এসেছে। প্রথানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সম্প্রতি দেশবাসীর কাছে আহ্বান জানিয়েছেন যে, প্রত্যেকে তিনটি করে গাছ লাগানোর জন্য। বৃক্ষরোপন মৌসুমে প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান অনুযায়ী তিনটি করে গাছ লাগালেও প্রায় অর্ধ কোটি গাছ লাগানোর সুযোগ আছে। প্রধানমন্ত্রীর তিনটি করে গাছ লাগানোর সংখ্যা ধরে প্রতিবছর বৃক্ষরোপন উৎসব হিসেবে উদযাপন করা যায়। এটি ১০ বছর নিয়মিত করা গেলে দেশে কাক্সিক্ষত পরিমাণ বনভূমি গড়ে তোলা সম্ভব হবে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ