বৃষ্টি ও সাইকেল

আপডেট: অক্টোবর ৫, ২০১৯, ১:১১ পূর্বাহ্ণ

তাবীন তাসনিম সুমাইয়া
শ্রেণি : ৮ম


বর্ষা মানেই আকাশে স্নিগ্ধ কালো মেঘের আনাগোনা, গুড় গুড় আওয়াজ, থেকে থেকে বৃষ্টি, কখনো ইলশেগুঁড়ি, কখনো আবার মুষল ধারে। আর মুষলধারে বৃষ্টি মানেই আনন্দ! আর তার ওপর যদি শাসন করার মতো কেউ না থাকে…তাহলে তো আর কথাই নেই।

খুব বেশীদিন আগের কথা নয়। আম্মু নানুবাড়ি গিয়েছেন। আমায় বলেছিলেন যেতে। আমি আগ্রহ দেখায়নি বলে ; আম্মু আর আমায় জোরও করেননি। কিছুটা পড়াশোনার চাপে পড়েই যাওয়া হয়নি।

সকালে স্কুলে যাবার সময় মেঘের একটু আনাগোনা ছিল বটে কিন্তু আমি ভাবলাম যে, থাক… স্কুলে যেয়ে ক্লাসগুলো করেই আসি। আমি আবার সাইকেলে করে স্কুলে যেতাম। এখানে মেয়েদের সাইকেল চালাতে দেখা যায় না। আমার সাইকেল চালানো দেখে মানুষের যে প্রতিক্রিয়া দেখতাম তাতে তো আমার নিজেকে সেলিব্রেটি মনে হতো। তো …তারপর গেলাম স্কুলে। ক্লাস করলাম, ছুটি হলো। ঠিক সেই সময় ঝমঝম করে শুরু হলো বৃষ্টি। ছুটি হয়েছে তবুও অধিকাংশ শিক্ষার্থীই দাঁড়িয়ে ছিল স্কুলে। কেউ ভেবেছে বৃষ্টিতে ভিজলে অসুখ করবে, কেউ বা আবার ভেবেছে বন্ধু বান্ধব সব এক সাথে আছে একটু আড্ডা দিয়েই যাই।

বৃষ্টি তো থামবার নামই নেই। তারপর সেই বৃষ্টিতে ধীরে ধীরে ফিরে যেতে থাকে সবাই। আমিও ভাবলাম বৃষ্টিতে ভিজবার এতো বড় একটা সুযোগ কি হাত ছাড়া করা যায় ? তার ওপর আম্মু নেই। আমিও বেড়িয়ে পড়লাম সাইকেল নিয়ে। পুরো রাস্তা ফাঁকা। ঝমঝম করে আকাশ থেকে বৃষ্টি পড়ছে, কোন বিরাম নেই, আর নিচে পানি…তার মাঝে উল্টা পাল্টা যেই ভাবে ইচ্ছা সাইকেল চালাচ্ছি। চারিদিকে শুধু পানি আর পানি। রাস্তার পাশের দোকান, যাত্রী ছাউনি সহ বৃষ্টি আড়াল করবার মতো যত জায়গা ছিল সব জায়গায় মানুষ ভর্তি। আর সবাই হাঁ…করে আমার পাগলামি দেখছে। আমাদের এলাকায় বেশ গাছপালা রয়েছে। সেখান থেকে ভেসে আসছিল গন্ধরাজ ও হাসনাহেনা ফুলের মিষ্টি গন্ধ। হঠাৎ করে ব্যাঙের ডাক শুনলাম। যদিও এখন ব্যাঙের ডাক খুব কম শোনা যায়। সব মিলে এমন এক অনুভূতি সৃষ্টি হয়েছিল যা ভাষায় প্রকাশ করার মত নয়!

তারপর বাসায় এসে সাইকেল রেখে ঘরে ঢুকলাম। তারপর যেই কাঁধ থেকে ব্যাগ রাখলাম ওমনি মনে পড়ল, যাহ্-আমি তো ব্যাগ ঢাকতেই ভুলে গেছি। ব্যাগ খুলে দেখি বই খাতা ভিজে সব শেষ।

সর্বনাশ!!

এখন কি হবে ?