বেপরোয়া ছাত্রলীগ এখনই লাগাম টানার সময়

আপডেট: মার্চ ১২, ২০১৮, ১২:৩৬ পূর্বাহ্ণ

ছাত্রলীগ যেন লাগামছাড়া। সাম্প্রতিক সময়ে রাজশাহীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ছাত্রলীগ নিজেদের নানাভাবে বিতর্কিত করেছে। নিজেদের মধ্যে আত্মকোলহ থেকে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে লিপ্ত হয়েছে। এর বাইরে অন্যদের প্রতি চাঁদাবাজি ও নিপীড়নের অভিযোগও ঐতিহ্যবাহী সংগঠনটির কতিপয় নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে। এর ফলে সরকারের উন্নয়নমূলক কর্মকা- চাপা পড়ে যাচ্ছে ওইসব বিচ্যূত নেতাকর্মীদের জন্য। জনসাধারণের মনে, সাধারণ শিক্ষার্থীদের মনে সরকার বা আওয়ামী লীগের ভাবমূর্তি ক্ষুণœ হচ্ছে।
এ বছর জাতীয় নির্বাচন হতে পারে বলে ইতোমধ্যেই সরকারের পক্ষ থেকে আভাস দেয়া হয়েছে। আওয়ামী লীগ প্রধান ইতোমধ্যেই নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করেছে। ঠিক এমনই রাজনীতির এক গুরুত্বপূর্ণ বাঁকে ছাত্রলীগধারী কতিপয় কর্মী যা করছে তাতে মোটেও গ্রহণযোগ্য নয়।
আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (রুয়েট) ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের অনুসারীদের মধ্যে বৃহস্পতিবার গভীর রাতে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। হাত বোমার বিস্ফোরণও ঘটানো হয়েছে। সংঘর্ষের এ ঘটনায় আটজন নেতাকর্মী আহত হয়। সামান্য কথাকাটাকাটির জের ধরে এই সংঘর্ষের ঘটনা। আহতদের একজনের অবস্থা আশংকাজনক হওয়ায় তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। এই সংঘর্ষের খবর দৈনিক সোনার দেশসহ দেশের বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যম গুরুত্ব দিয়ে প্রকাশ করেছে।
শুধু রুয়েটেই ছাত্রলীগের দ্বিধাবিভক্তি তা নয়Ñ রাজশাহী বিশ্ববিদ্যলয়সহ নগরীর অন্যান্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানেও আছে। রাজশাহী বিশ্বদ্যিালয়ও মাঝেমধ্যেই ছাত্রলীগ খবরের শিরোনাম হচ্ছে। কখনো নিজেদের মধ্যে সংঘর্ষ হচ্ছে, কখনো সাধারণ শিক্ষার্থীকে ধরে পিটানো হচ্ছে। এসব ঘটনায় কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ দোষী ছাত্রলীগ কর্মীদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ কররেছে। রুয়েটের ঘটনার পরপরই কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ দ্রুত ব্যবস্থা হিসেবে রুয়েট ছাত্রলীগের কমিটির কার্যক্রম স্থগিত করেছে। তাৎক্ষণিক এই প্রতিক্রিয়া ও ব্যবস্থা গ্রহণ প্রশংসনীয়। কিন্তু লক্ষ্য করা যায় এসব ব্যবস্থা পরবর্তী সময়ে শিথিল হয়ে যায়। বহিস্কৃতরা আবার দলে সক্রিয় হয় এবং আবোরো সংগঠন বিরোধী কাজে লিপ্ত হয়। দায়মুক্তির এই সংস্কৃতির ফলে দলের অপরাধীরা ধরেই নেয় সাংগঠনিক ব্যবস্থা সাময়িক। ফলে তাদের দৌরাত্ম কমে না।
কিন্তু এসব অপকর্মের দায় সংগঠনকে নিতে হয়। সাধারণ মানুষ মাতৃসংগঠনকেই ভুল বুঝে থাকে। বিরোধী পক্ষ নেতিবাচক ইস্যু নিয়ে মাঠ গরম করতেও সুবিধা হয়। ছাত্রলীগ কর্মীদের যারা মূল দলের আদর্শ বা এজেন্ডা বাস্তবায়নে দৃঢ় সংকল্পবদ্ধ না হয়ে বরং দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণœ করার কাজে লিপ্ত থাকেÑ তারা সংগঠনের জন্য বোঝাস্বরূপ। দুষ্ট গরুর চেয়ে শুন্য গোয়াল অনেক বেশি নিরাপদ। দলের পরিপন্থী কাজ যে বা যারাই লিপ্ত হোক না কেন তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা- প্রয়োজনে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণে দৃঢ় হওয়াই বাঞ্ছনীয়। এতে করে দলের ভাবমূর্তি সাধারণের মধ্যে উজ্জ্বল হবে, গ্রহণযোগ্যতা বাড়বে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ