বৈদেশিক কর্মসংস্থানের জন্য দক্ষতা ও সচেতনতায় নাটোরে সেমিনার

আপডেট: জুন ১৩, ২০১৯, ১২:১৮ পূর্বাহ্ণ

নাটোর প্রতিনিধি


সেমিনারে বক্তব্য দেন অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার জাকীর হোসেন-সোনার দেশ

বৈদেশিক কর্মসংস্থানের জন্য দক্ষতা ও সচেতনতায় নাটোরে দিনব্যাপি এক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল বুধবার নাটোর জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে এই সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়।
জেলা প্রশাসক মোহাম্মাদ শাহরিয়াজের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার জাকীর হোসেন। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানের উপ সচিব আবেদ আলী।
সেমিনারে উপসচিব আবেদ আলী জানান, সরকার আগামী ৫ বছরে ১ কোটি ২৮ লাখ শ্রমিককে বিদেশে পাঠাবে। এজন্য প্রতি উপজেলা থেকে নেয়া হবে ১০০০ জন। তাই দক্ষ ও প্রশিক্ষিত শ্রমিক পাঠাতে প্রশিক্ষনের ব্যবস্থা করতে সরকারি কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি ও বিভিন্ন প্রশিক্ষণের প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাদের প্রতি আহবান জানান।
সেমিনারে জেলা পর্যায়ের বিভিন্ন সরকারি কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি ও বিভিন্ন প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের ৫২ জন অংশগ্রহণ করেন।
এসময় বক্তারা উল্লেখ করে বলেন, দক্ষ জনশক্তি রফতানি হলে প্রবাসী আয় অনেক বাড়বে এজন্য প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় বিদেশে কর্মসংস্থান বাড়াতে প্রশিক্ষণের ওপর জোর দিয়েছে।
ইতোমধ্যে জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো (বিএমইটি) ও আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম) যৌথভাবে ‘অ্যাক্টিভিটি প্লান ফর স্কিলস ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড মাইগ্রেশন ম্যানেজমেন্ট’ নামে একটি প্রকল্প হাতে নিয়েছে।
কর্মীদের দক্ষতা উন্নয়নে এই দুই প্রতিষ্ঠান ২০২১ সাল পর্যন্ত একসঙ্গে কাজ করবে। দক্ষ জনশক্তি রফতানি হলে প্রবাসী আয় বর্তমানের তুলনায় অনেক বাড়বে। অভিবাসনের ক্ষেত্রে দক্ষতার কোন বিকল্প নেই। তাই কর্মীদের গুণগতমানের ওপর সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়েছে মন্ত্রণালয়। প্রকল্পে অভিবাসন ব্যবস্থাপনার ওপর কার্যকর পরিকল্পনাও প্রণয়ন করবে।
দেশের প্রায় এক কোটি কর্মী বিদেশে চাকরি করলেও রেমিটেন্সের পরিমাণ বাড়ছে না। অদক্ষ জনশক্তি রফতানির কারণে রেমিটেন্স প্রবাহ দিন দিন নেমে যাচ্ছে।
রেমিটেন্স প্রবাহ কমে যাওয়ার বিষয়ে বলা হয়, কর্মীরা সহজে বিভিন্ন পথে টাকা পাঠাচ্ছেন তাতে রেমিটেন্স প্রবাহ কমবেই। ব্যাংকের মাধ্যমে টাকা পাঠালে সহজে পরিবারের হাতে যায় না। টাকাও কম পাওয়া যায়। এ জন্য তারা বিকাশ বা হুন্ডির মাধ্যমে দেশে টাকা পাঠান। বিষয়টি নিয়ে অর্থ মন্ত্রণালয় ও বাংলাদেশ ব্যাংক কাজ করছে। কিন্তু দিন দিন হুন্ডি ও বিকাশে টাকা পাঠানোর প্রবণতা বাড়ছে। আমরা বিষয়টি নিয়ে তেমন কিছু করতে পারছি না। এছারাও দালাল চক্রের মাধ্যমে বিদেশে বিপুলসংখ্যক অদক্ষ কর্মী যাওয়ার ফলে শুধু সংখ্যা বাড়ছে। কিন্তু টাকা বাড়ছে না। এই অদক্ষ কর্মীর বেশিরভাগই গ্রামের দরিদ্র জনগোষ্ঠী। তাদের নানাভাবে প্রলোভনে ফেলে মধ্যস্বত্বভোগীরা হাতিয়ে নিচ্ছে বড় অঙ্কের টাকা। তারা বিদেশে হাড়ভাঙ্গা খাটুনি খেটেও যে টাকায় বিদেশ গেছেন সেই টাকাই তুলতে পারেন না। এর মধ্যে ওই কর্মীর কাজ করার সময়সীমা শেষ হয়ে গেছে। পরে বাড়তি কিছু টাকা আয়ের আশায় তারা অবৈধ হয়ে লুকিয়ে কাজ করে। পুলিশী ভয় সারাক্ষণ মাথায় নিয়ে তাদের কাজ করতে হয়। কেউ আবার পুলিশের হাতে আটক হয়ে বছরের পর বছর জেলখানায় মানবেতর জীবন যাপন করছেন।
আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে বাংলাদেশের কর্মীদের মান অনেক নিচে। এ অবস্থার পরিবর্তন ঘটাতে না পারলে লাখ লাখ কর্মী বিদেশ গেলেও রেমিটেন্স প্রবাহ বাড়বে না। গুণগতমান ঠিক করতে না পারলে বিদেশের শ্রমবাজারগুলো হারাতে হতে পারে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ