বৈশাখের কেনাকাটা নগরীর ব্র্যান্ড শপে ক্রেতাদের ভিড়

আপডেট: এপ্রিল ১০, ২০১৯, ১২:৩৪ পূর্বাহ্ণ

তাসনিয়া তারান্নুম


‘এসো হে বৈশাখ এসো এসো।’ পহেলা বৈশাখ নববর্ষের আগমনে পুরোদমে প্রস্তুতি চলছে নগরীর বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষের। ক্রেতা বিক্রেতাদের কোলাহলে মূখর নগীরর বিপণি-বিতানগুলো। বাঙালির সবচেয়ে বড় উৎসব- বাংলা নববর্ষ বরণ করে নিতে নতুন পোশাক কিনতে ব্যস্ত সব বয়েসি মানুষ। বিভিন্ন ব্র্যান্ড শপগুলো ক্রেতাদের মন যোগাতে রাখছে বিভিন্ন রঙের এবং বিভিন্ন ডিজাইনের পোশাক। তবে শুধু লাল-সাদা রঙকেই প্রধান্য দেওয়া হয়নি এবার ফ্যাশন হাউজগুলোতে। বিক্রেতারা জানাচ্ছেন, বিভিন্ন রঙের ছোয়ায় পোশাকগুলোর ডিজাইন করা হয়েছে।
অলকা মোড়ের ‘বিশ্বরঙ’ এর শ্যামলী জানান, এবার বৈশাখে তাদের থিম আলপনা। শাড়ি, কামিজ, শিশুদের পোশাক এবং পাঞ্জাবীতে আলপনা ডিজাইনকে এবার প্রাধান্য দেয়া হয়েছে। এছাড়াও বিভিন্ন রঙের এবং নকশার শাড়ি, পাঞ্জাবী, ধুতি, ইস্টিচ কামিজ, আনস্টিচ কামিজ, শিশুদের পাঞ্জাবী, শার্ট, টি-শার্ট এবং গহনা রেখেছে। বিশ্বরঙে শিশুদের পোশাক ৯০০ টাকা থেকে ২০০০ টাকা পর্যন্ত, থ্রিপিস ১৭০০টাকা থেকে ৩০০০ টাকা পর্যন্ত, শাড়ি ১৬০০টাকা থেকে ১০,০০০টাকা পর্যন্ত। গহনার কালেশনে এবার সুতোর গহনা, ঝিনুক এবং মেটালের কালেশন রেখেছেন তারা- দাম ৪০০ টাকা থেকে ৩০০০ টাকা পর্যন্ত। শ্যামলী জানান, এবার বৈশাখে মোটামুটি ভালোই বিক্রয় হচ্ছে, তবে গতবারের তুলনায় কম।
রানিবাজারের ‘ইজি’ এর এক বিক্রেতা জানান, নববর্ষ উপলক্ষে ছেলেদের কালেকশনের মধ্যে রেখেছেন হালকা প্রিন্টের পাঞ্জাবী, প্রিন্টেড শার্ট এবং টি শার্ট। এছাড়াও বিভিন্ন ভ্যারিয়েশন এবং ডিজাইনের পোশাক ইজিতে রেখেছেন। ইজিতে টি-শার্ট ২৯০ টাকা থেকে ১২৯০ টাকা পর্যন্ত, শার্ট ১০৯০ টাকা থেকে ১৬৫৫ টাকা পর্যন্ত, ফরমাল শার্ট ১৪৯০ টাকা থেকে ১৯৯০ টাকা পর্যন্ত ও পাঞ্জাবী ১৮৫০ টাকা থেকে ২৪৮০ টাকা পর্যন্ত।
সাহেববাজার জিরো পয়েন্টের ‘ফড়িং’ এর সাদমান জানান, এবারের বৈশাখে বিক্রি মোটামুটি ভালোই হচ্ছে। সাদা, লাল, মেরুন ও অফ-হোয়াউট রঙের পাঞ্জাবী রেখেছেন। পাঞ্জাবীর দাম ৮০০ থেকে ২২০০ টাকা পর্যন্ত। এছাড়াও শিশুদের পাঞ্জাবী ৭০০ থেকে ১২৫০ টাকা , ফ্রগ ৬৫ থেকে ১৫০০ টাকা, থ্রি-পিস ২০০০ থেকে ৪৫০০ টাকা পর্যন্ত রয়েছে। শাড়ির মধ্যে টিস্যু কাতান, পিন্টের হাফসিল্ক, সুতির মধ্যে ব্লক ও আলপনা ডিজাইনের সুতি শাড়ি রয়েছে যেগুলোর দাম ৮০০ টাকা থেকে ৬০০০টাকা পর্যন্ত।
ওমর প্লাজার ‘তিলোত্তমা’ এর বিক্রেতা জানান, নববর্ষে এবার তাদের কালেশনে রেখেছেন চুমকি কোটা, তাঁত, হাফসিল্প এবং ব্লকের সুতি শাড়ি। দাম ১৫৫০ টাকা থেকে ৫০০০টাকা পর্যন্ত। থ্রি-পিস এর মধ্যে তাঁত, স্ক্রিন পিন্ট, হ্যান্ডপেইন্ট, আফসান প্রিন্ট ও সুতোর কাজ সেগুলোর দাম ১২৫০ থেকে ৩০০০টাকা পর্যন্ত। লাল-সাদার পাশাপাশি সবগুলো কালারকে এবার তারা গুরুত্ব দিয়েছেন।
ওমর প্লাজার ‘আনজুম ফ্যাশন’ এর বিক্রেতা নজরুল জানান, পাঞ্জাবী, বুটিক, বাটিক এবং হাতের কাজের শাড়ি রেখেছেন। পাঞ্জাবী ৭০০ টাকা থেকে ৩০০০ টাকা পর্যন্ত, কামিজ ১২০০ টাকা থেকে ২০০০ টাকা পর্যন্ত, শাড়ি ১৫০০ টাকা থেকে ৪০০০ টাকা পর্যন্ত। তিনি আরো জানান, বৈশাখে এখন পর্যন্ত ক্রেতাদের তেমন সাড়া পাননি।
‘অধরা’ জানান, তাদের মাল্টিকালেকশন। বুটিক, হাতের কাজ, বাচ্চাদের ফ্রগ, শাড়ি, গহনা তাদের কালেকশনে রয়েছে। থ্রি-পিস ৭৫০ টাকা থেকে ২৭০০ টাকা পর্যন্ত, শিশুদের পোশাক ১৫০০ টাকা থেকে ৩০০০ টাকা পর্যন্ত, শাড়ি ২৫০০ টাকা থেকে ৪৫০০ টাকা পর্যন্ত।
ওমর প্লাজার ‘রংধনু’ এর বিক্রেতা নুপুুর জানায়, মাটির গহনা, কামিজ, ব্যাগ এবং প্রসাধনী রয়েছে। গহনা ১০০ টাকা থেকে ৪০০ টাকা পর্যন্ত, ব্যাগ ১৫০ টাকা থেকে ১০০০ টাকা পর্যন্ত, কামিজ ৮৫০ টাকা থেকে ২২০০ টাকা পর্যন্ত রয়েছে। এই বৈশাখে ক্রেতা ভালোই আসছে বলে জানান তিনি।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ