বৈশ্বিক টেলিকম বাজার : ২০২৫ নাগাদ ফাইভজি থেকে রাজস্ব আসবে ৩০০ বিলিয়ন ডলার

আপডেট: নভেম্বর ৮, ২০১৮, ১২:১৩ পূর্বাহ্ণ

সোনার দেশ ডেস্ক


আগামী বছর নাগাদ পঞ্চম প্রজন্মের নেটওয়ার্ক সেবা ফাইভজি বৈশ্বিক সেলফোন অপারেটরদের জন্য ৮৯ কোটি ৪০ লাখ ডলার রাজস্ব আয়ের সুযোগ সৃষ্টি করবে। ২০২৫ সাল নাগাদ তা বেড়ে বার্ষিক ৩০০ বিলিয়ন বা ৩০ হাজার কোটি ডলারে পৌঁছাবে। বাজার গবেষণা প্রতিষ্ঠান জুনিপার রিসার্চ প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এমন পূর্বাভাস দেয়া হয়েছে। খবর টেলিকম লিড।
জুনিপার রিসার্চের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫ সাল নাগাদ সেলফোন অপারেটরদের মোট রাজস্বের ৩৮ শতাংশই আসবে ফাইভজি থেকে। একই সময় ফাইভজি সংযোগ ১৫০ কোটিতে পৌঁছাবে, যা মোট সেলুলার সংযোগের ১৪ শতাংশ। থ্রিজি বা ফোরজির চেয়ে ফাইভজিতে ইন্টারনেটের গতি কয়েক গুণ বেশি হবে। এর ফলে অনেক দ্র“ত ডাটা ¯’ানান্তরের সুযোগ সৃষ্টি হবে। দ্র“তগতির এ নেটওয়ার্ক প্রযুক্তি বৈশ্বিক টেলিযোগাযোগ খাতে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনবে বলে আশা করা হ”েছ।
সেলফোন অপারেটর কোম্পানিগুলোর আন্তর্জাতিক সং¯’া জিএসএমএ। সং¯’াটি এর আগে এক পূর্বাভাসে জানায়, ২০২৫ সাল নাগাদ এশিয়ায় ফাইভজি সংযোগ ৬৭ কোটি ৫০ লাখে পৌঁছাবে, যা একই সময়ে বিশ্বের মোট ফাইভজি সংযোগের অর্ধেকের বেশি। সং¯’াটির মতে, ফাইভজি নেটওয়ার্ক ব্যবহারের ক্ষেত্রে অন্য অঞ্চলের চেয়ে এগিয়ে থাকবে এশিয়া।
ফাইভজির ফলে ভোক্তা ও এন্টারপ্রাইজ পর্যায়ে সেলফোন অপারেটরদের কী পরিমাণ রাজস্ব আসতে পারে, জুনিপার রিসার্চের প্রতিবেদনটিতে পৃথকভাবে তার পূর্বাভাস দেয়া হয়নি। তবে জিএসএমএর প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, ফাইভজি সেবায় রাজস্ব বাড়াতে চাইলে সেলফোন অপারেটরদের এন্টারপ্রাইজ ব্যবসায় জোর দিতে হবে।
ফাইভজি নেটওয়ার্কের অন্যতম অনুষঙ্গ ফাইভজি স্মার্টফোন। শিগগিরই এ ধরনের স্মার্টফোন উন্মোচনের প্রত্যাশা করা হ”েছ। বিভিন্ন স্মার্টফোন ব্র্যান্ড ফাইভজি নেটওয়ার্ক সমর্থিত ডিভাইস উন্নয়নের কথা প্রকাশ করেছে। জিএসএমএর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ফাইভজি নেটওয়ার্ক চালুর শুর“র দিকে ফাইভজি স্মার্টফোনের দাম কিছুটা বেশি হবে। তবে পরবর্তীতে দ্র“তগতির নেটওয়ার্ক সমর্থিত এ ডিভাইসের দাম কমবে।
স্মার্টফোনের বৃহৎ বাজার চীন। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোয় দেশটির এ বাজারে ডিভাইস বিক্রি কমেছে। বাজার গবেষণা প্রতিষ্ঠান ইন্টারন্যাশনাল ডাটা করপোরেশনের (আইডিসি) প্রোগাম ভাইস প্রেসিডেন্ট রায়ান রেইথ বলেন, ফাইভজি ফোনের কারণে আগামী বছর থেকে চীনা বাজারে ডিভাইস বিক্রি বাড়বে।
আগামী বছরগুলোয় ফাইভজির বাণিজ্যিক সফলতা নিয়ে সেলফোন অপারেটরদের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হবে। কারণ ফাইভজি বিনিয়োগ থেকে সুবিধা পেতে হলে তাদেরকে মূল্য কৌশল ও নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণে জোর দিতে হবে। মূল্য কৌশল অপারেটরদের ডাটা ব্যবহারে বড় প্রভাব ফেলবে। ডিভাইসের ধরন ও নেটওয়ার্ক স্পিড অপারেটরদের মুনাফায় প্রভাব ফেলবে। বিশ্লেষকদের মতে, সেলফোন অপারেটরদের এমন প্রযুক্তি ব্যবহার করতে হবে, যা ফাইভজি ডাটায় খরচ কমাবে।
জুনিপার রিসার্চের প্রতিবেদনটির লেখক স্যাম বার্কার বলেন, ফাইভজি নেটওয়ার্ক চালুর শুর“র দিকে হোম ব্রডব্যান্ড সেবায় এর চাহিদা বেশি থাকবে। সেলুলার ট্রাফিক বৃদ্ধিতে তা গুর“ত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
সেলফোন অপারেটরসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ফাইভজি গবেষণায় প্রচুর বিনিয়োগ করছে। জুনিপার রিসার্চের তথ্যমতে, চলতি বছরের শেষ নাগাদ ফাইভজি গবেষণা ও উন্নয়নে সেলফোন অপারেটর ও হার্ডওয়্যার বিক্রেতাদের মোট ব্যয় ৬ হাজার কোটি ডলার ছাড়িয়ে যাবে। এর মধ্যে বাণিজ্যিকভাবে ফাইভজি নেটওয়ার্ক চালুর পেছনেই সেলফোন অপারেটরদের ৩ হাজার কোটি ডলার ব্যয় হবে।