বোলিংয়ের সাফল্যে তৃপ্ত মাহমুদউল্লাহ

আপডেট: অক্টোবর ১৪, ২০১৯, ১২:৫১ পূর্বাহ্ণ

সোনার দেশ ডেস্ক


১০ অক্টোবর থেকে ১৩ অক্টোবর। ২০১৫ সালের যে সময়ে ছিল খেলা, এবার সেই একই দিনগুলিতে ম্যাচ। চার বছরের এই বিরতির পর জাতীয় লিগে খেলতে নেমেই ম্যান অব দা ম্যাচ মাহমুদউল্লাহ। ব্যাট হাতে ফিফটি করেছেন বটে, তবে ম্যাচ সেরা হওয়ায় বড় ভূমিকা বোলিং পারফরম্যান্সের। এটাই বাড়তি তৃপ্তি দিচ্ছে এই অলরাউন্ডারকে।
জাতীয় লিগের প্রথম রাউন্ডের ম্যাচে মিরপুর শের-ই-বাংলা স্টেডিয়ামে ঢাকা মেট্রোর হয়ে চট্টগ্রামের বিপক্ষে একমাত্র ইনিংসে ৬৩ রান করেছেন মাহমুদউল্লাহ। বল হাতে দুই ইনিংস মিলিয়ে নিয়েছেন ৬ উইকেট।
বাংলাদেশ ক্রিকেটের অনুসারী হলে তার তৃপ্তির মূল কারণ বুঝে ফেলার কথা। কিছুদিন আগেও যে বোলার মাহমুদউল্লাহর ভবিষ্যৎ নিয়ে ছিল অনিশ্চয়তা!
কাঁধের চোটের কারণে বিশ্বকাপের আগের আয়ারল্যান্ড সফর থেকে শুরু করে গোটা বিশ্বকাপে বোলিং করতে পারেননি মাহমুদউল্লাহ। তাতে দল তো ভুগেছেই, তার নিজের অলরাউন্ডার পরিচয়ও পড়ে গিয়েছিল সঙ্কটে। অস্ত্রোপচার ছাড়া চোট ভালো হবে না, এরকম কথাই বলেছিলেন চিকিৎসকরা।
তবে অস্ত্রোপচার করলেই যে পুরোপুরি ভালো হবে চোট, সেটিরও নিশ্চয়তা ছিল না। মাহমুদউল্লাহ তাই আবার ভাবেন নতুন করে। অস্ত্রোপচার না করিয়েই অপেক্ষা করেন চোট কাটিয়ে ওঠার। তাতে ফল মেলে। বিশ্বকাপের পর শ্রীলঙ্কা সিরিজে টুকটাক বোলিং শুরু করেন। এরপর আফগানিস্তানের বিপক্ষে টেস্টে বোলিং করেন ৪ ম্যাচ। ত্রিদেশীয় টি-টোয়েন্টি সিরিজে ৪ ম্যাচ মিলিয়ে করেছিলেন ২ ওভার।
সেই ম্যাচগুলো ছিল ফেরার শুরু। জাতীয় লিগের প্রথম ম্যাচেই মঞ্চস্থ হলো বোলার মাহমুদউল্লাহর পূর্ণাঙ্গ ফেরা। প্রথম ইনিংসে বোলিং করেন ২৬ ওভার, দ্বিতীয় ইনিংসে ১৩ ওভার। ৬ উইকেটের সবকটি টপ অর্ডারের। তামিম ইকবাল ও মুমিনুল হককে আউট করেছেন দুই ইনিংসেই! শুধু এত ওভার বোলিং বা উইকেটের কারণেই নয়, তার বোলিংয়ের ধরনেও ছিল পুরো চেহারায় ফেরার ঘোষণা। বেশ ভালো টার্ন পেয়েছেন, বাড়তি বাউন্স আদায় করেছেন। নিয়ন্ত্রণ ছিল বেশ ভালো। ব্যাটসম্যানদের অস্বস্তিতে ফেলেছেন। সব মিলিয়ে স্পেশালিস্ট অফ স্পিনারের মতোই ছিল তার বোলিং। ম্যাচ শেষে তার কণ্ঠে ফুটে উঠল বোলিং পারফরম্যান্স নিয়ে সন্তুষ্টির সুর। “সত্যি বলতে, মাঝে আমার কাঁধের ইনজুরি ছিল, সাত মাসের মতো আমি বোলিং করতে পারিনি। তাই আমি উদগ্রীব ছিলাম কিছু ওভার বল করতে। আলহামদুলিল্লাহ সেটি করতে পেরেছি। আমার বোলিং প্র্যাকটিসটাও ভালো হলো। কারণ, আমিও চাচ্ছিলাম যতো বেশি ওভার বলা করা যায়। এটাই মূল উদ্দেশ্য ছিল।” “বোলিং আমি সবসময় করতে চাই। আমি মনে করি, এটা আমাকে বাড়তি সুবিধা বা বাড়তি আত্মবিশ্বাস দেয় আমার ব্যাটিংয়ে।” বোলিংয়ে ভালো লাগা থাকলেও খানিকটা আক্ষেপ করলেন মাহমুদউল্লাহ ৬৩ রানের ইনিংসটিকে সেঞ্চুরির পূর্ণতা দিতে না পারায়। “যদি তিন অঙ্ক ছুঁতে পারতাম, তাহলে আরেকটু ভালো লাগতো। চেষ্টা করেছিলাম। পিচে দ্বিতীয় দিনে, এমনকি তৃতীয় দিনেও বোলারদের জন্য সুবিধা ছিল। স্পিনার ও পেসার সবার জন্য। ব্যাটসম্যানরা সবাই চেষ্টা করছিল, আমিও চেষ্টা করছিলাম। আমি প্রথম দুই রান মনে হয় ৩০-৩২ বলে করেছিলাম। প্রথমে টিকে থাকতে চেয়েছিলাম, যাতে পরে লাভটা তুলে নিতে পারি। চেষ্টা করেছিলাম।” জাতীয় লিগে মাহমুদউল্লাহদের পরের ম্যাচ বৃহস্পতিবার থেকে সিলেটের বিপক্ষে সিলেটে।