ব্যাংক ও তালিকাবহির্ভূত কোম্পানির করহার কমছে

আপডেট: জুন ৪, ২০১৮, ১:৪১ পূর্বাহ্ণ

সোনার দেশ ডেস্ক


কয়েক বছর ধরেই করপোরেট করহার কমানোর দাবি জানিয়ে আসছেন ব্যবসায়ীরা। একাধিকবার এ করহার কমানোর উদ্যোগও নেয়া হয়। যদিও বড় রাজস্ব লক্ষ্যের কারণে শেষ পর্যন্ত সরে আসে সরকার। তবে আগামী ২০১৮-১৯ অর্থবছরের বাজেটে ব্যাংক ও তালিকাবহির্ভূত কোম্পানির করপোরেট করহার কিছুটা কমছে বলে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) সূত্র নিশ্চিত করেছে।
এনবিআর কর্মকর্তারা বলছেন, ব্যাংকিং খাতে সুদহার কমিয়ে বিনিয়োগে গতি আনতে চায় সরকার। এক্ষেত্রে ব্যাংকগুলোর আয়ে সমন্বয় আনতে ২০১৮-১৯ অর্থবছরের বাজেটে করপোরেট করহারে কিছুটা ছাড় দেয়ার পরিকল্পনা হয়েছে। এর অংশ হিসেবে ব্যাংকিং খাতে বিদ্যমান দুটি স্ল্যাবে (তালিকাভুক্ত ও তালিকাবহির্ভূত) এ করহার দেড়-দুই শতাংশীয় পয়েন্ট কমানো হচ্ছে। সেই সঙ্গে পুঁজিবাজারের বাইরে থাকা কোম্পানির করপোরেট করহারও দেড় শতাংশীয় পয়েন্ট কমছে।
বিনিয়োগ উৎসাহিত করতে এনবিআর করপোরেট করহার কমানোয় আগ্রহী বলে জানান সংস্থাটির চেয়ারম্যান ও অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের জ্যেষ্ঠ সচিব মো. মোশাররফ হোসেন ভুঁইয়া। বণিক বার্তাকে তিনি বলেন, দেশে করপোরেট করহার অনেক বেশি উল্লেখ করে তা কমানোর জন্য ব্যবসায়ীরা দীর্ঘদিন ধরেই দাবি জানিয়ে আসছেন। অর্থমন্ত্রীও এ ব্যাপারে ইতিবাচক। আমরা অন্যান্য দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের করপোরেট করহার পর্যালোচনা করে খুব বেশি পার্থক্য পাইনি। তবে বিনিয়োগ উৎসাহিত করতে করপোরেট করহার কমিয়ে আনতে চাই আমরা। রাজস্ব আহরণের তাগিদের কারণে একবারেই তা কমিয়ে আনা সম্ভব নয়। আমাদের লক্ষ্য ধীরে ধীরে তা কমিয়ে আনা। আগামী অর্থবছরেই কয়েকটি খাতে আমরা সুসংবাদ দিতে পারব বলে আশা করছি।
বিদ্যমান কাঠামো অনুযায়ী আটটি স্ল্যাবে কোম্পানির করপোরেট কর আহরণ করে এনবিআর। প্রথম স্ল্যাবে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানিকে ২৫ শতাংশ হারে এ কর পরিশোধ করতে হয়। আগামী বাজেটে এ হার অপরিবর্তিত থাকতে পারে। দ্বিতীয় স্ল্যাবে তালিকাবহির্ভূত কোম্পানির মুনাফার ওপর ৩৫ শতাংশ কর আহরণ করে এনবিআর। আগামী বাজেটে তা ৩৩ দশমিক ৫ শতাংশ হতে যাচ্ছে। ব্যবসায়ীদের দাবি ও অন্যান্য দেশের করপোরেট করহার পর্যালোচনা করে এ খাতে করহার কমানো হচ্ছে বলে জানিয়েছে এনবিআর।
বিদ্যমান কাঠামোর তৃতীয় ও চতুর্থ স্ল্যাবের অধীনে করপোরেট কর আহরণ করা হয় ৫৭টি ব্যাংক থেকে। মার্চেন্ট ব্যাংক ছাড়া বীমা ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে একই স্ল্যাবের অধীনে কর পরিশোধ করতে হয়। এর মধ্যে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত ব্যাংক, বীমা ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর (মার্চেন্ট ব্যাংক ছাড়া) ক্ষেত্রে করপোরেট কর প্রযোজ্য ৪০ শতাংশ। ২০১৩ সালে অনুমোদন পাওয়া নতুন ব্যাংকগুলোকেও বিশেষ সুবিধায় এ স্ল্যাবে করপোরেট কর পরিশোধের সুযোগ দেয়া হয়েছে। চতুর্থ স্ল্যাবে ৪২ দশমিক ৫০ শতাংশ হারে কর পরিশোধ করতে হয় তালিকাবহির্ভূত ব্যাংক, বীমা ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানকে। ব্যাংকগুলোর করপোরেট করের ক্ষেত্রে এ দুটি স্ল্যাবেই করপোরেট করহার দেড়-দুই শতাংশীয় পয়েন্ট কমানো হতে পারে। অর্থাৎ তালিকাভুক্ত ব্যাংকের করপোরট কর হতে পারে ৩৮ থেকে সাড়ে ৩৮ শতাংশ। তালিকাবহির্ভুত ব্যাংকের ক্ষেত্রে এ হার ৪০ শতাংশে নেমে আসতে পারে। এর আগে ২০১৪-১৫ অর্থবছরে তালিকাভুক্ত ব্যাংকের করহার ৪২ দশমিক ৫০ থেকে ৪০ শতাংশ করা হয়। তবে তালিকাবহির্ভূত ব্যাংকের করহার ছয় বছর ধরে একই আছে।
সুদহার কমিয়ে ব্যাংকগুলো যেন বেসরকারি খাতে বিনিয়োগের পর মুনাফায় থাকতে পারে, সেটি বিবেচনায় নিয়েই করপোরেট করহার কমানোর উদ্যোগ নেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে এনবিআর। সুদহার কমানো ও স্প্রেড সমন্বয়ের পরও ব্যাংকগুলো যেন মুনাফায় থাকতে পারে, তার জন্য করপোরেট করহার কমানো জরুরি বলে মনে করেন ব্যাংকাররাও।
ব্যাংকের প্রধান নির্বাহীদের সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স বাংলাদেশের (এবিবি) চেয়ারম্যান ও ঢাকা ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) সৈয়দ মাহবুবুর রহমান এ প্রসঙ্গে বণিক বার্তাকে বলেন, চলমান সংকট ও অন্যান্য দেশের তুলনায় আমাদের করপোরেট করহার বেশি হওয়ায় তা সমন্বয়ের জন্য দীর্ঘদিন ধরেই আমরা দাবি জানিয়ে আসছি। সুদহার কমিয়ে আনার পর করপোরেট কর না কমলে ব্যাংকের মুনাফার কিছু থাকবে না। আমাদের প্রস্তাব হলো, ব্যাংকের করপোরেট করহার ৩৫ শতাংশে নামিয়ে আনা। ব্যাংক ও তালিকাবহির্ভূত কোম্পানি ছাড়া পরের চারটি স্ল্যাবে করপোরেট করহারে আগামী অর্থবছরে কোনো পরিবর্তনের সম্ভাবনা নেই বলে জানিয়েছে এনবিআর সূত্র। পরের চারটি স্ল্যাবে বর্তমানে মার্চেন্ট ব্যাংক থেকে ৩৭
দশমিক ৫০, সিগারেট, জর্দা, গুলসহ তামাকজাত দ্রব্য প্রস্তুতকারী কোম্পানি থেকে ৪৫, তালিকাভুক্ত সেলফোন অপারেটর থেকে ৪০ ও তালিকাবহির্ভূত অপারেটর থেকে ৪৫ শতাংশ হারে করপোরেট কর আদায় করা হয়। এছাড়া তৈরি পোশাক খাতের প্রতিষ্ঠান থেকে ১০ ও ১২ শতাংশ, সমবায় প্রতিষ্ঠান থেকে ১৫ ও কোম্পানির লভ্যাংশের ওপর ২০ শতাংশ হারে করপোরেট কর আহরণ করছে এনবিআর। তথ্যসূত্র: বণিক বার্তা