ব্যানার-বিলবোর্ডের দখলে গুরুদাসপুরের গুরুত্বপূর্ণ এলাকা

আপডেট: জানুয়ারি ১০, ২০১৭, ১২:০৩ পূর্বাহ্ণ

গুরুদাসপুর প্রতিনিধি


ব্যানার, বিলবোর্ড আর পোস্টারে শ্রীহীন হয়ে পড়েছে নাটোরের গুরুদাসপুর থানার প্রধান ফটক। এছাড়া সীমানা প্রাচীর ঘেঁষেও রয়েছে এরকম অসংখ্য ব্যানার-বিলবোর্ড। ফলে থানার ভেতর থেকে বাইরে নজরদারি করতে আসতে হয় থানার বাইরে। আবার বাইরে থেকেও সেবা গ্রহিতা কিংবা দুর থেকে আসা মানুষ এরকম দৃশ্য দেখে বিরুপ ধারনা করছেন। কিন্তু এগুলো অপসারনে নেই কোন উদ্যোগ।
গতকাল রোববার দুপুরে গিয়ে দেখা গেছে, থানার মূল ফটকসহ সীমানা প্রাচীরঘেঁষে কোচিং সেন্টার, বারিন্দ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি, রাজনৈতিক নেতা-কর্মিদের শুভেচ্ছা, জেলা পরিষদ নির্বাচনের প্রচারণার পোস্টার ঝুলানো-টাঙানো রয়েছে। এরকম চিত্র শুধু থানার প্রধান ফটকে নয়, উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন পয়েন্টে এবং গাছে গাছে সাটানো হয়েছে রকমারি ব্যানার পোস্টার।
গুরুদাসপুরের সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ও স্থানীয় রোজী মোজাম্মেল মহিলা কলেজের সহযোগি অধ্যাপক রুহুল করিম আব্বাসী বলেন, প্রথম শ্রেণির পৌরসভা হলেও বিধি নিষেধ উপেক্ষা করে আইনের তোয়াক্কা না করে যত্রতত্র বিলবোর্ড ব্যানার টাঙানোর ফলে শহর শ্রীহীন হয়ে পড়ছে। অনেক সময় এসব বিলবোর্ডের কারণে পরিবহন দুর্ঘটনা ঘটছে। কিন্তু সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কোন পদক্ষেপ নেই।
গুরুদাসপুর পৌরসভার মেয়র শাহনেওয়াজ আলী দেশের বাইরে থাকায় তার বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি। তবে পৌরসচিব হাফসা শারমিন বলেন, শহরের বিভিন্ন পয়েন্টে শতশত বিলবোর্ড ব্যানার থাকলেও কেউই অনুমোদন নেওয়ার প্রয়োজন মনে করেনা। পৌরসভা থেকেও উচ্ছেদের পদক্ষেপ নেয়া হয়নি। মেয়র মহোদয় দেশে ফিরলে বিষয়টির ব্যাপারে বোর্ড মিটিং করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
গুরুদাসপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) দীলিপ কুমার দাস বলেন, নানা ব্যস্ততার কারণে বিলবোর্ডের দিকে নজর দেয়া সম্ভব হয় নি। দ্রুত এসব বিলবোর্ডগুলো অপসারণ করা হবে।
গুরুদাসপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোছা. ইয়াসমিন আক্তার মুঠোফোনে বলেন, বিষয়টি নিয়ে উপজেলা আইন শৃঙ্খলাসভায় আলোচনা হয়েছে। পৌরসভাসহ উপজেলা এলাকায় টাঙানো বিলবোর্ড-ব্যানার অপসারণ করার জন্য সংশ্লিষ্টদের চিঠি দেয়া হয়েছে। দ্রুত অপসারণ না হলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে উচ্ছেদ অভিযান চালানো হবে।