বড়পুকুরিয়া কয়লা খনিতে অসন্তোষ শ্রমিকদের স্বার্থ সুরক্ষা করতেই হবে

আপডেট: জুন ৫, ২০১৮, ১:৪৩ পূর্বাহ্ণ

দিনাজপুরের পার্বতীপুরে বড়পুকুরিয়া খনি থেকে কয়লা উত্তোলন বা উৎপাদন শুরু হয়েছে। টানা ২১ দিন শ্রমিক ধর্মঘটের কারণে উৎপাদন প্রক্রিয়া বন্ধ ছিল। রোববার সকাল থেকে শ্রমিকরা কাজে ফিরেছেন। এ সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন দৈনিক সোনার দেশ পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে।
প্রতিবেদনের তথ্য মতে বড়পুকুরিয়া কয়লা খনি শ্রমিকদের ১৩ দফা ও ক্ষতিগ্রস্ত ২০ গ্রাম সমন্বয় কমিটির ৬ দফা দাবি আদায়ের লক্ষ্যে ক্ষতিগ্রস্ত গ্রামবাসীকে সঙ্গে নিয়ে শ্রমিকরা ১৩ মে সকাল থেকে খনি গেটে অবস্থান নিয়ে কর্মবিরতি পালন করে আসছিল। উদ্ভুত পরিস্থিতি নিরসনে শনিবার রাতে খনি কর্তৃপক্ষ, পুলিশ প্রশাসন ও শ্রমিক নেতৃবৃন্দের মধ্যে ত্রিপক্ষীয় এক বৈঠকে উভয় পক্ষের মধ্যে সমঝোতা হয়।
বিসিএমসিএল এবং সিএমসি-এক্সএমসি কনসোর্টিয়ামের সাথে স্বাক্ষরিত একটি আন্তর্জাতিক চুক্তির আওতায় বড়পুকুরিয়া খনির কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। শ্রমিকরা চিনা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের অধীনে বেতনভুক্ত। বৈঠকে শ্রমিক নেতৃবৃন্দকে জানানো হয়, স্থানীয় সাংসদ প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী মোস্তাফিজুর রহমান ও পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান খনি শ্রমিকদের প্রাপ্ত সুবিধাদির যে প্যাকেজে রয়েছে তা খনির ঠিকাদার সিএমসি-এক্সএমসি কনসোর্টিয়ামের সঙ্গে আলোচনা করে বাস্তবায়নের উদ্যোগ গ্রহণ করবেন বলে আশ্বাস দিয়েছেন। আপনারা কাজে যোগদান করলেই ঠিকাদারের সঙ্গে আলোচনা শুরু করা হবে। এর প্রেক্ষিতে শ্রমিকরা কাজে যোগদানের সিদ্ধান্ত নেয়। দীর্ঘদিন পর আন্দোলনরত শ্রমিকেরা কাজে যোগ দেয়ায় বড় পুকুরিয়া কয়লা খনি আবারো প্রাণবন্ত হয়ে উঠেছে।
২১ দিন শ্রমিকদের ধর্মঘটÑ সময়টুকু উৎপাদন ব্যবস্থার জন্য বড় সময়। এই সময় পর্যন্ত উৎপাদন প্রক্রিয়া বন্ধ থাকাটা মোটেও বাঞ্ছনীয় নয়। আর সমঝোতা করতে এতো সময় ক্ষেপণ হলো কেন? বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে দেখলে অনেক আগেই সমাধান করা যেত। বর্তমানে যে সমঝোতা হলো সেটাই বা কতদিন স্থায়ী হবে, সেটাও বিবেচ্য বিষয়। কেননা সমস্যাটা দীর্ঘদিন থেকেই চলে আসছে। একই ধরনের পরিস্থিতি এর আগেও হয়েছে। সে ক্ষেত্রে স্থায়ী সমাধানের উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে না কেন? খুব সঙ্গত কারণেই কয়লা খনির শ্রমিকদের স্বার্থ সুরক্ষাই মূল কথা। এবং সেটা করতেই হবে। এ ছাড়াও ওই কয়লা খনির জন্য স্থানীয় যারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন তাদেরকে এতোদিন পরেও কেন ক্ষতিপূরণের জন্য আন্দোলন করতে হবে? সমস্যাগুলো জিইয়ে রাখা হয়েছে। ফলে বড়পুকুরিয়া খয়লা খনিতে স্থিরতা আসছে না। এতে কার স্বার্থ রক্ষা হচ্ছে তা জানা না গেলেও জাতীয় স্বার্থ যে ক্ষুণœ সেটা বলাই যায়।
তাই জাতীয় স্বার্থকে সমুন্নত রাখতেই বড়পুকুরিয়া কয়লা খনিতে শ্রমিক ও ক্ষতিগ্রস্তদের সমস্যা নিরসনের মধ্যেই স্থায়ী সমাধান অন্বেষণ করতে হবে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ