বড়পুকুরিয়া কয়লা খনি: ২১ দিনের টানা ধর্মঘটের সঙ্গে শুরু হলো অবরোধ কর্মসূচি || কয়লার অভাবে তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র বন্ধের উপক্রম

আপডেট: জুন ৩, ২০১৮, ১:৩৯ পূর্বাহ্ণ

দিনাজপুর প্রতিনিধি


২১ দিন ধরে টানা ধর্মঘটের পাশাপাশি গতকাল শনিবার থেকে বড়পুকুরিয়া কয়লা খনির উত্তর ও দক্ষিণ গেটে অবস্থান গ্রহণ করে অবরোধ কর্মসূচি শুরু করেছেন ধর্মঘটী শ্রমিক-কর্মচারী ও ক্ষতিগ্রস্ত গ্রামবাসী। কয়লার অভাবে তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র যে কোন সময় বন্ধ হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
দিনাজপুরের বড়পুকুরিয়া কয়লা খনির শ্রমিক-কর্মচারী ইউনিয়ন ও ক্ষতিগ্রস্ত ২০ গ্রাম সমন্বয় কমিটির ডাকা অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘটের ২১ দিন শনিবার অতিবাহিত হওয়ার পরেও অচল অবস্থা কাটেনি। পূর্ব ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী শনিবার সকাল থেকে খনির উত্তর ও দক্ষিন দিকের ২টি গেটে অবস্থান গ্রহণ করেছেন আন্দোলনকারীরা। এর ফলে খনির সদর দফতরে আবারো অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছে খনিতে কর্মরত দেশি-বিদেশি ৫ শতাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।
২১ দিনের টানা ধর্মঘটের ফলে কয়লা উৎপাদন আশঙ্কাজনকহারে কমে গেছে। বাংলাদেশি শ্রমিকেরা আন্দোলন করায় চীনা শ্রমিক দিয়ে দিনে একটি মাত্র শিফটে ৮শ থেকে ১ হাজার টন কয়লা উত্তোলন করা হচ্ছে। অথচ প্রতিদিন বড়পুকুরিয়া তাপ বিদুৎ কেন্দ্রে কয়লা সরবরাহ করতে হয় আড়াই হাজার থেকে ৩ হাজার টন কয়লা। ইয়ার্ডে কয়লার মজুদ ২১ দিনে কমে যাওয়ায় কয়লার অভাবে যে কোন সময় বন্ধ হতে পারে বড়পুকুরিয়া তাপ বিদুৎ কেন্দ্রের ৩টি ইউনিটের বিদ্যুৎ উৎপাদন কার্যক্রম।
১৩মে থেকে বড়পুকুরিয়া খনি শ্রমিক ইউনিয়ন ১৩ দফা দাবিতে শ্রমিক ধর্মঘট কর্মসূচি পালন করে আসছে। শ্রমিক ধর্মঘট চলাকালীন ১৫মে সকালে কয়েকজন কর্মকর্তা খনির ভিতরে প্রবেশ করাকে কেন্দ্র করে কর্মকর্তাদের সাথে শ্রমিকদের সংর্ঘষের ঘটনা ঘটে। খনি কর্তৃপক্ষ শ্রমিক-কর্মচারীর বিরুদ্ধে পৃথক দুটি মামলা দায়ের করেছেন। ধর্মঘট নিরসনে খনিজ ও জ্বালানী মন্ত্রণালয়, পেট্রোবাংলা পরিচালক (প্রশাসন) মোস্তফা কামালকে আহবায়ক করে গঠিত তিন সদস্যের কমিটি ২৬ মে বড়পুকুরিয়ায় এসে খনি কর্তৃপক্ষ, ধর্মঘটী শ্রমিক-কর্মচারী এবং ক্ষতিগ্রস্ত গ্রামবাসীর বক্তব্য নিয়েছেন।
গত বৃহস্পতিবার রাতে ধর্মঘটী শ্রমিক-কর্মচারী ও ক্ষতিগ্রস্ত গ্রামবাসীদের একটি প্রতিনিধি । দল স্থানীয় সাংসদ প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী অ্যাড. মোস্তাফিজুর রহমান সঙ্গে তার ফুলবাড়ির বাসায় সাক্ষাৎ করেন। কিন্তু মন্ত্রী তাদের দাবি-দাওয়ার ব্যাপারে কোন ধরনের আশ্বাস না দেয়ায় ধর্মঘটের পাশাপাশি অবরোধ কর্মসূচি অব্যাহত রাখা হয়।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ