বড়পুকুরিয়া বিদ্যুৎ কেন্দ্র কয়লা সঙ্কটে পড়ার আশঙ্কায়

আপডেট: জুলাই ৯, ২০১৮, ১২:৪৫ পূর্বাহ্ণ

দিনাজপুর প্রতিনিধি


দেশের উত্তরাঞ্চলের দিনাজপুরের বড়পুকুরিয়া কয়লা খনিটির কয়লা উৎপাদনের লক্ষ্য নিয়ে সরকার পার্শবতী এলাকায় কয়লা ভিত্তিক তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ করে। বড়পুকুরিয়া কয়লা খনির ভূগর্ভ থেকে উত্তোলনকৃত কয়লা তাপবিদ্যুত কেন্দ্রে সরবরাহের মজুদ না রেখে উত্তোলনকৃত কয়লা বিক্রি করে দেন। এ কারণে তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রে কয়লা সরবরাহে সঙ্কট দেখা দিয়েছে। বড়পুকুরিয়া কয়লা খনির ভূগর্ভ থেকে কয়লা উত্তোলন বন্ধ রয়েছে।
১৫ জুন থেকে ভূগর্ভের ২০১০ নম্বর খনির মুখে (কোল ফেস) কয়লার মজুদ শেষ হয়ে যাওয়ায় আপাতত কয়লা উত্তোলন বন্ধ রেখেছে খনি কর্তৃপক্ষ। বর্তমানে বড়পুকুরিয়া কয়লা খনির ভূগর্ভের ১৩১৪ নম্বর ফেস থেকে নতুন করে কয়লা উৎপাদন শুরুর প্রস্তুতি চলছে।
জানা যায়, বড়পুকুরিয়া কয়লা খনির ভূগর্ভে বন্ধ হয়ে যাওয়া ১২১০ নম্বর ফেসে ব্যবহৃত উৎপাদন যন্ত্রপাতি সেখান থেকে সরিয়ে নিয়ে ১৩১৪ নম্বর ফেসে স্থাপন করে পুনরায় কয়লা উৎপাদন শুরু করতে প্রায় ২ মাস লাগতে পারে। ১২১০ নম্বর কোল ফেস থেকে কয়লা উত্তোলন শুরু হয় ২০১৭ সালের নভেম্বর মাসে। বন্ধ হয়ে যাওয়া ওই ফেস থেকে প্রায় ৫ লাখ ৮৫ হাজার টন কয়লা উত্তোলন করা হয়।
এদিকে গতকাল রোববার বড়পুকুরিয়া কয়লা খনির ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী হাবিব উদ্দিন আহম্মেদ জানান, ভূগর্ভ থেকে ফেস চেঞ্জ করে অন্য ফেসে যন্ত্রপাতি স্থাপন করে কয়লা তুলতে সময় লাগে। ভূগর্ভের ১৩১৪ নম্বর ফেসে যন্ত্রপাতি স্থাপন করা শেষ হলে, সকল প্রস্তুতি শেষ করেই আগের মতই কয়লা উত্তোলন শুরু হবে। বড়পুকুরিয়া কয়লা খনির মজুদ থেকে তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রে কয়লা সরবরাহের বিষয়ে তিনি জানান, তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রে কয়লা সরবরাহ করা হচ্ছে। কয়লার কোনো ঘাটতি নেই। বিদেশ থেকে কয়লা আমদানি করার কথা বললে তিনি জানান, এ বিষয়ে আমি কিছু জানিনা।
অপরদিকে বড়পুকুরিয়া কয়লা ভিত্তিক তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের সহকারী প্রধান প্রকৌশলী মো. মহসিন ফিরোজ গতকাল রোববার কয়লা সঙ্কটের বিষয়ে কথা বললে তিনি জানান, ৩য় ইউনিট চালু রয়েছে ২৭৫ মেগাওয়াট উৎপাদিত বিদ্যুত জাতীয় গ্রেডে সরবরাহ করা হচ্ছে। অপরদিকে বন্ধ হওয়া দুটি ইউনিটের ওভার হোলিংয়ের কাজ চলছে। চীনা সিএমসি ২টি ইউনিট মেরামত করছে। মেরামত কাজ শেষ হলে তারা জানাবে। তারপর ইউনিট ২টি চালুকরা হবে। তবে বর্তমানে কয়লা সঙ্কটের বিষয়টি আপাতত মনে করা হলেও এ বিষয়টি আমাদের উদ্ধর্তন কর্তৃপক্ষকে জানিয়ে দেয়া হয়েছে। তবে প্রতিদিন তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের ৩টি ইউনিটে ৪ হাজার ৫শ থেকে ৫ হাজার মেট্রিকটন কয়লা জ্বালানিতে প্রয়োজন। আপাতত কয়লার সঙ্কট মনে হচ্ছে না।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ