বড়াইগ্রামে পুলিশ কনস্টেবলের বিরুদ্ধে স্ত্রী হত্যার অভিযোগ

আপডেট: নভেম্বর ৩, ২০১৯, ১১:৫১ পূর্বাহ্ণ

বড়াইগ্রাম প্রতিনিধি


নাটোরের বড়াইগ্রামে মনিরুল ইসলাম নামে এক পুলিশ কনস্টেবলের বিরুদ্ধে তার স্ত্রী তাসলিমা খাতুনকে (১৯) হত্যার অভিযোগ উঠেছে। গতকাল শনিবার উপজেলার জোয়াড়ী ইউনিয়নের জোয়াড়ী গ্রাম থেকে তসলিমার লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। তসলিমা খাতুন জোয়ারী গ্রামের আবুল কাশেমের মেয়ে ও গোপালপুর গ্রামের শাহজাহান আলীর ছেলে মনিরুল ইসলামের স্ত্রী। মনিরুল ইসলাম চাঁপাইনবাবগঞ্জ মডেল থানায় পুলিশের কন্সটেবল পদে কর্মরত । এ বিষয়ে শনিবার বড়াইগ্রাম থানায় মামলা দায়ের করেছেন তসলিমা খাতুনের বাবা আবুল কাশেম।
নিহতের বাবা জানান, এক বছর আগে পারিবারিক ভাবে বিয়ে হয় মনিরুল ও তাসলিমার। বিয়ের পর তসলিমাকে নিয়ে কর্মস্থল চাঁপাইনবাবগঞ্জে বসবাস করে আসছিল মনিরুল। বিয়ের সময় কোন যৌতুক দাবি না করলেও পরে যৌতুকের জন্য বেয়পরোয়া হয়ে উঠে মনিরুল।
তিনি বলেন, আমি গরীব মানুষ হওয়ায় টাকা দিতে না পারায় নির্যাতন শুরু হয় তাসলিমার উপর। পরে পুলিশ ফান্ড থেকে ঋণ নেয়ার কথা বলে তাসলিমা ও ছেলে রবিউল করিমের কাছ থেকে সাদা কাগজে স্বাক্ষর নিয়ে ভূয়া জিডি করেন। এরপর গর্ভবতী তসলিমাকে গত ২৩ আগস্ট ডাক্তার দেখানোর কথা বলে জোর করে চাঁপাইনবাবগঞ্জের শান্তির মোড় এলাকার সেবা ক্লিনিকে গর্ভপাত করানো হয়।
তিনি আরো বলেন, গর্ভপাত করানোর পরে অসুস্থতা কথা বলে আমাদের বাড়িতে রেখে যায় তসলিমাকে। এর পরে যোগাযোগ বন্ধ করে দেয় মনিরুল। পরে গত ৯ আক্টোবর ছেলে রবিউল করিম গিয়ে মনিরুল ইসলামকে বাড়িতে নিয়ে আসে। এরপর ১০ অক্টোবর সকালে মনিরুল চলে যায় কর্মস্থলে। এরপর তাসলিমাকে দেখা য়ায় নিজ ঘরে অজ্ঞান অবস্থায় পড়ে আছে। তাকে উদ্ধার করে স্থানীয় একটি ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে সিরাজগঞ্জের খাজা ইউনুস আলী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শুক্রবার রাত ১ টার দিকে মারা যায়।
তসলিমার বড় বোন আরজিনা খাতুন বলেন, তসলিমাকে মেরে জানালা দিয়ে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে মনিরুল।
রবিউল করিম বলেন, আমি মনিরুলকে বিদায় দিতে ব্যস্ত ছিলাম, তসলিমার বিষয়টি মাথায় আসেনি। কিন্তু বিদায় দিয়ে ফিরে এসে দেখি বোনের এই পরিণতি।
অভিযুক্ত মনিরুল ইসলামের সঙ্গে মোবাইল ফোনে কথা বলতে চাইলে তিনি বলেন, আমি স্যারের রুমে আছি পরে কথা বলছি। কিন্তু পরে তিনি আর মোবাইল ফোন ধরেন নি।
বড়াইগ্রাম থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) দিলিপ কুমার দাস বলেন, এঘটনায় নিহত তসলিমা খাতুনের বাবা আবুল কাশেম বাদী হয়ে একটি অভিযোগ দাখিল করেছেন। লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য নাটোর সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়না তদন্তের রিপোর্ট এবং অভিযোগ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।