বড়াইগ্রামে প্রতারক চক্রের নারী সদস্য আটক

আপডেট: জানুয়ারি ৯, ২০১৭, ১২:০২ পূর্বাহ্ণ

নাটোর অফিস


নাটোরের বড়াইগ্রামসহ জেলার বিভিন্ন স্থানে দুই নারীকে সঙ্গে নিয়ে প্রতারণার ফাঁদ পেতেছে একটি চক্র। আর এই চক্রের ফাঁদে পা দিয়ে কেউ হারাচ্ছেন নগদ টাকা, দামী মোবাইল আবার কেউ কেউ হারাচ্ছেন সখের মোটরসাইকেল। সম্প্রতি ওই নারীদের চক্রে পা দিয়ে ডিসকভার ব্রান্ডের মোটরসাইকেল হারানোর পর  গতকাল রোববার জনৈক এক যুবক ওই চক্রের এক নারী সদস্য কবিতা দাসকে(৩০)  উপজেলার বনপাড়া বাইপাস বাসস্ট্যান্ড এলাকা থেকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেছে। তার বাড়ি সিরাজগঞ্জের তারাশ উপজেলার পূবালী ব্যাংক পাড়ায়।  পুলিশ আটক ওই নারীকে জিজ্ঞাসাবাদ করার পর আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে প্রেরণ করেছে।
জানা গেছে, গত মঙ্গলবার রাত ৮টার দিকে বনপাড়া বাইপাস মোড়ে কবিতা ও  রেশমা (২২) নামের দুই নারী ফারুক  নামের ওই যুবকের মোটরসাইকেল থামিয়ে তাদেরকে সাহায্যের আবেদন করেন। এসময় শাড়ি, শাখা ও সিদুঁর পরা কবিতা নামে নারীটি জানায় তার মার অসুস্থতার সংবাদ শুনে সে তার ছোট বোনকে এগিয়ে দিতে এসেছে। ছোট বোনকে বড়াইগ্রামের রাজাকারের  মোড় পর্যন্ত এগিয়ে দিলে সে সেখানে চার্জার অটোভ্যান বাড়ি থেকে এসে তাকে নিয়ে যাবে। এ কথা বিশ্বাস করে ফারুক রাতে নিরাপদে মেয়েটি পৌঁছে দেয়ার জন্য রেশমাকে সঙ্গে নিয়ে মোটরসাইকেলে রওনা দেয়। প্রায় এক কিলোমটার যাওয়ার পরই মানিকপুর এলাকায় পৌঁছালে দুই মোটর সাইকেলে চার যুবক এসে তাদের গতিরোধ করে এবং পিস্তল দেখিয়ে ফারুকের কাছ থেকে মোটরসাইকেল, দুইটি মোবাইল  সেট ও নগদ ৪ হাজার টাকা ছিনতাই করে ওই নারীসহ দ্রুত পালিয়ে যায়।  ফারুক বনপাড়া বাইপাস মোড়ে ফিরে এসে সেখানে কথিত বড় বোন কবিতাকে খুঁজে পায়নি।
এঘটনার ৫দিন পর গতকাল সকালে ফারুক বনপাড়া বাইপাস মোড়ে ঢাকাগামী একটি বাসের মধ্যে বসে থাকা কবিতাকে সনাক্ত করে তাকে আটক করে বনপাড়া তদন্ত কেন্দ্রের পুলিশকে খবর দেয়। পুলিশ এসে ওই নারীকে আটক করে তদন্ত কেন্দ্রে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করে। এ সময় কবিতা জানায়,  সে দীর্ঘদিন যাবত গুরুদাসপুর চাঁচকৈড় বাজার এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকে। রেশমার বিষয়ে জানতে চাইলে জানায়, তার সাথে তেমন পরিচয় নেই। তবে নাটোর জেলার সিংড়া উপজেলার কলেজ এলাকায় তারই মতো বাসাভাড়া করে বসবাস করে সে।  রেশমার বাড়ি বরিশাল জেলায়।
বনপাড়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ পুলিশ পরিদর্শক রফিকুল ইসলাম জানান, জিজ্ঞাসাবাদে ওই নারীর কাছ থেকে চাঞ্চল্যকর তথ্য পাওয়া গেছে। একটি সংঘবদ্ধ চক্র প্রতারণার ফাঁদ পেতে বিভিন্ন পুরুষের কাছ থেকে সর্বস্ব কেড়ে নিচ্ছে। এছাড়া বিভিন্ন উচ্চ পর্যায়ের মানুষের সাথে তাদের নিয়মিত যৌন সম্পর্ক রয়েছে বলেও  তিনি জানান।