বড়াইগ্রামে প্রস্তুত ৫০ হাজার কোরবানীর পশু

আপডেট: জুলাই ১৭, ২০১৯, ১২:০৪ পূর্বাহ্ণ

বড়াইগ্রাম প্রতিনিধি


বড়াইগ্রামে আল বারাকা খামারে প্রস্তুত কোরবানীর ষাঁড়- সোনার দেশ

নাটোরের বড়াইগ্রামে কোরবানীর ঈদকে ঘিরে ক্ষতিকর রাসায়নিক স্ট্রেরয়েড হরমোন মুক্ত প্রক্রিয়ায় ছোট-বড় বিভিন্ন খামার ও পারিবারিক ভাবে অন্তত ৫০ হাজার পশু প্রস্তুত করা হয়েছে। যার মধ্যে গরু ১৪ হাজার, ছাগল ২০ হাজার, মহিষ ৯৭৫, ভেড়া ৬ হাজার ৪৫০টি। আর এসব কোরবানীর পশুর স্ব্স্থ্যাসেবা নিশ্চিত করতে সার্বক্ষণিক তদারকি করছেন প্রাণি সম্পদ দফতরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।
বড়াইগ্রাম উপজেলা প্রাণি সম্পদ অধিদফতর সূত্রে জানা যায়, উপজেলায় ছোট-বড় দেড়শ গরুর খামার রয়েছে। এসব খামারে ক্ষতিকর ইন্ডিয়ান বড়ি, ডেক্সামেটাসন বরি না খঅইয়ে কোরবানীর মৌসুমে পুষ্টিকর প্রাকৃতিক খাবারের মাধ্যমে গরু মোটাতাজা করণ করা হয়। বিশেষ করে ষাড় গরুর প্রতি বিশেষ নজর দেওয়া হয়। তবে এর পাশাপশি গাভী (ফুল বকনা), বলদ, মহিষের চাহিদা মোতাবেক পালন করা হয়। একই সঙ্গে রয়েছে পারিবারিক ভাবে ছাগল ও ভেড়া পালন। তবে ছাগল বা ভেড়া কোন খামার এখানে নাই।
গরুর খামারীদের মধ্যে উপজেলার শ্রীরামপুর গ্রামে আল-বারাকা ডেইরী ফার্ম বিশেষ ভাবে উল্লেখ্যযোগ্য। তাদের খামারে চলতি বছর ৫০টি ষাড় গরু প্রস্তুত করা হয়েছে। এছাড়া পারিবারিক ভাবে ৩ থেকে ৫ গরু নিয়ে গড়ে তোলা হয়েছে অধিকাংশ খামার। আর ব্যক্তিগত ভাবে ১টি ২টি করে গরু অধিকাংশ বাড়িতেই রয়েছে। সকল ধরণের গরু, মহিষ, ছাগল, ভেড়া পালনে প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও চিকিৎসাসেবা দেওয়া হচ্ছে।
আল-বারাকা ডেইরী ফার্মের ব্যবস্থাপক সবির রায় বলেন, বছর ধরেই আমরা ফার্মে দুধের গাভী পালন করি। তবে কোরবানীর মৌসুমে কিছু ষাড় কিনে মোটাতাজা করি। নিয়মিত স্বাস্থ্যসম্মত খাবার পরিবেশনের মাধ্যমেই এই খামারের গরু মোটাতাজা করা হয়। কোন প্রকার ক্ষতিকর ওষুধ ব্যবহার করা হয় না। যে কোন প্রয়োজনে আমরা উপজেলা প্রাণি সম্পদ দফতরে যোগাযোগ করে তাদের পরামর্শ ও সহযোগিতা নিয়ে থাকি। তিনি আরো বলেন, এবার ৫০টি ষাড় গরু প্রস্তুত করা হয়েছে। আশাকরি প্রতিটি ষাড়ে অন্তত ২৫ হাজার টাকা করে লাভ হবে। ইতোমধ্যে গরুর ব্যপারীরা খামারে এসে গরু কেনার জন্য দর-দাম করছেন। আবার ব্যক্তিগত ভাবে কোরবানির জন্য অনেকে যোগাযোগ করছেন।
উপজেলা পশু চিকিৎসক (ভিএস) ডা. উজ্জল কুমার কুন্ডু বলেন,খামারীদের রাসায়নিক স্টেরয়েড প্রয়োগ ব্যতিত স্বাস্থ্য সম্মত সুস্থ সবল গরু, মহিষ পালনে প্রয়োজনীয় সকল স্বাস্থ্যসেবা দেওয়া হচ্ছে। এছাড়া খামারীদের নিয়ে প্রতিমাসে সচেতনতা সভা করা হয় উপজেলা প্রাণি সম্পদ দফতরে। আবার কোরবানির হাটে যেন অস্বাস্থ্যকর গরু বেচাকেনা না করতে পারে সেজন্য এখন থেকেই প্রতিহাটে আমাদের টিম নিয়োগ করা হয়েছে। এই টিম ওয়ার্ক চলবে ঈদের আগ পর্যন্ত।
উপজেলা প্রাণি সম্পদ কর্মকর্তা ডা. কাজী আশরাফুল ইসলাম, বড়াইগ্রামে কোরবানীর পশুতে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করেছে। এই উপজেলায় কোন কোরবানির পশু আমাদানী করতে হবে না। উপরন্ত অন্তত ৫ হাজার ষাড় এলাকার বাইরে বিক্রির জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে। তিনি বলেন, উপজেলা পশু চিকিৎসক (ভিএস) ডা. উজ্জল কুমার কুন্ডুকে প্রধান করে কোরবানীর হাট মণিটরিং এবং প্রাণি স্বাস্থ্যসেবা মণিটরিং কমিটি করে দেওয়া হয়েছে। এছাড়া কৃত্তিম প্রজনন টেকনিশিয়াসহ সকল কর্মকর্তা-কর্মচারী কোরবানীর ঈদ পর্যন্ত সার্বক্ষণিক ভাবে প্রাণি স্বাস্থ্যসেবায় নিরলস ভাবে দায়িত্ব পালন করে যাবে। এদিকে কোরবানীর পশুর চামড়া সঠিক পন্থায় সংরক্ষণের জন্য কষাইদেরকেও ইতোমধ্যে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে।