বড়াইগ্রামে বিদ্যুৎ সংযোগের নামে উৎকোচ গ্রহণের অভিযোগ || উৎকোচ ফেরৎ না দেয়া পর্যন্ত সংযোগ বন্ধ

আপডেট: নভেম্বর ১২, ২০১৭, ১২:৫৬ পূর্বাহ্ণ

বড়াইগ্রাম প্রতিনিধি


এক সপ্তা ধরে প্রচারণা চালানো হয়েছে, মঞ্চ হয়েছে, অতিথি এসেছেন। এসেছেন পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির লোকেরাও। এখন হুকুম পেলেই সংযোগ শুরু হবে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে সংযোগের উদ্বোধন করবেন সাবেক প্রতিমন্ত্রী অধ্যাপক সাংসদ আবদুল কুদ্দুস। একই সাথে আলোকিত হবে প্রত্যন্ত গ্রামের ১৬৫টি বাড়ি। কিন্তু না সব কিছুই পন্ড হয়ে গেল। চারজন দূর্নীতিবাজ যুবকের কারণে। তারা প্রতিটি মিটাররের বিপরিতে ২ হাজার করে টাকা নিয়েছেন সংযোগ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের নামে। তাই প্রধান অতিথি সংযোগের নামে নেওয়া উৎকোচ ফেরৎ না দেওয়া পর্যন্ত সংযোগ বন্ধের ঘোষণা দেন। গত শুক্রবার শেষ বিকেলে নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলার নগর ইউনিয়নের কুমারখালী গ্রামে ওই ঘটনা ঘটে।
নগর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ইয়াছিন আলী জানান, সাংসদ অধ্যাপক আবদুুল কুদ্দুসের বরাদ্দ থেকে কুমারখালী গ্রামে ১৬৫টি বাড়িতে বিদ্যুৎ সংযোগের নির্দেশ দেওয়া হয় নাটোর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২ কে। মাস্টার প্লানে নির্মিত সংযোগের যাবতীয় খরচ বহন করে সরকার। কিন্তু কুমারখালী গ্রামের আরশেদ আলী, লিটন হোসেন, রঞ্জু মিয়া তালশো গ্রামের ইলেকট্রিশিয়ান বজলুর রশিদের সাথে যোগসাজসে শুরু থেকেই নানা ধান্দা শুরু করে। তারা বিভিন্ন সময় গ্রাহকদের কাছ থেকে ১০০, ২০০ টাকা করে হাতিয়ে নিয়েছেন। সর্বশেষ চুড়ান্ত সংযোগের সময় সাংসদ আসবে, অনুষ্ঠানে খরচ হবে ইত্যাদি কথা বলে মিটার প্রতি ২ হাজার টাকা করে নিয়েছে ওই চক্র। বিষয়টি জনৈক গ্রাহক সাংসদ আবদুল কুদ্দুকে মোবাইল ফোনে জানান।
শুক্রবার বিকেলে ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ সভাপতি করম আলীর সভাপতিত্বে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে হাজির হন সাংসদ আবদুুল কুদ্দুস। অনুষ্ঠানে নাটোর পল্লী বিদ্যূৎ সমিতি-২ এর জেনারেল ম্যানেজারসহ অন্যান্য কর্মকর্তা-কর্মচারীও হাজির হন। এসময় সাংসদ উপস্থিত গ্রাহকদের জিজ্ঞেস করেন তারা ২ হাজার করে টাকা দিয়েছেন কিনা। সকল গ্রহক টাকা দেওয়ার কথা স্বীকার করেন। তিনি অভিযুক্তদের ওই টাকা ফেরতের নির্দেশ দেন। কিন্তু এরআগেই অভিযুক্তরা অনুষ্ঠান স্থল থেকে সরে পড়ে। পরে সাংসদ তাদের উৎকোচের টাকা ফেরৎ নেওয়ার নির্দেশ দিয়ে বলেন, ওই টাকা ফেরৎ না দেওয়া পর্যন্ত সংযোগ বন্ধ থাকবে। এরপর তিনি সভাস্থল ত্যাগ করেন।
এ ব্যাপারে অভিযুক্ত আরশেদ আলী, লিটন হোসেন, রঞ্জু মিয়া ও বজলুর রশিদ বলেন, উদ্বোধনী অনুষ্ঠান করার জন্য সকল গ্রাহক খুশি হয়ে টাকা দিয়েছে। কাউকে বাধ্য করে টাকা নেওয়া হয় নি। অনুষ্ঠানে মঞ্চ করাসহ নানা কাজে টাকা খরচও হয়ে গেছে।
এ বিষয়ে জেনারেল ম্যানেজার নিতাই কুমার সরকার বলেন, ‘এমপি স্যার ভাল মানুষ। সংযোগের নামে গরীব মানুষদের কাছ থেকে টাকা নেওয়ার বিষয়টি তিনি অবগত হয়ে ক্ষুব্ধ হয়েছেন। তাই সংযোগ বন্ধের নির্দেশ দিয়েছেন।’

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ