বড়াইগ্রামে মাদরাসা ছাত্রীকে ধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগ

আপডেট: নভেম্বর ৫, ২০১৯, ১২:৩৬ পূর্বাহ্ণ

বড়াইগ্রাম প্রতিনিধি


নাটোরের বড়াইগ্রামে মাদরাসাছাত্রী হালিমা খাতুনকে (১২) ধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগ উঠেছে। হালিমা খাতুন উপজেলার চান্দাই ইউনিয়নের গাড়ফা মৎস্যজীবী পাড়া এলাকার হাসান আলীর মেয়ে এবং গাড়ফা দাখিল মাদরাসার ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রী। গত রোববার রাত ২টার দিকে পুলিশ গাড়ফা ত্রিমোহনী এলাকা থেকে হালিমার লাশ উদ্ধার করে।
নিহতের বড় বোন রহিমা খাতুন জানান, তিন ভাই চার বোনের মধ্যে হালিমা সবার ছোট। তার বোনকে দীর্ঘদিন থেকে উত্ত্যক্ত করে আসছিল লাদেন দেওয়ান। রোববার রাত ৭টার দিকে লাদেন দেওয়ান বাড়ি থেকে জরুরি কাজের কথা বলে ডেকে নেয় হালিমাকে। এসময় তার সঙ্গে বুলু মিয়ার ছেলে ছোটন মিয়াও ছিলো। পরে রাত আটটা অবধি বাড়িতে না ফেরায়, খোঁজাখুজি শুরু হয়। রাত বারোটার দিকে এক পথচারী খবর দেয় হালিমাকে মেরে ত্রিমোহনী এলাকায় বট গাছের সঙ্গে ঝুলিয়ে রেখেছে। পরে পুলিশকে খবর দিলে পুলিশ গিয়ে লাশ উদ্ধার করে। এসময় হালিমার সালোয়ার রক্তমাখা ছিল।
বাবা হাসেন আলী বলেন, লাদেন দেওয়ান আমার মেয়েকে উত্ত্যক্ত করার কারণে আমি গ্রামের প্রধানদের কাছে অনেক ধরণা দিয়েছি। কিন্তু তারা আমার মেয়ের জন্য কিছুই করতে পারল না।
মা মমেনা বেগম বলেন, মেয়েকে পড়াশুনা করিয়ে বড় করতে চেয়ে ছিলাম। কিন্তু লাদেন আমার মেয়েকে হত্যা করল। আমি মেয়ে হত্যার বিচার চাই।
সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, নিহতের বাড়ি থেকে ঘটনাস্থল আধা কিলোমিটার দূর। নৌকা ছাড়া যাওয়ার কোনো ব্যবস্থা নেই। যে বটগাছের ডালের সঙ্গে ঝুলন্ত ছিল হালিমার লাশ তা মাটি থেকে ৭ ফিট উঁচু। সেখানে যাওয়ার কোন নৌকা নেই। ফাঁসি দেয়ার সময় নিচে টুল অথবা অন্য কিছু থাকবে তেমন কিছু নেই। ঘটনাস্থল থেকে আরো আধা কিলোমিটার দূরে একটি সেতু আছে। স্থলে যাওয়ার জন্য নৌকা একমাত্র যোগাযোগের মাধ্যম। ঘটনাস্থলে পাটের বস্তা দিয়ে তৈরি বালিস, রক্তের দাগ এবং পায়ের গোড়ালির চিহ্ন আছে।
ঘটনাস্থলের পাশেই বাড়ি তোফিজ উদ্দিনের, তিনি জানান, আমি রাতে ঘুমিয়ে ছিলাম। হঠাৎ ১২টার দিকে ডাকাডাকি শুনে বাইরে হয়ে জানতে পারি ঝুলন্ত অবস্থায় লাশ পাওয়া গেছে।
স্থানীয় ইউপি সদস্য আন্তাদুল ইসলাম জানান, লাদেন দেওয়ান প্রায় দেড় বছর আগে বিয়ে করেছে। সে বিভিন্ন সময় হালিমাকে উত্ত্যক্ত করত। আমি তাকে অনেকবার নিষেধ করেছি।
লাদেন দেওয়ানের বাড়িতে গিয়ে তাকে পাওয়া যায় নাই। তার খালাতো বোন মৌসুমী খাতুন জানান, তিনদিন আগ থেকে লাদেনের বউ বাপের বাড়িতে। মা-বাবা ভিক্ষা করতে বাইরে। আর লাদেন গতরাত থেকে বাড়িতে ফিরে নাই।
বড়াইগ্রাম থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) দিলীপ কুমার দাস জানান, রাতেই খবর পেয়ে আমি নিজেই ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশটি উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসি। সকালে মেয়ের বাবা থানায় এসে দুইজনের নামে একটি অভিযোগ দায়ের করেছেন। সোমবার সকালে লাশ ময়না তদন্তের জন্য নাটোর আধুনিক সদর হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে। ময়না তদন্তের প্রতিবেদন পেলে জানা যাবে এটা হত্যা না আত্মহত্যা। যদি হত্যা হয়ে থাকে তাহলে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।