বড়াইগ্রামে শিশু ধর্ষণের মনগড়া প্রতিবেদন অভিযুক্ত চিকিৎসকের অপসারণ দাবি

আপডেট: ফেব্রুয়ারি ১৫, ২০১৮, ১২:৪১ পূর্বাহ্ণ

নাটোর অফিস


ডা. ডলী রাণীর অপসারণের দাবিতে বড়াইগ্রামে মানবন্ধন-সোনার দেশ

নাটোরের বড়াইগ্রামে নয় বছরের এক শিশু ধর্ষণের ঘটনায় ডাক্তারি পরীক্ষার প্রতিবেদনে অসঙ্গতি থাকায় অভিযুক্ত চিকিৎসকের দ্রুত অপসারণ ও শাস্তি দাবি করেছেন এলাকাবাসী। গতকাল বুধবার বিকেলে উপজেলার বনপাড়া পৌরশহরের হাইওয়ে থানা সড়কে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।
মানববন্ধনে ভুক্তভোগীর বাবা ও পরিবারের সদস্যসহ গ্রামবাসীরা বক্তব্য দেন। মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, উপজেলার বনপাড়া পৌরশহরের পূর্ব হারোয়া এলাকার প্রতিবেশী চাঁন প্রামাণিকের ছেলে এবারের এসএসসি পরীক্ষার্থী মাহবুর রহমান (১৬) গত ২৪ জানুয়ারি দুপুর ১২টার দিকে ওই শিশুকে বাইসাইকেল চালানো শিখাতে নিয়ে যায়। প্রথমে বাড়ির উঠোনে ও পরে চকলেট দেয়ার কথা বলে ঘরের ভিতর ডেকে নিয়ে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে। পরবর্তীতে বাড়ি ফিরে আসলে তাকে অসুস্থ দেখালে শিশুটি তার মাকে সব ঘটনা খুলে বলে এবং পরে তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। ওইদিন বিকেলেই বাবা বাদী হয়ে বড়াইগ্রাম থানায় ধর্ষণ মামলা দায়ের করেন।
জানা গেছে, শিশুটিকে ধর্ষণের পরেরদিন দুপুর দেড়টার দিকে বড়াইগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. ডলি রাণী শিশুটির মেডিকেল পরীক্ষা সম্পন্ন করেন। অথচ ডাক্তারি প্রতিবেদনে তারিখ দেখানো হয়েছে, আগের দিন ২৪ জানুয়ারি সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে। এছাড়া ব্যবস্থাপত্রে লেখা রয়েছে সেক্সুয়্যাল অ্যাসাল্ট, দেয়া হয়েছে উচ্চ ক্ষমতা সম্পন্ন এন্টিবায়োটিক ও ব্যাথানাশক ওষুধ। বুকের নীচের অংশে কালো দাগ রয়েছে এবং মানসকি অবস্থা খারাপ বলেও উল্লেখ করা হয়েছে। অথচ চূড়ান্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে ধর্ষণের কোন আলামত পাওয়া যায় নি। ডা. ডলি রাণী আসামি পক্ষের কাছ থেকে অবৈধ সুবিধা নিয়ে মনগড়া প্রতিবেদন তৈরি করে অপরাধীকে বাঁচানোর চেষ্টা করেছেন বলে অভিযোগ করে তার দ্রুত অপসারণ ও শাস্তির দাবি করেছেন এলাকাবাসী। আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. ডলি রানীর বিরুদ্ধে এর আগেও ভুল ও অসঙ্গতিপূর্ণ ধর্ষণের প্রতিবেদন প্রদানের অভিযোগ রয়েছে।
এ বিষয়ে ডা. ডলি রাণীর মুঠোফোনে যোগাযোগ করলে তিনি কোন উত্তর না দিয়ে ফোন কেটে দেন। পরে আরো কয়েকবার কল দিলেও তিনি রিসিভ করেন নি।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই তহছেনুজ্জামান জানান, প্রাথমিক তদন্তে আসামি ধর্ষণের কথা স্বীকার করেছেন। মামলা দায়ের করার পরেরদিন আসামি মাহবুরকে পুলিশ গ্রেফতার করে জেলহাজতে প্রেরণ করে। পরবর্তীতে এসএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ দানের লক্ষ্যে আদালত গত ৩০ জানুয়ারি তাকে ২৪ দিনের জন্য অন্তবর্তীকালীন জামিন দেন।