বড়াইগ্রাম-গুরুদাসপুরে সবজি চাষিদের মুখে হাসি

আপডেট: ডিসেম্বর ১, ২০১৮, ১২:৩০ পূর্বাহ্ণ

বড়াইগ্রাম প্রতিনিধি


শীতকালীন সজবি বাঁধাকপির খেতের পরিচর্যা করছেন কৃষক শাহিন কাউসার-সোনার দেশ

এবার চলনবিল অধ্যুষিত নাটোরের বড়াইগ্রাম-গুরুদাসপুর উপজেলায় ধান, পাট, রসুন আর ভুট্টার রাজ্যে সবজি আবাদ জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। কারণ এসব আবাদে উৎপাদন খরচ বেশি দাম পায় কম। কিন্তু অল্প সময়ে কম পুঁজি বিনিয়োগ করে বেশি লাভ হওয়ায় সবজির চাষে ঝুঁকছেন তারা।
সবজি চাষে লাভবান হওয়ায় বড়াইগ্রাম উপজেলার বাগডোব গ্রামের বিষ্টপদ, পূর্ণকলস গ্রামের সালাউদ্দিন, শ্রীখীন্ড গ্রামের মাহাবুবুর রহমান, গুনাইহাটি গ্রামের শুকুর আলী, তিরাইল গ্রামের আবদুল লতিফ এবং গুরুদাসপুর উপজেলার চরকাদহ গ্রামের শাহিন কাউছার বিলকাঠোর গ্রামের আবদুল আলীম ও কান্তকোলা গ্রামের রিন্টু ইসলাম। তারা ধান, পাট, রসুন আর ভুট্টার পাশাপাশি গত ৩ বছর ধরে ফুলকপি, বাঁধাকপি, বেগুন, পালংশাক, লাল শাক, ধনেপাতারমত শীতকালীন সবজি আবাদ করে আর্থিকভাবে লাভবান হচ্ছেন।
তারা বলেন, ধান-পাটে ক্রমাগত আর্থিক লোকসানের মুখে পড়ে এক পর্যায়ে ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়েন তারা। পরে কৃষি বিভাগের পরামর্শে বাড়ির পাশের জমিতে ফুলকপি, বাধাকপি চাষ করেন। প্রথম বছরেই আশার আলো দেখতে পান ।
বিষ্টপদ বলেন , এবার দুই বিঘায় কপির আবাদ করেছেন। বীজ-সার, পরিচর্চায় তার গড়ে ৬০ হাজার টাকা ব্যয় হবে। আগাম কপি উঠতে শুরু করায় দাম পাচ্ছেন ভালো। আগামী এক মাসের মধ্যে প্রায় ২লাখ টাকার কপি বিক্রি করবেন বলে বিশ^াস তার। অন্য ফসলে এমন লাভ আসেনা। আগামী শীতে অন্যের জমি বর্গা (লিজ) নিয়ে সবজির আবাদ করার ইচ্ছা রয়েছে । তার দেখাদেখি অন্য কৃষকরাও কম বেশি এমন সবজির আবাদে উৎসাহিত হচ্ছেন বলেও জানান তিনি।
কৃষক আবদুল আলীম পৈত্রিক সূত্রে আড়াই বিঘা জমি পেয়েছিলেন। ধান-পাটের আবাদে খরচের টাকাই উঠতো না। উপরন্ত ঋণগ্রস্ত হয়েছেন। বছরের সংসার খরচের টাকার জন্য বিকল্প আয়ের পথ খুঁজতে হতো। দুই বছর ধরে শীতকালীন ফুলকপি, বাঁধাকপিসহ অন্যান্য সবজির আবাদ শুরু করেছেন। খরচ বাদে এখন ২-৩লাখ টাকা পর্যন্ত আয় হচ্ছে। শীতকালীন আবাদ তুলে অন্য আবাদ করেন তিনি।এখন সংসারে অভাব নেই।
সবজি চাষি রিন্টু ইসলামের এলাকায় শুধু শাক-সবজিই আবাদ হয়ে থাকে। তার ৪বিঘা জমি জমিতে পরিকল্পিত ভাবে বাঁধাকপি, ফুলকপি, বেগুন, টমেটো, ধনেপাতা আর পালংশাক করেছেন। আগাম চাষ করায় দাম ভালো পাচ্ছেন। তিনি নিজে এবং পাইকাররা খেত থেকে এসব শীতের সবজি কিনে নিয়ে যান। ফি বছরই ভালো দাম পান। খরচ বাদে ৪-৫ লাখ টাকা আয় আসে তার খেত থেকে। সবজি বিক্রির টাকায় সন্তানদের পড়ালেখার খরচ, বাড়িতে পাকাঘর করেছেন। কিনেছেন রঙিনফ্লাট টিভি এবং ফ্রিজ।
পূর্ণকলসের সালাউদ্দিন মনে করেন, অন্য আবাদে প্রতি কৃষকের ঝুঁকি বেশি। কিন্তু অল্প সময়ে কম পুঁজিতে সবজি চাষে বেশি লাভবান হওয়া যায়- এমন চিন্তা অনেক কৃষকেরই থাকেনা। অথচ শীতের সবজি কিনতে সকলেই বাজারে হুমড়ি খেয়ে পড়েন। তবে শীতের সবজিতে কঠোর পরিশ্রম ও পরিচর্চার বিষয় আছে।
বড়াইগ্রাম উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ইকবাল আহমেদ বলেন, উপজেলায় ৫৫০ হেক্টর জমিতে শীতকালীণ সবজি চাষ হচ্ছে। অনুকুল আবহাওয়া আর পর্যাপ্ত বীজ-সারের সরবরাহ থাকয় উৎপাদন ভাল হয়েছে। বাজারে সবজির ব্যাপক চাহিদা থাকায় কৃষকরা লাভবান হচ্ছে।
অপরদিকে গুরুদাসপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আবদুল করিম বলেন, এ বছর উপজেলায় ৩৫০ হেক্টর জমিতে শীতকালীন শাকসবজির আবাদ হয়েছে । যারা পেশাদার সবজি চাষি তারা কৃষি বিভাগের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রেখে আগাম চাষ করে ভালো দাম পাচ্ছেন। অন্য ফসলের চেয়ে শীতকালীন সবজির চাহিদা বেশি থাকা এবং দাম ভালো থাকায় উপজেলায় সবজি চাষের প্রবণতা বাড়ছে।