বড় ভাইয়ের বদলে ছোট ভাইয়ের কারাগারাভোগ পুলিশ সতর্ক হলে বিড়াম্বনায় পড়তে হতো না

আপডেট: জুন ১৪, ২০১৯, ১২:২০ পূর্বাহ্ণ

গতকাল সোনার দেশের প্রথম পাতায় “বড় ভাইয়ের বদলে ছোট ভাই গ্রেফতার, দায় থেকে অব্যাহতি ওসিকে শোকজ,” “বাঘায় মৃত গোলাপি জীবিত! উদ্ধারকৃত লাশ দোলেনার দাবি স্বামী সুরুজের”-শিরোনামে সংবাদ দুইটিতে পুলিশের গাফলতি লক্ষ্য করা গেছে। আর এজন্য যারা দোষি নয়, তাদেরকে হয়রানির মুখে পড়তে হয়েছে। শুধু তাই নয়, সমাজে তাদের মানসম্মান নিচে নামিয়ে দেয়া হয়েছে। এজন্য তাদের ক্ষতিপুরণ দেয়া উচিত। কারণ তারা নিজেদের নিদোষ প্রমাণের জন্য আদালত ও স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদে হাজির হয়েছেন।
গতকাল প্রকাশিত সোনার দেশের প্রধান প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাজশাহীতে বড় ভাই ফজলের বদলে গ্রেফতার হওয়া ছোট ভাই সজল মিয়াকে (৩৪) প্রায় দেড় মাস কারাভোগের পর আদালত অব্যাহতি দিয়েছে। সেই সাথে আসামি না হয়েও কেন যাবজ্জীবন কারাদ- পাওয়া আসামি হিসেবে সজলকে গ্রেফতার করা হয়েছিল তার জবাব দিতে রাজশাহী মহানগর পুলিশের শাহমখদুম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এসএম মাসুদ পারভেজকে শোকজ করেছেন আদালত। বুধবার বেলা ৩টার দিকে রাজশাহীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের (প্রথম) বিচার মো. মনসুর আলম এ আদেশ দেন। আদেশ অনুযায়ী, ওসি মাসুদ পারভেজকে সাত দিনের মধ্যে আদালতে স্বশরীরে হাজির হয়ে জবাব দিতে হবে। গত ৩০ এপ্রিল সজলকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। অথচ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের একটি মামলায় ২০০৯ সালে সজলের বড় ভাই ফজলের যাবজ্জীবন কারাদ- হয়। আর রায় ঘোষণার আগে থেকেই ফজল পুলিশের চোখে পলাতক রয়েছে। ফজলকে সজল করে গত ৩০ এপ্রিল শাহমখদুম থানা পুলিশ গ্রেফতার করে। এরপর ফজল হিসেবে সজলকে কারাগারে পাঠানো হয়। সজলকে যখন আদালতে উপস্থাপন করা হয় তখন তার নাম ফজল বলেই পুলিশের গ্রেফতারি প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। দুইজন সাক্ষী এ ব্যাপারে এফিডেফিট করে দেওয়ায় তাকে সেদিন কারাগারে পাঠানো হয়। এসময় ফজল ও সজলের পরিবারের কথা আমলে নেয়নি পুলিশ। তারা দুইজন সাক্ষীর উপর ভর করে বড় ভাইয়ের বদলে ছোট ভাই সজলকে কারাগারে প্রেরণ করে। পুলিশ যদি আর সতর্ক হতো। তাহলে সজলকে বিনাদোষে কারাগারে থাকতে হতো না।
অপরদিকে ১০ জুন সন্ধ্যায় বাঘা থানার পুলিশ চকবাউসা গ্রামের ভুট্টা ক্ষেত থেকে মুখে পোড়া লুব্রিকেন্ট (মবিল) মাখানো অজ্ঞাত (৪৫) এক নারীর লাশ উদ্ধার করা হয়। পরের দিন ১১ জুন ওই লাশের পরিচয় মেলে। সে উপজেলার আড়ানী পৌরসভার পাঁচপাড়া গ্রামের বাকপ্রতিবন্ধী মনির হোসেনের স্ত্রী গোলাপি বেগম। অথচ গোলাপি বেগম জীবিত হয়ে পরের দিন এলাকায় ফিরে আসেন। পুলিশ যদি উদ্ধারকৃত লাশটি সনাক্ত করে আরও সময় নিয়ে দাফন করতো। তাহলে গোলাপি বেগমকে নিজের পরিচয়ের জন্য সব জায়গায় ছুটে বেড়াতে হতো না। শুধু তাই নয়, পুলিশের সঠিক তদন্তের অভাবে জীবিত গোলাপির মামা শাকিব হোসেন বাদি হয়ে মামলা দায়ের করে। তাকেও ভুল তথ্য পরিবেশন করে পুলিশ এই কাজ করেছে। অথচ বর্তমানে আধুনিক প্রযুক্তির যুগে যখন দেশ এগিয়ে যাচ্ছে। তখন কিছু মুষ্ঠিমেয় পুলিশ সদস্যের অদক্ষতায় সাধারণ মানুষ হয়রানির মুখে পড়তে হচ্ছে। এজন্য পুলিশ সদস্যগুলোকে আরও দক্ষ করে গড়ে তুলে উন্নত প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে। যাতে করে সাধারণ মানুষ বিড়াম্বনার মধ্যে না পড়ে। এজন্য আরও সতর্ক হতে হবে পুলিশকে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ