ভবন ভাঙা মুচলেকা দিয়ে আবারো সময় চায় বিজিএমইএ

আপডেট: এপ্রিল ২, ২০১৮, ১২:১৭ পূর্বাহ্ণ

সোনার দেশ ডেস্ক


হাতিরঝিলে বিজিএমইএ ভবন ভাঙতে পোশাক শিল্পমালিকদের এক বছর সময়ের আবেদন বিবেচনার ক্ষেত্রে শর্ত দিয়েছেন হাইকোর্টের আপিল বিভাগ। আর কোনো সময় চাওয়া হবে নাÍ এ মর্মে বিজিএমইএকে মুচলেকা দিতে বলেছেন আদালত। সে অনুযায়ী বিজিএমইএর পক্ষ থেকে আজ মুচলেকা দেয়া হবে বলে সংগঠনের নেতারা জানিয়েছেন।
ভবন ভাঙতে বিজিএমইএর করা এক বছরের সময় আবেদনের ওপর গতকাল আদেশ দেয়ার দিন ধার্য ছিল। প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বাধীন চার বিচারপতির আপিল বেঞ্চ এদিন বলেন, বিজিএমইএ মুচলেকা জমা দিলে তারপর তাদের সময়ের আবেদনের বিষয়ে আদেশ দেয়া হবে।
আদালতের এ মন্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে গতকাল বিকালে বোর্ডসভায় বসেন বিজিএমইএ নেতারা। সভায় মুচলেকা দেয়ার বিষয়ে ঐকমত্যে পৌঁছেন তারা। সভাশেষে বিজিএমইএ সভাপতি মো. সিদ্দিকুর রহমান সাংবাদিকদের বলেন, আমরা আদালতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। এ ভবন ছেড়ে নিজস্ব ভবনে আমাদের চলে যেতে হবে। উত্তরা ১৭ নং সেক্টরে আমরা জমি নিয়েছি। সেখানে নির্মাণকাজও দ্রুত এগিয়ে চলছে। এ অবস্থায় আদালতের কাছে যখন প্রথম আবেদন করেছিলাম, তখন তিন বছরের সময় চেয়েছিলাম। সেখানে আদালত আমাদের ছয় মাসের সময় দিয়েছিলেন। দ্বিতীয় পর্যায়ে আবার যখন এক বছরের সময় চেয়ে আবেদন করলাম, তখন আদালত আমাদের সাত মাসের সময় দেন। সে অনুযায়ী ভবন ভাঙতে আগামী ১২ এপ্রিল পর্যন্ত আমাদের হাতে সময় আছে।
বিজিএমইএ সভাপতি আরো বলেন, আদালত বলেছেন, আমরা যেহেতু দুবার সময় বাড়িয়ে নিয়েছি, ভবিষ্যতে আর যাতে বাড়াতে না চাই, সেজন্য বিজিএমইএ থেকে আদালত আন্ডারটেকিং (মুচলেকা) চান। জরুরি বোর্ডসভায় আদালতের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে আমরা আন্ডারটেকিং দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আগামীকাল (আজ) সকালে আদালতে আন্ডারটেকিং দাখিল করা হবে।
মুচলেকায় এবার কতদিনের সময় চাওয়া হবে? এমন প্রশ্নের উত্তরে সিদ্দিকুর রহমান বলেন, আমরা এক বছর চেয়েছিলাম। এক বছরই চাইব। আদালত না দিলে, তখনকারটা তখন দেখা যাবে। তবে এ শিল্পের অবদান ও ৪০ লাখ শ্রমিকের কথা বিবেচনায় নিয়ে আদালত অবশ্যই এটা বিবেচনা করবেন বলে আমরা আশা করি।
এক বছরের মধ্যে নতুন ভবনের কাজ শেষ না হলে কী করবেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, ভাড়া ভবনে যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই। কারণ ভাড়া ভবনে যাওয়ার চেষ্টা আমরা আগেই করেছিলাম। যেহেতু বিজিএমইএতে আমরা শ্রমসংক্রান্ত আরবিট্রেশন করি, অনেক সময় শ্রমিকরা এখানে আসেন, সেজন্য কেউ আমাদের ভবন ভাড়া দিতে রাজি হননি। সামনে বৃষ্টির মৌসুম, যদি আবহাওয়া ভালো থাকে, তাহলে আশা করি দুই-তিনটি ফ্লোর করে আমরা শিফট করে যেতে পারব। আমরা চেষ্টা করব এক বছরের মধ্যে নিজস্ব ভবনে যাওয়ার।

ভবন ভাঙতে সময় আবেদনের ওপর বিজিএমইএর পক্ষে গতকাল শুনানি করেন কামরুল হক সিদ্দিকী ও ইমতিয়াজ মঈনুল ইসলাম। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম।
ভবন ভাঙতে শেষ এক বছরে বিজিএমইএ কী পদক্ষেপ নিয়েছে জানতে চাইলে বিজিএমইএর আইনজীবী কামরুল হক সিদ্দিকী আদালতকে বলেন, তারা ১১০ কাঠা জমি কিনেছেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে আদালত বলেন, এভাবে তো পাঁচ বছর লাগবে। কারণ এখন বলছেন, পাইলিং হচ্ছে। কয়দিন পর বলবেন বেজমেন্ট হচ্ছে।
জবাবে কামরুল হক সিদ্দিকী বলেন, বেশি সময় লাগবে না। এরপর প্রধান বিচারপতি বলেন, তাহলে আপনাদের আন্ডারটেকিং দিতে হবে যে, আর সময় চাইবেন না। তাহলে আমরা বিবেচনা করতে পারি। কামরুল হক সিদ্দিকী তাতে সম্মতি জানালে আদালত আদেশ অপেক্ষমাণ রাখেন।
হাতিরঝিলে ১৯৯৮ সালে ভবন নির্মাণের কাজ শুরু করে বিজিএমইএ। নির্মাণশেষে ২০০৬ সালে ১৬ তলা ভবনটি উদ্বোধন করা হয়। ভবনটি অবৈধ উল্লেখ করে একটি ইংরেজি দৈনিকে প্রতিবেদন প্রকাশ হলে ২০১০ সালে স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে রুল দেন হাইকোর্ট। ২০১১ সালের ৩ এপ্রিল বিচারপতি এএইচএম শামসুদ্দিন চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন হাইকোর্ট বেঞ্চ বেআইনিভাবে গড়ে তোলা বিজিএমইএ ভবন ভেঙে ফেলার রায় দেন। রায়ে বিজিএমইএকে নিজস্ব অর্থায়নে ভবনটি ভাঙতে বলা হয়। ভবনটি নির্মাণের আগে ওই স্থানের ভূমি যে অবস্থায় ছিল, সে অবস্থায় ফিরিয়ে দিতেও বলা হয় রায়ে। আপিল বিভাগও হাইকোর্টের রায় বহাল রাখেন। বিজিএমইএ রায় পুনর্বিবেচনার (রিভিউ) আবেদন করলে তাও খারিজ করে দেন আদালত। পাশাপাশি ভবন ভাঙতে কত দিন সময় লাগবে তা জানিয়ে বিজিএমইএকে নির্দেশ দেন। বিজিএমইএ কর্তৃপক্ষ ভবন সরাতে তিন বছর সময় চেয়ে আবেদন করে। এরপর ২০১৭ সালের ১২ মার্চ আপিল বিভাগ আবেদন নিষ্পত্তি করে ভবন সরাতে ছয় মাস সময় দেন। গত বছরের ৮ অক্টোবর ভবনটি ভাঙতে আবারও সাত মাস সময় দেন আপিল বিভাগ। আদেশে বলা হয়, এটাই শেষ সুযোগ। আর সময় দেয়া হবে না। কিন্তু চলতি বছরের ৫ মার্চ ভবনটি ভাঙতে আরো এক বছর সময় চেয়ে আবেদন করে বিজিএমইএ কর্তৃপক্ষ। তথ্যসূত্র: বণিক বার্তা

Don`t copy text!