ভারতে নারী কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক হলেন পুরুষ থেকে নারী হওয়া অপ্সরা অমিতাভ ভট্টশালী বিবিসি, কলকাতা

আপডেট: জানুয়ারি ১১, ২০১৯, ১২:৫২ পূর্বাহ্ণ

সোনার দেশ ডেস্ক


ভারতের কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গান্ধী পুরুষ থেকে নারী হয়ে ওঠা অপ্সরা রেড্ডিকে দলের নারী শাখায় এক গুরুদাায়ত্ব দিয়েছেন।
তাকে মঙ্গলবার জাতীয় নারী কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক পদে নিয়োগ করেন মি. গান্ধী। অপ্সরা রেড্ডির সঙ্গে একটি ছবি তুলে এই ঘোষণা নিজেই দিয়েছেন কংগ্রেস সভাপতি।
এই প্রথম ভারতের কোনও জাতীয় রাজনৈতিক দলে গুরুত্বপূর্ণ পদে আসীন হলেন এক রূপান্তরী নারী।
তবে কংগ্রেসে যোগ দেয়ার আগে মিজ রেড্ডি তামিলনাডু ভিত্তিক রাজনৈতিক দল এ আই এ ডি এম কে-র মুখপাত্র ছিলেন।
জাতীয় নারী কংগ্রেসের সভানেত্রী সুস্মিতা দেব বিবিসি বাংলাকে বলছিলেন, “অপ্সরার সঙ্গে আমার কলকাতাতেই কয়েক মাস আগে আলাপ হয়। ওর রাজনৈতিক চিন্তাভাবনার স্বচ্ছতা খুব পছন্দ হয়েছিল। তখনই ওকে কংগ্রেসে আসতে আহ্বান জানাই। এরপরে রাহুল গান্ধীর সঙ্গেও ওর ব্যাপারে কথা বলি।”
“মি. গান্ধী সঙ্গে সঙ্গেই বলেন যে রূপান্তরকামীদেরও দলে জায়গা দেয়ার প্রয়োজন আছে। তারপরেই মঙ্গলবার রাহুল গান্ধীর সামনে অপ্সরা দলে যোগ দিয়েছেন।”
মিজ রেড্ডি একজন সাংবাদিক। বিবিসি ওয়ার্ল্ড সার্ভিস সহ ভারতের বেশ কয়েকটি জনপ্রিয় ইংরেজি দৈনিকে সাংবাদিক এবং সম্পাদকের দায়িত্ব সামলিয়েছেন তিনি।
“আমি দীর্ঘদিন সাংবাদিকতা করার সময় থেকেই নানা ধরনের অ্যাক্টিভিজমের সঙ্গেও যুক্ত ছিলাম। সবসময়েই মনে হত যে আরও বড় কিছু করতে হলে রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম দরকার – যেখানে আমি বৃহত্তর সমাজের জন্য নীতিগত কিছু বদল ঘটাতে পারব” – বিবিসি বাংলাকে দেয়া এক সাক্ষাতকারে বলছিলেন অপ্সরা রেড্ডি।
“সেই জায়গা থেকেই এ আই এ ডি এম কে দলে গিয়েছিলাম। তারা একটা দ্রাবিঢ় সংগঠন হয়েও আমাকে যে জায়গা দিয়েছিল, এরকম একটা মূলস্রোতের জায়গায় একজন রূপান্তরীকে গ্রহণ করেছে, সেটা নিঃসন্দেহে বড় ব্যাপার” – বলেন তিনি।
তিনি বলছিলেন, অনেকেই বলত যে ভারতে থেকে এধরনের কর্মকা- চালানো কঠিন, লোকে হাসবে তাকে দেখে। বিদেশে চলে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছিল অনেকে।
কিন্তু চ্যালেঞ্জটা গ্রহণ করে একদিকে যেমন সাংবাদিকতা চালিয়ে গেছেন, তেমনই রূপান্তরকামীদের অধিকার নিয়ে সারা দেশে দৌড়িয়ে বেরিয়েছেন অপ্সরা রেড্ডি।
তার কাছে জানতে চেয়েছিলাম, কংগ্রেস যদিও এক রূপান্তরীকে নেতৃত্বে এনেছে, কিন্তু জাতীয় স্তরের অন্য কোনও রাজনৈতিক দল কেন এগিয়ে আসে নি? এমনকি ‘প্রগতিশীল দল’ বলে পরিচিত বামপন্থীরাও নয়!
মিজ রেড্ডি বলছিলেন, “রাহুল গান্ধী নতুন প্রজন্মের নেতা, তাই তিনি একটা সাহসী পদক্ষেপ নিয়েছেন। আশা করব অন্য দলগুলোও এবার এই পথ অনুসরণ করবে। কিন্তু তার আগে ভাবা দরকার রূপান্তরকামী কেন, নারীদের নিয়েও বা আদৌ কতটা ভাবে রাজনৈতিক দলগুলো? বিজেপি বা আর এস এসকেই দেখুন না! কজন নারী আছেন সেখানে?”
নিজেদের গোষ্ঠীর মধ্যে থেকে একজন জাতীয় রাজনৈতিক দলের গুরুত্বপূর্ণ পদে আসীন হওয়ায় খুশি রূপান্তরকামীরা।
রূপান্তরী নারী ও অ্যাক্টিভিস্ট রঞ্জিতা সিনহা বলছিলেন, “কংগ্রেসের মতো দলে ওর এই পদ পাওয়া নিসন্দেহে রূপান্তরকামীদের কাছে একটা বড় পাওয়া। আমরা নাচ, গান, শিক্ষা বা অধ্যাপনার মতো বিভিন্ন ক্ষেত্রে মাথা তুলে দাঁড়াচ্ছি। সেরকমই রাজনীতিও যে আমরা বুঝি, সেই জায়গাটাকেই সম্মান দিল কংগ্রেস দল।”
মিজ সিনহা আরও বলছিলেন যে, নীতি প্রণয়ণের মতো গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রগুলোতেও রূপান্তরকামীরা যে থাকতে পারে, নিজেদের গোষ্ঠীর জন্য লড়তে পারে, সেই ব্যবস্থাই করা উচিত সব দলের, সব সরকারের।
তথ্যসূত্র: বিবিসি বাংলা