ভারতে ‘সেলফি তুলতে পানিতে নেমে’ ৪ জনের মৃত্যু

আপডেট: অক্টোবর ৯, ২০১৯, ১২:১০ পূর্বাহ্ণ

সোনার দেশ ডেস্ক


তামিল নাডুতে বাঁধের জলাধারে সেলফি তুলতে নেমে নববিবাহিত এক নারী ও তার পরিবারের ৩ সদস্য ডুবে মারা গেছেন বলে ভারতের দক্ষিণাঞ্চলীয় রাজ্যটির পুলিশ জানিয়েছে।
নিহত চারজনসহ ওই পরিবারের ছয় সদস্য পাম্বার বাঁধের কাছে ওই জলাধারে নেমে কোমর পানিতে একে অপরের হাত ধরে দাঁড়িয়ে ছিলেন; এদের মধ্যে একজন পা পিছলে পড়ে গেলে অন্যরাও ডুবে যান।
নববিবাহিত স্বামী কেবল বোনকে বাঁচাতে পারলেও বাকিরা ভেসে যান বলে স্থানীয়দের বরাত দিয়ে জানিয়েছে বিবিসি।
ভারতে সেলফি তুলতে গিয়ে মৃতের সংখ্যা বিশ্বের মধ্যে সর্বোচ্চ।
মার্কিন ন্যাশনাল লাইব্রেরি অব মেডিসিনের তথ্য অনুযায়ী, ২০১১ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত বিশ্বজুড়ে যে ২৫৯ জনের মৃত্যুর পেছনে নিজেই নিজের ছবি তোলা বা সেলফিকে দায়ী করা হয় তার অর্ধেকই ঘটেছে ভারতে। এরপর রাশিয়া, যুক্তরাষ্ট্র ও পাকিস্তানের অবস্থান।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম হিন্দু জানিয়েছে, রোববার তামিল নাডুতে কৃষ্ণাগিরির বারগুরের নববিবাহিত ওই বর-কনে এবং বরের বোন উথানগারাইয়ে তাদের আত্মীয়ের বাড়িতে বেড়াতে যান। বাঁধের জলাধারে তাদের সঙ্গে আত্মীয় তিন ভাই-বোনও নামে।
কোমর পানিতে দাঁড়িয়ে সেলফি তোলার সময় ১৪ বছর বয়সী ছোট ভাই পা পিছলে পড়ে গেলে তার টানে ১৮ ও ১৯ বছরের দুই বোন নববিবাহিত ওই নারী ও তার স্বামীর বোনকে নিয়ে ডুবে যান।
নববিবাহিত নারীটির স্বামী শেষ পর্যন্ত বোনকে উদ্ধার করতে পারলেও বাকিরা ভেসে যান। পরে ওই চারজনের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয় বলে পুলিশ জানিয়েছে।
চলতি বছরের মে মাসে হরিয়ানায় তিন কিশোর রেললাইনে সেলফি তুলতে গিয়ে ট্রেনের নিচে কাটা পড়েছিল; ২০১৭ সালে ওড়িষায় হাতির শুঁড় শরীরে পেঁচিয়ে ছবি তুলতে গিয়েও এক ব্যক্তি মারা গিয়েছিলেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বন্ধু ও অনুসারীদের চমকে দিতে অনেকেই অপ্রয়োজনীয় ঝুঁকি নিয়ে ছবি তুলতে গিয়ে এ ধরনের দুর্ঘটনায় পড়েন, বলছেন বিশেষজ্ঞরা।
২০১৭ সালে কর্নাটকে ৪ শিক্ষার্থীর মৃত্যুর পর দক্ষিণপশ্চিমাঞ্চলীয় রাজ্যটি ‘সেলফি মেরে ফেলতে পারে’ শীর্ষক এক সচেতনতা কর্মসূচিও শুরু করেছিল।
তথ্যসূত্র: বিডিনিউজ