ভারত, মিয়ানমার সীমান্তজুড়ে হবে নতুন সড়ক

আপডেট: মার্চ ২১, ২০১৮, ১২:২০ পূর্বাহ্ণ

সোনার দেশ ডেস্ক


দেশের পার্বত্য অঞ্চল ঘিরে থাকা ভারত ও মিয়ানমারের সঙ্গে ৫৪০ কিলোমিটার সীমান্তের মধ্যে ৩১৭ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে সড়ক নির্মাণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।
এজন্য মঙ্গলবার জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় একহাজার ৭০০ কোটি টাকা ব্যয়ে “সীমান্ত সড়ক (রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান পার্বত্য জেলা) নির্মাণ প্রকল্প ১ম পর্যায়” শীর্ষক একটি প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে শেরেবাংলা নগরের এনইসি সম্মেলনকক্ষে অনুষ্ঠিত সভায় সর্বমোট ৯ হাজার ৬৮০ কোটি টাকা ব্যয়ে মোট ১৬টি উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন দেয়া হয়।
সভার পরে সংবাদ সম্মেলনে পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেন, “প্রধানত দেশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি চোরাচালান ও অবৈধ ব্যবসা রোধ করার উদ্দেশ্যেই এ প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হবে।”
“বান্দরবান জেলার নাইক্ষ্যংছড়ি, রাঙ্গামাটির জুরাইছড়ি, বড়কল ও রাজস্থলি খাগড়াছড়ির বাঘাইছড়ি এবং কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলায় এসব নতুন রাস্তা নির্মাণ করা হবে।”
এ প্রকল্পের মধ্যে যেসব সড়ক থাকছে তা হলো-
>> উখিয়া-আশারতলী-ফুলতলী এলাকাজুড়ে ৪০ কিলোমিটার
>> সাজেক-শিলদাহ-বেতলিং এলাকাজুড়ে ৫২ কিলোমিটার
>> সাজেক-দোকানঘাট-থেগামুখ এলাকাজুড়ে ৯৫ কিলোমিটার
>> থেগামুখ-লৈতংপাড়া-থাচ্চি-দুমদুমিয়া-রাজস্থলি এলাকাজুড়ে ১৩০ কিলোমিটার
প্রকল্পটির কার্যপত্রে দেখা যায়, পার্বত্য জেলাগুলোর সীমান্ত বরাবর নিরাপত্তা বাহিনীর মাধ্যমে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নয়নের মধ্য দিয়ে সীমান্তের দুই পাশের মাদক, অস্ত্র ও মানব পাচারসহ সার্বিক চোরাচালান রোধ করা এই প্রকল্পের অন্যতম উদ্দেশ্য।
পাশাপাশি পার্শ্ববর্তী দেশের সঙ্গে যোগাযোগের মাধ্যমে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়াতে ব্যবসা বাণিজ্যের সম্প্রসারণ, সীমান্ত এলাকার জনসাধারণের কর্মসংস্থান সৃষ্টি, পার্বত্য এলাকার কৃষিজাত পণ্য অন্য এলাকায় বাজারজাতকরণের সুবিধার সঙ্গে পার্বত্য এলাকায় দেশি ও বিদেশি পর্যটকের যাতায়াত ব্যবস্থার উন্নয়নও প্রকল্পটির উদ্দেশ্য।
অন্য প্রকল্পগুলো হলো-
>> ৩ হাজার ৩৫২ কোটি টাকা ব্যয়ে পায়রা গভীর সমুদ্র বন্দরের কার্য়ক্রম পরিচালনার লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো/সুবিধাদির উন্নয়ন
>> ৫৫৮ কোটি টাকা ব্যয়ে ঢাকা জেলা মহাসড়ক যথাযথ মান ও প্রশস্ততায় উন্নীত করণ
>> ৮০ কোটি টাকা ব্যয়ে ভবেরচর-গজারিয়া-মুন্সিগঞ্জ জেলা মহাসড়ক (জেড-১০৬৩) যথাযথ মান ও প্রশস্ততায় উন্নীতকরণ
>> ৫৪৭ কোটি টাকা ব্যয়ে সিলেট সিটি কর্পোরেশনের অবকাঠামো নির্মাণ
>> ২৫০ কোটি টাকা ব্যয়ে জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা কার্য়ালয়ের ২০ তলা ভিতবিশিষ্ট ২টি বেজমেন্টসহ ১০ তলা (সংশোধিত ২০ তলা) প্রধান কার্যালয় নির্মাণ
>> ২১৯ কোটি টাকা ব্যয়ে নোয়াখালী সদরে সরকারি কর্মকর্তা/কর্মচারীদের জন্য আবাসিক ভবন নির্মাণ
>> ৯২ কোটি টাকা ব্যয়ে বাংলাদেশ ডাক অধিদপ্তরের সদর দপ্তর নির্মাণ
>> ৫২৩ কোটি টাকা ব্যয়ে ভোলার চরফ্যাশন উপজেলাধীন তেতুলিয়া নদীর ভাঙন থেকে বকসী লঞ্চঘাট-বাবুর হাট লঞ্চঘাট প্রতিরক্ষা ও ড্রেজিং এবং কুকরী-মুকরী দ্বীপ বন্যা নিয়ন্ত্রণ
>> ৪৩৩ কোটি টাকা ব্যয়ে মেঘনা নদীর ভাঙন থেকে ভোলা জেলার লালমোহন উপজেলাধীন লর্ড হার্ডিঞ্জ ও ধলী গৌর নগর বাজার রক্ষা
>> ৮৯ কোটি টাকা ব্যয়ে নোয়াখালী জেলার হাতিয়া ও স্বর্ণচর উপজেলাধীন স্বর্ণদ্বীপ (জাহাজ চর) মেঘনা নদীর ভাঙন থেকে রক্ষাকল্পে নদী তীর সংরক্ষণ
>> ১১০ কোটি ৫০ লাখ টাকা ব্যয়ে বিএডিসির উদ্যান উন্নয়ন বিভাগের সক্ষমতা বৃদ্ধির মাধ্যমে উদ্যান জাতীয় ফসল সরবরাহ ও পুষ্টি নিরাপত্তা উন্নয়ন
>> ৪২০ কোটি টাকা ব্যয়ে এক্সপানসন অব ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস অ্যান্ড হসপিটাল
>> ২৭৯ কোটি টাকা ব্যয়ে বাংলাদেশ ভূমি জরিপ শিক্ষার উন্নয়ন
>> ১১৬ কোটি টাকা ব্যয়ে বাংলাদেশ সরকারের জন্য নিরাপদ ই-মেইল ও লিটারেসি সেন্টার স্থাপন
>> ৯১৩ কোটি টাকা ব্যয়ে ঢাকায় শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউট স্থাপন।
তথ্যসূত্র: বিডিনিউজ