ভারেত তিন তালাকের অবসান নারীর অধিকার ও মর্যাদার সুরক্ষা

আপডেট: আগস্ট ১, ২০১৯, ১২:০৪ পূর্বাহ্ণ

ভারতে তিন তালাকের অবসান হলো। দেশটির পার্লামেন্টের উচ্চকক্ষ রাজ্যসভায় বিলটি ৩০ জুলাই উঠলে পক্ষে ৯৯ জন এবং বিপক্ষে ৮৪ জন সাংসদ ভোট দেন। রাজ্যসভায় পাস হওয়ার পর এখন তিন তালাক বিলটি পাঠানো হবে রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দের কাছে। তিনি তাতে স্বাক্ষর করলেই সেটি আইনে পরিণত হবে। এর মাধ্যমে তাৎক্ষণিক তিন তালাক প্রথা ফৌজদারি অপরাধ বলে গণ্য হবে। সেক্ষেত্রে স্ত্রীকে তিন তালাক দিলে তিন বছরের কারাদ- হবে স্বামীর। এ সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন দৈনিক সোনার দেশ পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে।
তিন তালাক প্রথার সাথে নারীর অমর্যাদা, অবমাননা- একই সাথে নিরাপত্তাহীনতার প্রশ্নটি ওতপ্রোতভাবে জড়িত। সমাজে এই প্রশ্নটি শত শত বছর ধরেই চলে আসছে। কিন্তু ধর্মীয় গোঁড়ামির কারণে এর সমাধান অসাধ্যই ছিল। তিন তালাকের মধ্য দিয়ে পুরুষ নারীর উপর একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তারের অধিকার ভোগ করে আসছিল। তালাক একটি ধর্মীয় বিধান হলেও অধিকাংশ ক্ষেত্রেই এর অপপ্রয়োগ হয়ে থাকে। ভারতে আইনটির যখাযথ প্রয়োগে তার অবসান হবে। পুরুষের একচেটিয়া আধিপত্য বিস্তারের প্রবণতা হ্রাস পাবে এবং নারীর মর্যাদা আইনিভাবে সুরক্ষিত হবে।
পার্লামেন্টের উচ্চকক্ষ রাজ্যসভায় বিলটি পাশের বিষয়টি নিয়ে পক্ষে বিপক্ষে মত থাকতেই পারে। এমনকি এটির পেছনে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যও কেউ কেউ অন্বেষণ করতে পারেন। কিন্তু এটা তো অস্বীকার করার উপায় নেই যে, পুরুষ তালাকের একচ্ছত্র আধিপত্য অর্থাৎ এক দুই তিন বার তালাক উচ্চারণ করলেই সেই স্ত্রী দাম্পত্য জীবনের সব অধিকার হারিয়ে বসেÑ এটা ধর্মের সাথেও সাংঘর্ষিক। তালাক দেয়ার ক্ষেত্রে ধর্মীয় বিধানের অপপ্রয়োগ হয়েছে নির্বিচারভাবে। এমন উদাহরণ কম নেই যে, ৪০/৫০ বছর একই ছাদের নিচে দাম্পত্য জীবন কাটানোর পরেও ওই তিন তালাকের শিকার হয়ে নারীকে শুন্য হাতে বাড়ি ছেড়ে অনিশ্চয়তার জীবন কাটাতে হয়েছে। এটা যেমন নির্মমতা- তেমনি মানবাধিকারের সর্বোচ্চ লঙ্ঘনও বটে। একটি সভ্য সমাজে এ ধরনের প্রবণতা থাকা মোটেও বাঞ্ছনীয় নয়। নিশ্চিতভাবেই বলা যায়, ভারতের অধিকাংশ মুসলিম নারী তালাকের অবসানের অপেক্ষায় ছিলেন। এটচা তাদের দাবিও ছিল। এর সুফল ভারতের সব মুসলিম নারীর্ াভোগ করবেন।
দীর্ঘদিন থেকে চলে আসা একটি প্রথাকে অভ্যস্থ মানুষ সহজেই পরিত্যাগ করতে পারে না বা করতে চায় নাÑ এমনকি কোনো ব্যক্তির জীবনে তালাকের মত ঘটনা ঘটার কোনো সুযোগই হয়ত নেই, সেই তিনিও ধর্মী জ্ঞান স্বল্পতার কারণে ওই প্রথাকেই সমাজে টিকিয়ে রাখতে চায়। এমন মানুষের সংখ্যাও কম নয়। তবে এই পরিবর্তন ভারতে মুসলিম নারীদের অমর্যাদা, অবমাননা ও নিরাপত্তাহীনতা থেকে অনেকটাই সুরক্ষা দিবে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ