ভালোবাসার রঙে রাঙলো নগরী

আপডেট: ফেব্রুয়ারি ১৫, ২০১৮, ১২:৪২ পূর্বাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক


দারিদ্র যতই কঠিন হোক, ভালবাসাতো কোমল! -সোনার দেশ

বসন্তের দ্বিতীয় দিন ভালোবাসার রঙ ছড়িয়ে পড়লো প্রকৃতিতে। আর এ রঙে রাঙলো নগরী। তরুণ-তরুণী এ রঙ মেখে নিলো তাদের মনে ও মগজে। ভালোবাসায় ভরে তুললো একটি অনবদ্য ব্যতিক্রম দিন। সকাল থেকেই এ উৎসবের রঙে রাঙাতে ছুটে চললো তরুণ-তরুণীরা। রিকশায়, অটোরিকশায়, হেঁটে ঘুরে বেড়ালো নগরীর এক প্রান্ত থেকে আরেক প্রান্তে। ঢুঁ মারলো বিনোদন স্পটগুলোতে। নিজেকে সাজিয়ে তুললো হলুদ-লাল ও কমলা রঙের পোশাকে। এ যেন প্রকৃত অর্থেই ভালোবাসা দিবসের উদযাপন।
তবে ভালোবাসা কি শুধুই একটি দিনের জন্য? নাকি বছরের প্রতিটি দিন, প্রতিটি ক্ষণই ভালোবাসার, কিংবা ভালোবাসা কি শুধুই প্রেমিক-প্রেমিকার নিজস্ব ব্যাপারএরকম নানা প্রশ্ন আমাদের মনের ভেতর উঁকি মারে। তাইতো রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বলেছিলেন, ‘সখী, ভাবনা কাহারে বলে/ সখী, যাতনা কাহারে বলে/ তোমরা যে বলো দিবসও রজনী ভালোবাসা, ভালোবাসা/ সখী, ভালোবাসা কারে কয়?’
ভালোবাসা নিয়ে যত প্রশ্নই থাকুক, ভালোবাসার আনন্দে অবগাহন করছে তরুণ-তরুণীরা। তাইতো দিবসটিকে উদযাপন করতে বিনোদনস্পট, চাইনিজ রেস্টুরেন্ট, পার্ক ও পদ্মার চরে ভিড় ছিলো তরুণ-তরুণীদের। এছাড়া নানা বয়সির মানুষদেরও দেখা যায় দিবসটিকে উদযাপন করতে।
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী তন্ময়, রিফাত, তনু ও আদিবা বলছিলেন, ভালোবাসা শুধু একটি দিনের জন্যই নয়, সারা বছরের প্রতিটি দিন, প্রতিটি ক্ষণই ভালোবাসার জন্য। তবে একটি দিনে স্পেশাল কিছু করতে ভালো লাগে। প্রিয় মানুষকে উপহার দিতে কিংবা পেতে আনন্দ লাগে। তাই বন্ধুদের সঙ্গে এই ঘুরাঘুরি।
‘কাজের চাপে প্রিয় মানুষকে বেশি সময় দেয়া যায় না। ভালোবাসা দিবস সেই সুযোগটা করে দিয়েছে। ছুটি না থাকলেও অফিসে আগে বলে বের হওয়া যায়। তারপর একসঙ্গে ঘুরাফেরা, খাওয়া-দাওয়া।’ বলছিলেন ব্যাংকার আসিফ ইমতিয়াজ। আর ভালোবাসা যে শুধু প্রেমিক- প্রেমিকার ভালোবাসা নয়। প্রেমিক- প্রেমিকার বাইরেও যেকোনো মানুষের মধ্যে তৈরি হতে পারে ভালোবাসা। তারাও উপভোগ করতে পারে সম্পর্কের ধরনÑবলছিলেন রাজশাহী কলেজের শিক্ষার্থী সাযযাদ কাদির।
তবে ভালোবাসার শক্তিকে অন্যভাবে ব্যাখ্যা করলেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ফজলে রাব্বি। তিনি বলেন, ১৯৮৩ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি তৎকালীন স্বৈরাচার হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের পেটোয়া বাহিনীর গুলিতে নিহত হন শিক্ষার দাবিতে আন্দোলনরত বেশ কয়েকজন ছাত্র-ছাত্রী। তারপর থেকে প্রতিবছর ১৪ ফেব্রুয়ারি স্বৈরাচার প্রতিরোধ দিবস হিসেবে পালিত হয়ে আসছে। কিন্তু ১৯৯২ সাল থেকে কর্পোরেট পুঁজি এই দিবসটি ছাত্রছাত্রীদের মধ্য থেকে সরিয়ে ভালোবাসা দিবসের প্রতিস্থাপন ঘটায়। ফলে ভালোবাসার যে সত্যিকার তাৎপর্য তা-ও হারিয়ে যায়। আমরা শিক্ষার দাবিতে নিহত শিক্ষার্থীদের প্রতি ভালোবাসা হারিয়ে ফেলি। তাই ভালোবাসার শক্তি সেটাই সব রকমের অপমান, নির্যাতন সহ্য করে দেশের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হওয়া, দেশকে ভালোবাসা।
এছাড়া ভালোবাসা দিবস উপলক্ষে বিভিন প্রতিষ্ঠানে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের বিশেষ আয়োজন করা হয়। দিবসটি উপলক্ষে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রেমবঞ্চিত ছাত্ররা প্রেমিকা চেয়ে মিছিলও করে।