ভিজিডির চাল ওজনে কম দেয়ার অভিযোগে চেয়ারম্যানের অপসারণ দাবি

আপডেট: মে ১, ২০১৭, ৪:২৮ পূর্বাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক


ভিজিডির চাল ওজনের কম দেয়ার অভিযোগে রাজশাহীর চারঘাট উপজেলার ইউসুফপুর ইউপি চেয়ারম্যান শফিউল আলম রতনের অপসারণের দাবিতে মানবন্ধন করেছে ইউনিয়নটির নারী-পুরুষ। গতকাল রোববার  দুপুর বারোটার দিকে চারঘাট বাজার ¯¬ুইস গেটে এ মানবন্ধন কর্মসুচী পালন করা হয়। ওই ইউনিয়নের কয়েকশ নারী-পুরুষ মানববন্ধনে অংশগ্রহণ করে চেয়ারম্যানের অপসারণ দাবি করেন।
মানববন্ধন কর্মসুচীতে অংশগ্রহনকারীদের অভিযোগ, গত বৃহস্পতিবার ইউসুফপুর ইউপি চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি শফিউল আলম রতন প্রতিটি কার্ডধারী দুস্থ নারীদের ৩০ কেজি করে চাল দেয়ার বিধান থাকলেও মাত্র ২২ কেজি করে চাউল বিতরণ করেছেন। বাকি চাল কয়েকজন ইউপি সদস্যকে সাথে নিয়ে চেয়ারম্যান রতন আত্মসাত করেছেন বলে অভিযোগ করেন মানববন্ধন কর্মসুচীতে অংশগ্রহণকারী নারী-পুরুষ।
ওই ইউনিয়নের জয়পুর গ্রামের আখি বেগম, রেজিনা খাতুন, ফেরদৌসী বেগম অভিযোগ করে বলেন, বৃহস্পতিবার সকাল থেকে লাইনে দাঁড়িয়ে ভিজিডির টালের জন্য অপেক্ষা করছিলাম। এ সময় ৩০ কেজি চাউলের বদলে আমাকে দেয়া হয়েছে মাত্র ২২ কেজি। প্রতিবাদ করেও কোন কাজ হয়নি।
বাদড়িয়া গ্রামের বিজলী, রুবিনা ও জেসমিন আখতার জানান, ভিজিডির চাল ৩০ কেজি দেয়ার কথা থাকলেও আমাদের দেয়া হয়েছে মাত্র ২২ কেজি। বাকি চাল চেয়ারম্যান ও তার দলবল ভাগ বাটোয়ারা করে নিয়েছেন।
আধা ঘন্টা ধরে রাস্তার দুধারে দাড়িয়ে চলা মানবন্ধন কর্মসুচীর নেতৃত্বে দানকারী ইউপি সদস্য সালামের দাবি, ওজনে চাল কম দিয়ে চেয়ারম্যান দুর্নীতি করেছেন। আমরা এর সুষ্ঠ বিচার চাই।
এ বিষয়ে ইউপি চেয়ারম্যান শফিউল আলম রতন বলেন, ট্যাগ অফিসার উপজেলা মাধ্যমিক সহকারী শিক্ষা অফিসার আবুল কালাম আজাদের উপস্থিতিতে বৃহস্পতিবার সকাল থেকে প্রকৃত কার্ডধারীদের মাঝে ৩০ কেজি করে ভিজিডির চাল বিতরণ করা হচ্ছিল। এ সময় ইউপি সদস্য সালামসহ আরো ২ জন সদস্য অনৈতিকভাবে তাদের আত্মীয় হিসেবে পরিচিত কার্ডের বাইরের কয়েকজন্ চাল দিতে বললে আমি চাল না দেয়ায় তারা আমাকে দেখে নেয়ার হুমকি দেয়। এর প্রেক্ষিতে ষড়যন্ত্র করে মিথ্যাভাবে কয়েকজন লোককে টাকার বিনিময়ে কথিত মানববন্ধন করিয়েছে। এখানে চাল কম দেয়ার  প্রশ্নই আসে না বলে দাবি করেন ইউপি চেয়ারম্যান রতন।
অপরদিকে ইউসুফপুর ইউনিয়নের ভিজিডির চাল বিতরণের দায়িত্বে থাকা ট্যাগ অফিসার উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার আবুল কালাম আজাদ বলেন, সেখানে প্রতিটি কার্ডধারীকে ৩০ কেজি করে চাল বিতরণ করা হয়েছে। এখানে কোন ধরনের অনিয়ম করা হয়েছে বলে আমার জানা নেই। তাছাড়া চাল বিতরণের সময় ওজনে কম দেয়ার অভিযোগ কেউ করে নি বলে দাবি করেন তিনি।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ