ভিশন ২০২১ ও ভিশন ২০৪১ এর আলোকে বিভাগীয় সেমিনারে বক্তারা ‘রাজশাহী অঞ্চলে শিল্পের বিকাশে রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত প্রয়োজন’

আপডেট: আগস্ট ১০, ২০১৮, ১:১২ পূর্বাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক


বিভাগীয় সেমিনারে বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ উপদেষ্টা ড. মশিউর রহমান-সোনার দেশ

রাজশাহী অঞ্চলে শিল্পের বিকাশে রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত প্রয়োজন। দেশের এই অঞ্চল উন্নয়ন বৈষম্যের শিকার। দেশের অন্য অঞ্চলের চেয়ে পিছিয়ে পড়া এই এলাকাকে এগিয়ে নেয়ার জন্য প্রয়োজন রাষ্ট্রের বিশেষ মনোযোগ। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় অর্থ ও পরিকল্পনা উপ কমিটির আয়োজনে ভিশন ২০২১ ও ভিশন ২০৪১ এর আলোকে বিভাগীয় সেমিনার উন্নয়নের রোডম্যাপ- রাজশাহী বিভাগ এ বক্তারা এসব কথা বলেন। কেন্দ্রীয় অর্থ ও পরিকল্পনা উপ কমিটির চেয়ারম্যান ও প্রধানন্ত্রীর অর্থনীতি বিষয়ক উপদেষ্টা ড. মশিউর রহমানের সভাপতিত্বে এবং সদস্য সচিব ও দলের অর্থ ও পরিকল্পনা বিষয়ক সম্পাদক সাংসদ টিপু মুন্সির সঞ্চালনায় সেমিনারে মূল আলোচক ছিলেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ফাইন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগের প্রফেসর রাশেদ কবীর লিখন। সেমিনারে প্রধানমন্ত্রীর অর্থনৈতিক উপদেষ্টা ড. মসিউর রহমান বলেন, সরকার সুষমভাবে দেশের সব স্থানের উন্নয়ন করতে চায়। রাজশাহীর ব্যাপারেও সরকার খুব আন্তরিক। এ সেমিনার থেকে ওঠে আসা এ অঞ্চলের নানা সমস্যা ও দাবির কথা তিনি লিপিবদ্ধ করেছেন। রাজশাহীর উন্নয়নের স্বার্থে বিষয়গুলো নিয়ে সরকার কাজ করবে। আগামি নির্বাচনের মেনিফেস্টোতে এই বিষয়গুলো সন্নিবেশিত হবে। আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় থাকলে দেশের কোনো অঞ্চলই পিছিয়ে থাকবে না বলেও উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রীর এই উপদেষ্টা।
আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় অর্থ ও পরিকল্পনা উপ কমিটির সদস্য সচিব ও দলের অর্থ ও পরিকল্পনা বিষয়ক সম্পাদক সাংসদ টিপু মুন্সি বলেন, এই অঞ্চলের মানুষ জোরে কথা বলতে পারে না। তারা বিনয়ি। এ কারণে নোয়াখালি বা বরিশালের আমলা-মন্ত্রীরা আমাদের কথা শোনে না। এই এলাকার খাদ্যশস্যের ওপর পুরোদেশ নির্ভর করে। এ এলাকায় যে কয়লা রয়েছে তা দেশের ৩০ বছরের জ্বালানি চাহিদা পূরণ করতে পারে। সে কয়লা তুলতে দেয়া হচ্ছে না। আমাদের নিজেদের উন্নয়ন দাবি নিয়ে আরো সোচ্চার হতে হবে। আরো সাহসী হতে হবে।
সংসদ সদস্য ওমর ফারুক চৌধুরী বলেন, এই অঞ্চলে ভূ-গর্ভস্থ পানি ব্যবহার করে চাষাবাদ এই এলাকার জন্য বড় সংকট সৃষ্টি করছে। এ থেকে রক্ষা পেতে পদ্মাসহ এই অঞ্চলের নদীগুলোর নাব্যতার জন্য ক্যাপিটাল ড্রেজিং প্রয়োজন। এর ফলে চলাচলের জন্য নৌপথ ব্যবহার করা যাবে। যাতায়াতের জন্য পঞ্চগড় থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত এবং খুলনা থেকে সিলেট পর্যন্ত বুলেট ট্রেন চালুর দাবি জানান। এতে উন্নয়ন ধারায় প্রভূত উন্নয়ন হবে। দেশে যে রাস্তা নির্মিত হচ্ছে তার স্থায়িত্ব নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। প্রতিটি রাস্তা যাতে অন্তত পাঁচ বছর স্থায়ী হয় সেদিকে নজর দিতে হবে।
বক্তারা বলেন, উত্তরাঞ্চল বরাবরই বঞ্চনার শিকার। রাজনৈতিক সদিচ্ছার অভাবে এ অঞ্চল পিছিয়ে গেছে। নানা দাবি নিয়ে বিভিন্ন সময় আন্দোলন হলেও কোনো সরকারের পক্ষ থেকেই এসবের প্রতিফলন ঘটেনি। ফলে এ অঞ্চলের প্রাকৃতিক পরিবেশও এখন হুমকির মুখে। গড়ে ওঠেনি শিল্প কারখানা। সৃষ্টি হয়নি কর্মসংস্থান। অথচ ভিন্ন চিত্র দক্ষিণাঞ্চলে। এ অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে।
তারা বলেন, দেশের বিভাগগুলোতে উন্নয়নের এমন তফাৎ থাকলে সেটাকে উন্নয়ন বলা যাবে না। সুষমভাবে সব বিভাগের উন্নয়ন হলেই দেশের উন্নয়ন হবে। শরীরের একটা অঙ্গ রোগাক্রান্ত থাকলে যেমন সুস্থ থাকা যায় না, তেমনি দেশের একটা অংশকে পেছনে ফেলে দিয়ে ভিশন-২০২১ এবং ২০৪১ বাস্তবায়ন সম্ভব হবে না। তাই রাজশাহীকেও উন্নয়নের ধারায় যুক্ত করতে হবে। এ জন্য প্রয়োজন রাজনৈতিক সদিচ্ছা। জেলা সদরের সাথে যে লিংক রোড গুলো রয়েছে তা এখনই চার লেনে উন্নীত করতে হবে। রেশম শিল্পের সাথে জড়িত দুই হাজার পলুচাষী এবং ১৩ হাজার তুত চাষীকে সমাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনির মধ্যে আনতে হবে।
রাজশাহী চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি মিলনায়তনে অয়োজিত সেমিনারে বক্তব্য দেন, সংসদ সদস্য ওমর ফারুক চৌধুরী, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আলী সরকার, জেলা আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান, মহানগর আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ডাবলু সরকার, চেম্বার অব কমার্স অ্যন্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি মনিরুজ্জামান মনি, বাংলাদেশ রেশম শিল্প মালিক সমিতির সভাপতি লিয়াকত আলী, বাংলাদেশ রেশম উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী পরিচালক আব্দুল হাকিম, জাতীয় মহিলা সংস্থার চেয়ারপার্সন মর্জিনা পারভীন, কর কমিশনার আব্দুল মান্নান সরকার, উইমেন চেম্বার অব কমার্স ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি অঞ্জুমান আরা, মহানগর বঙ্গবন্ধু পরিষদ সাধারণ সম্পাদক আরিফুল হক কুমার ও সোনার দেশের সহকারী সম্পাদক রাশেদ রিপন।