ভুল করেছেন রেফারি, ক্ষমা চাইলেন স্টার্লিং

আপডেট: নভেম্বর ৯, ২০১৮, ১২:২৩ পূর্বাহ্ণ

সোনার দেশ ডেস্ক


দ-িতের সাথে দ-দাতা কাঁদে যবে সমান আঘাতে, সর্বশ্রেষ্ঠ সে বিচার। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কবিতার এই পংক্তির মতো ঠিক নয়। তবে অনেকটা এ রকমই। গতবুধবার রাতে বিতর্কিত এক পেনাল্টির সিদ্ধান্ত দিয়েছেন রেফারি। যার পক্ষে তিনি হাস্যকর পেনাল্টিটা দিয়েছেন, সেই রাহিম স্টার্লিং ক্ষমা চাইলেন রেফারির কাছে! মানে ভুল করেছেন রেফারি, তার কাছেই ক্ষমা চাইলেন স্টার্লিং।
বুধবার চ্যাম্পিয়ন্স লিগে নিজেদের ঘরের মাঠে ম্যানচেস্টার সিটি ৬-০ গোলে বিধ্বস্ত করেছে শাখতার দোনেৎস্ককে। সিটির এই বড় জয়ে হাঙ্গেরিয়ান রেফারি ভিক্টর কাসাইয়ের অবদান অনেক। ম্যাচে তিনি ম্যান সিটিকে দুদুটি পেনাল্টি দিয়েছেন। তার মধ্যে প্রথম পেনাল্টিটি বলতে গেলে সিটিকে উপহার দিয়েছেন তিনি!
ঘটনাটা ম্যাচের ২৪ মিনিটে। বল নিয়ে প্রতিপক্ষ শাখতারের বক্সে ঢুকে পড়েন স্টার্লিং। অনেকটাই ফাঁকায় তিনি। সামনে কেবল শাখতারের গোলরক্ষক অ্যান্ডি পেয়াতভ। গোল শট নেবেন, ঠিক তখনই মাটিতে পড়ে যান স্টার্লিং। ব্যস, রেফারি ভিক্টর কাসাই দৌড়ে এসে দিয়ে বসেন পেনাল্টি।
কিন্তু রিপ্লেতে পরিস্কার, ধাক্কা দেওয়া দূরের কথা, শাখতারের কোনো খেলোয়াড়ের সঙ্গে স্টার্লিংয়ের স্পর্শও লাগেনি। আসলে শট নিতে গিয়ে তার পা মাটিতে লাগে। ভারসাম্য হারিয়ে ধপাস করে পড়েন যান। স্বাভাবিকভাবেই তিনি পেনাল্টির আবেদন করেননি। কিন্তু রেফারি কাসাই ঠিকই পেনাল্টি দিয়েছেন।
বিতর্কিত এই পেনাল্টি সিদ্ধান্ত নিয়ে ফুটবল দুনিয়ায় সমালোচনার ঝড় বইয়ে। সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে যে যেভাবে ইচ্ছা মন্তব্য-প্রতিক্রিয়া জানাচ্ছেন। কেউ কেউ তো এটাকে ইতিহাসের সবচেয়ে জঘন্য পেনাল্টির সিদ্ধান্ত বলেই আখ্যায়িত করেছেন। সিদ্ধান্তটি এতোটাই হাস্যকর যে, খোদ ম্যানচেস্টার সিটিও ‘ভুল’ মেনে নিয়েছেন। সিটির কোচ পেপ গার্দিওলা সরাসরিই বলেছেন, ‘সিদ্ধান্তটা ভুল ছিল।’
রেফারির পাশাপাশি দর্শক-বোদ্ধারা স্টার্লিংয়েরও দায় দেখছেন। তাদের কথা, রেফারি না হয় ভুল করল। কিন্তু স্টার্লিং তো এর প্রতিবাদ করতে পারতেন। বলতে পারতেন, ‘রেফ এটা পেনাল্টি নয়। কেউ আমাকে ধাক্কা দেয়নি।’ কিন্তু স্টার্লিং মাঠে তা করেননি। তিনি বরং পেনাল্টি থেকে গোল করা গ্যাব্রিয়েল জেসুসের সঙ্গে উদযাপন করেছেন। কিন্তু ম্যাচ শেষে স্টার্লিং ঠিকই বুঝতে পেরেছেন, পেনাল্টিটা নেওয়া তার উচিত হয়নি! বুঝতে পেরেছেন তিনি পরে গিয়েছিলেন বলেই রেফারি বিভ্রান্ত হয়েছেন এবং ভুল সিদ্ধান্তটা দিয়ে ফেলেছেন। রেফারির হাস্যকর ভুলে তার দলের লাভ হয়েছে ঠিকই। কিন্তু খেলোয়াড়ী চেতনা ঠিকই স্টার্লিংকে পুড়িয়ে মারছে। সেই অনুশোচনা থেকেই ম্যাচ শেষে রেফারির কাছে ক্ষমা চেয়েছেন তিনি, ‘আমি বল চিপ করতে চেয়েছিলাম (আগুয়ান গোলরক্ষকের উপর দিয়ে গোলে শট নেওয়া), কিন্তু পরে কি হলো আমি জানি না। তবে আমি বুঝতে পেরেছি, কারো সঙ্গে আমার সংঘর্ষ বা ছোঁয়া লাগেনি। রেফ, আপনার কাছে ক্ষমা চাচ্ছি।’
স্টার্লিংয়ের এই ক্ষমা প্রার্থনা রেফারি ভিক্টর কাসাইয়ের মন কতটা সুপ্ত করবে কে জানে! তবে বিশ্বজুড়ে যে সমালোচনার ঝড় বইয়ে, তাতে তার মনটা বিষিয়েই উঠার কথা। কে জানে, রিপ্লে দেখে হয়তো তিনি নিজেও অনুতপ্ত।