ভুয়া ফেইসবুক থেকে সহপাঠী ও সিনিয়র ছাত্রীদের উত্ত্যক্ত রাবি শিক্ষার্থীকে স্থায়ী বহিষ্কার

আপডেট: জুন ১, ২০১৮, ১:১২ পূর্বাহ্ণ

রাবি প্রতিবেদক


ভুয়া ফেইসবুক আইডি থেকে সহপাঠী ও সিনিয়রসহ একাধিক ছাত্রীকে উত্ত্যক্ত করার দায়ে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) এক শিক্ষার্থীকে বহিষ্কার করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। বহিষ্কৃত শিক্ষার্থীর নাম একেএম নাজমুল হাসান চৌধুরী শিশির। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী।
শিশিরের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪৮০তম সিন্ডিকেট সভায় তাকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক আনন্দ কুমার সাহা এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আইন বিভাগের তৃতীয় বর্ষের এক শিক্ষার্থী জানান, ভুয়া ফেইসবুক আইডি থেকে বিভাগের একাধিক শিক্ষার্থীকে নানা আপত্তিকর বার্তা ও ভিডিও ক্লিপ পাঠানোর অভিযোগ ওঠে শিশিরের বিরুদ্ধে। এমনকি একাধিক ছাত্রীর ছবি এডিট করে ন্যুড করে মেসেঞ্জারে পাঠাতো। ব্ল্যাকমেইল করার চেষ্টা করতো।
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীদের অভিযোগের ভিত্তিতে গত ২০ মার্চ শিশিরকে আটক করে পুলিশ। তবে শিক্ষার্থীরা মামলা না করায় পরদিন মুচলেকা দিয়ে তাকে ছেড়ে দেয়া হয়। এরপর ২৫ মার্চ ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীরা উত্ত্যক্তের অভিযোগ এনে বিশ্ববিদ্যালয় উপাচার্য, উপ-উপাচার্য, ছাত্র উপদেষ্টা, আইন অনুষদের ডিন ও বিভাগের সভাপতির কাছে লিখিত অভিযোগ দেন। পরে এ বিষয়ে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। এবং কমিটির প্রতিবেদন অনুযায়ী এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।
বহিষ্কারের বিষয়ে এখনো কিছু জানেন না আইন বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক আবদুল হান্নান। তবে ভুক্তভোগীরা যে অভিযোগ দিয়েছিল তা খতিয়ে দেখতে বিভাগ থেকে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছিল। সেই কমিটির প্রতিবেদন বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের তদন্ত কমিটিকে দেয়া হয় বলে জানান তিনি।
বিভাগের সাবেক সভাপতি আবু নাসের মো. ওয়াহিদ বলেন, বিভাগ থেকে অভিযোগ তদন্ত করতে একটি কমিটি করা হয়েছিল। প্রতিবেদনে স্পর্শকাতর ও আপত্তিকর তথ্য থাকায় তদন্ত কমিটির সদস্যরা অ্যাকাডেমিক মিটিংয়ে প্রতিবেদন উম্মোচন না করতে অনুরোধ করেন। পরে আমরা সেই প্রতিবেদন বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের তদন্ত কমিটিকে দিয়ে দেই।
সিন্ডিকেট সদস্য ও ম্যাটেরিয়ালস সায়েন্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষক মোহাম্মদ আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, ‘এ বিষয়ে দুইটি তদন্ত কমিটি করা হয়। একটি আইন বিভাগ থেকে আর অন্যটি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ থেকে। আইন বিভাগ থেকে পাঠানো তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনটিকে যাচাই-বাছাই করে বিশ্ববিদ্যালয়ের তদন্ত কমিটি একটি প্রতিবেদন আজ সিন্ডিকেটে তোলা হয়। তারই ভিত্তিতে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।’
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপউপাচার্য অধ্যাপক আনন্দ কুমার সাহা বলেন, ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীদের অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছিল। সেই কমিটির প্রতিবেদনে অভিযোগ প্রমাণ হয়। সব তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে আজ সিন্ডিকেট মিটিংয়ে তাকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ