ভূতুড়ে সময়

আপডেট: নভেম্বর ২, ২০১৯, ১২:৪৭ পূর্বাহ্ণ

ফারদিন শামস তিমির


বর্তমান সময় ও মানে present . অর্থাৎ current time. মানে অতীতও নয়, ভবিষ্যৎও নয়। একেবারে এই সময়। দুই হাজার ঊনিশ সাল। চলছে নভেম্বর মাস। current time রাত। আমি রাস্তা দিয়ে হেঁটে যাচ্ছি, শীতের রাত। তাই রাস্তা ফাঁকা। পাগল বাদে সাধারণ মানুষ বুঝতেই পারবে এটাই স্বাভাবিক। রাস্তার পাশে লম্বা তালগাছ। আমি সেই তালগাছের পাশ দিয়ে হেঁটে যাচ্ছি। কোত্থেকে জানি না হঠাৎ ঢং ঢং ন’বার শব্দ হলো। ঠিক যেমন ঘড়িতে ৯টা বাজলে দোলক দুলতে দুলতে শব্দ করে। একটু অবাক হলাম। কারণ আমার হাতে ঘড়ি নেই। থাকলেও ঢং ঢং করে না বেজে পি পি পিং করে বাজতো। কারণ. হাতঘড়িতে দোলক থাকে না। চারপাশেও ঘড়ি নেই, লোকও নেই। যাই হোক। আমি এগোতে চেষ্টা করি। একে রাত তার উপর এখানে সময় নষ্ট হচ্ছে। কিন্তু আমি এগোতে পারছি না। মনে হচ্ছে কেউ আমার পা শক্ত করে ধরে আছে। নড়াতেই পারছি না। যেন একেবারে অবশ। হঠাৎ দেখি ক’টা ভূত আমাকে ঘিরে ধরেছে। দেখতে দারুণ ভয়ঙ্কর। দেখলে যে কেউ হার্ট অ্যাটার্ক করবে। তবে আমি পুরুষ মানে মরদ। আর মারদ কো কাভি দারদ ও হার্ট অ্যাটার্ক নেহি হোতা ! কিন্তু ‘ডার’ মানে ভয় হয়। তাই
আমি ভয়ে চিল্লাতে শুরু করি। হঠাৎ এক গলাকাটা ভূত আমার গলা টিপে ধরে বলে, চিল্লাচ্ছিস কেন ? দেখছিস তো আশেপাশে কোনো লোক নেই। কুকুরও নেই। নেই ভালো। নইলে আমাদের দেখে ঘেউ ঘেউ শুরু করত। আমি বলি, সরি। প্লিজ গলা ছেড়ে দাও। গলায় যে আমার মরদের মত সুন্দর মোটা কন্ঠস্বর আছে। ভূত বলে, তুইও মারদ, আমিও মারদ তাই নে ছেড়ে দিলাম। থ্যাঙ্কস্ বল। আমি বলি, থ্যাঙ্কস্। এই বলেই আমি দৌড়ে পালাই। ভয়ে এমন দৌড় দিয়েছি যে ভূত কি, ওর ১৪ গোষ্ঠীও আমাকে ধরতে পারেনি ! পালিয়ে বাড়িতে ঢুকে দেখি মা ঘুমাচ্ছে। আমি ভয়ে আর কষ্ট দিব মাকে ? তাও মায়ের ঘুম ভাঙিয়ে ? এই ভেবে আমি মাকে কিছু না বলে আল্লাহ আল্লাহ করে ঘুমিয়ে যায়। সকালে ফজরের নামাজ পড়ে আর ঘুমায়নি। মানে বেডরুমের বেডে না থেকে জেগে ছিলাম। কিছুক্ষণ পর, এখন সকাল ৯ টা। সোফায় বসে টিভি দেখছি। মনে হলো, জানালায় কেউ উঁকি মারছে। মাও বাসায় নেই। বাবাও অফিসে। বাড়িতে আমি একা। জানালার কাছে গিয়ে দেখি কেউ নেই। আবার টিভি দেখতে শুরু করলাম । মনে হলো, পিছনে কেউ আছে। তাই পিছনে তাকাতেই অমনি এক রক্তাক্ত মানুষ আমার গলা টিপে ধরল। আমি বললাম, ছাড়ো আমাকে, ছাড়ো। কেন তুমি এমন করছ ? তুমি মেন্টাল হতে পার, কিন্তু আমি তো ডিজিটাল। তবুও কেন এমন করছ ? কে তুমি, তুমি কে ? সে বলে, আমি অনাল। রেজাল্ট খারাপ করেছিলাম বলে ঊনিশ আটানব্বই সালের নভেম্বর মাসে রাত ৯টায় তাই তিনি রেগে আমাকে মেরে ফেরেছিলেন। আর তোর জন্মও ঊনিশ আটানব্বই সালের নভেম্বর মাসে। মানে তোর জন্মের পর আমার মৃত্যু। তাই তোর উপর আমার এত রাগ। কালকে তো মুরগি দৌড় দিয়ে আমার কাছ থেকে পালিয়েছিলি। আজ ঘোড়দৌড়ও দিতে দিব না। আমি বলি, আমার জন্ম ঊনিশ আটানব্বই সালে তো এতে আমার কি দোষ ? তুমি প্লিজ আমাকে ছেড়ে দাও। সে বলে, হা হা হা ! তোকে ছাড়ব আমি ? তুই মেন্টাল হতে পারিস আমি তো ডিজিটাল। আমি বলি, আমার ডায়ালোগ আমাকে না বলে প্লিজ আমাকে ছাড়। তাও একটা কাজের কাজ হবে। সে বলে, ঠিকাছে ছাড়ব। তবে একটা শর্ত আছে। আমি বলি, কী শর্ত ? সে বলে, তোর ঘাড় মটকাব। চলবে তো ? হা হা হা ! আমি বলি, না চলবে না , ফগ হলে চলত । কিন্তু তোমার আমার উপর এত রাগ কেন ? আমি তো তোমাকে মারিনি ? আমি তো শান্ত -শিষ্ট ভদ্র লোক। সে বলে, তুই মারিসনি তো কী হবে ? তোর জন্মের লগ্নে আমি মরেছি। আমি তোকে না মেরে শাস্তি পাচ্ছি আর তোর বাবা তোকে মেরে শাস্তি না পেয়ে মজা করে কি মুড়ি ভাজা খাচ্ছে ? তোমার বাবা তোমাকে মেরেছে সাহস থাকলে উনাকে মার। সে বলে, কতবার বলব আমি তোর জন্মে মরেছি, বাপের জন্মে নয়। আমি বলি, ঊনিশ আটানব্বই সালে শুধু আমি নয়, অনেকে ূজন্মেছে। তুমি শুধু আমাকে মারছ কেন ? সে বলে, কারণ তোর সামনের বাড়িতে আমি থাকতাম। তোর মাকে জিজ্ঞেস করিস। আমি বলি, আমার সামনের বাড়িতে তো অভু আঙ্কেল থাকে। সে বলে, ঐ হলো আমার বাবা। আমি বলি, ও ! তোমার কি ভূত হয়ে থাকতে ভালো লাগে ? সে বলে, না, একদম না। ভূত হলে বুঝতি। আমি বলি, তুমি কী মুক্তি চাও ? সে বলে, হ্যাঁ, এক’শ বার। এতদিন পর Adress খুঁজে পেয়ে তোকে মারতে আসলাম আর তুই
আমাকে মুক্তি দিবি ? থ্যাঙ্কস্। আমি বলি, তাহলে হুজুর ডাকি ? সে গলা ছাড়ে ও বলে, হ্যাঁ ডাক। আমি
মসজিদ গিয়ে হুজুর ডেকে তাকে মুক্তি দিলাম। এতসব ঘটনা ঘটে যাওয়ার পর মা বাড়ি আসে। তবে ঘটনার ‘ঘ’ও জানতে পারেনি। বাবা তো দূরের কথা । হি হি হি !