ভূমি মন্ত্রণালয়ের ১৭ হাজার কর্মীর সম্পদের হিসাব জমা

আপডেট: মার্চ ১০, ২০১৯, ১২:০৮ পূর্বাহ্ণ

সোনার দেশ ডেস্ক


ভূমি মন্ত্রণালয় ও এর আওতাধীন পাঁচটি দফতর এবং ৬৪টি জেলায় কর্মরত ১৭ হাজার ৫৭৬ জন কর্মচারীর মধ্যে ১৭ হাজার ২০৮ জন তাদের সম্পদের হিসাব বিবরণী দাখিল করেছেন। অবশিষ্ট ৩৬৮ জন কর্মচারী বিভাগীয় মামলায় সাময়িক বরখাস্ত এবং দীর্ঘমেয়াদি ছুটিতে থাকার কারণে সম্পদের বিবরণী দাখিল করতে পারেননি।
এ বিষয়ে ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী বলেন, প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে আমি প্রতিজ্ঞাবদ্ধ- এতো দ্রুত সময়ে কর্মচারীদের সম্পদের হিসাব গ্রহণ তার একটি প্রমাণ। এ ব্যাপারে সহযোগিতা করার জন্য আমি সবাইকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি। সম্পদ বিবরণী দাখিলের ফলে অনিয়ম-দুর্নীতি করতে সবাই নিরুৎসাহিত হবেন।
মন্ত্রী আরও জানান, এখন থেকে সম্পদের হিসাব বিবরণী দাখিলের কর্মসূচি চলবে। নিয়মিত মনিটরিং করার মাধ্যমে পর্যায়ক্রমে ভূমি অফিস দুর্নীতিমুক্ত করা সম্ভব হবে।
মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা সৈয়দ মো. আব্দুল্লাহ আল নাহিয়ান জানান, গত ১২ জানুয়ারি চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবে স্থানীয় সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে দুর্নীতিমুক্ত, স্বচ্ছ এবং জনবান্ধব ভূমি সেবা প্রদানের অন্যতম কৌশল হিসেবে ভূমিমন্ত্রী মন্ত্রণালয়ের কর্মচারীদের সম্পদের হিসাব নেয়ার ব্যাপারে ঘোষণা দিয়েছিলেন। মন্ত্রী বলেছিলেন, আমি অনিয়ম-দুর্নীতি পছন্দ করি না। কোনো বদনামের অংশীদার হতে চাই না। সরকার অনিয়ম-দুর্নীতির বিষয়ে জিরো টলারেন্স।
মন্ত্রী আরও বলেছিলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সততার পুরস্কার হিসেবে আমাকে মন্ত্রী করেছেন। প্রধানমন্ত্রীর আস্থার প্রতিদান দিতে ভূমি মন্ত্রণালয়কে আমি যেকোনো মূল্যে দুর্নীতিমুক্ত করবো। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার মধ্য দিয়ে আমি এই মন্ত্রণালয়কে শীর্ষ পাঁচ মন্ত্রণালয়ের মধ্যে নিয়ে আসবো।
পরবর্তীতে সম্পদের হিসাব গ্রহণের কার্যক্রম ভূমিমন্ত্রীর প্রথম ৯০ দিনের নয় কার্যক্রমের অন্যতম অংশ করা হয়। বাকিগুলো হলো- জরুরি সেবা প্রদানের জন্য ভূমি মন্ত্রণালয়ে হট লাইন স্থাপন, দেশব্যাপি ভূমি সেবা সপ্তাহ পালন এবং ভূমি কর মেলা উদযাপন, ‘অনলাইনে খতিয়ান’ সেবা চালুকরণ, ই-নামজারি কার্যক্রম পুরোদমে চালু করা, সেবা-দাতাদের দক্ষ করতে ওয়ার্কশপ আয়োজন, দেশের ভূমি ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে অবহিতকরণ কার্যক্রম, ভূমি অধিকার সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধিতে কর্মসূচি, অন্যান্য ভূমিসেবা ডিজিটালাইজেশনের আওতায় আনার প্রক্রিয়া শুরু করা।
গত ২৭ ফেব্রুয়ারি তারিখে দেশব্যাপি অনলাইন খতিয়ান অবমুক্তকরণ এবং ১২ ফেব্রুয়ারি সমগ্র ঢাকা জেলায় শতভাগ ই-নামজারি কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন ভূমিমন্ত্রী, কয়েক মাসের মধ্যেই সমগ্র দেশে ই-নামজারি কার্যক্রম পুরোদমে চালু করা হবে। মন্ত্রীর স্বল্পমেয়াদি কর্মপরিকল্পনার অংশ প্রথম ৯০ দিনের অন্যান্য কার্যক্রমও বাস্তবায়নাধীন। এছাড়াও, ভূমি এবং আইন মন্ত্রণালয়ের অধীন নিবন্ধন পরিদফতরের (সাব রেজিস্ট্রার অফিস নিয়ন্ত্রক) উন্নয়ন কাজের সমন্বয় করার জন্য প্রয়োজনীয় উদ্যোগ মন্ত্রী গ্রহণ করেছেন।
মন্ত্রী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে পুরো পাঁচ বছরের কর্মপরিকল্পনা তিন মেয়াদে সাজিয়েছেন। মেয়াদের প্রথম দেড় বছর ‘স্বল্প মেয়াদী’, পরবর্তী দেড় বছর ‘মধ্যম মেয়াদী’ এবং শেষ দুই বছর ‘দীর্ঘ মেয়াদি’ পরিকল্পনা।
তথ্যসূত্র: বাংলানিউজ

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ