ভোক্তারা ভেজালমুক্ত খাদ্য পাচ্ছেন?

আপডেট: মে ২০, ২০১৯, ১২:৪৩ পূর্বাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক


পণ্য প্রস্তুতের তারিখ এবং মেয়াদোত্তীর্ণের তারিখ দেখে কেনাকাটা করেন না অধিকাংশ ক্রেতাই। রাজশাহীর ক্রেতাদের মধ্যেও একই প্রবণতা। এরই মধ্যে সরকারি বিভিন্ন দফতর প্রতিদিনই রমজান উপলক্ষে চালাচ্ছে ভেজালবিরোধী অভিযান। কিন্তু তারপরও কতটুকু কমেছে পণ্যে ভেজাল মিশ্রণ? তবে সচেতন মহল মনে করেন, পণ্য উৎপাদন ও বাজারজাতকারী প্রতিষ্ঠানগুলো চোখে পড়ার মতো বড় করে এক্সপায়ার ডেট লিখলে ভোক্তা অধিকার অনেকটা নিশ্চিত হতে পারে।
নগরীর লক্ষ্মীপুর মোড়ে জনপ্রিয় ফার্মেসীর দোকানের সামনে কথা হয় পুঠিয়ার আয়ুব আলীর সাথে। তিনি তার চাচীর ওষুধ কেনার জন্য এসেছেন। প্রেসক্রিপশন দেয়ার পর ফার্মেসি থেকে যা যা ওষুধ দেয়া হলো তিনি সেই ওষুধগুলো দাম মিটিয়ে নিয়ে ব্যাগে ঢুকিয়ে ফেললেন। তাকে বললাম, এক্সপায়ার ডেট দেখে কিনেছেন কি না? তিনি বললেন, না, ওসব বুঝিনা আমি। বিশ্বাস করে দোকানদার যা দিয়েছে তাই নিয়ে যাচ্ছি।
একই কথা জানালেন বাঘার সমছের আলী। তিনি বললেন, ফার্মেসি থেকে যা দিয়েছে তাই বিশ্বাস করে নিয়ে যাচ্ছি।
খোঁজ নিয়ে দেখা গেলো, বেশিরভাগ ক্রেতাই ওষুধপত্র কেনার সময় এক্সপায়ার ডেট চেক করে কিনেন না। ফার্মেসি থেকে যা দেয়া হয় তা কিনে নিয়ে যান। তবে এর মধ্যে অনেকেই আছেন যারা এক্সপায়ার ডেট দেখে ওষুধ কিনেন।
তবে বেশিরভাগ ক্রেতাই জানান, এক্সপায়ার ডেট এত ছোট করে পণ্যের গায়ে লেখা থাকে যে খুঁজে পাওয়া যায় না। রীতিমত ম্যাগনেফায়িং গ্লাস দিয়ে খুঁজতে হয়। তা পণ্যের গায়ে বড় করে এক্সপায়ার ডেট লেখা থাকলে খুব সহজে চোখে পড়ে। আবার বেশিরভাগ ক্রেতা পণ্যের মান নিয়েও সচেতন না। যাচাই-বাছাই করেও কিনে নিয়ে যান না।
শিশুখাদ্য কেনার বেলায়ও দেখা যায় একই চিত্র। কষ্টের উপার্জনে, প্রিয় সন্তানের মুখে যে খাদ্যটি তুলে দেয়া হচ্ছে, বুঝে নেয়ার উপায় নেই তা নকল কিনা বা ভেজালমুক্ত কিনা। আবার, পণ্যের গায়ে এক্সপায়ার ডেট এত ছোট করে লেখা থাকে যে চোখে পড়াই দায়। অর্থাৎ শিশু খাদ্য কেনার সময়ও অভিভাবকরা পণ্যের গুণগত মান কিংবা এক্সপায়ার ডেট নিয়ে সচেতন না।
নগরীর মার্কেট প্লেসগুলো ঘুরে দেখা গেল, শুধু ওষুধপত্র কিংবা শিশুখাদ্যই নয়, বেশিরভাগ পণ্য সম্পর্কেই এখনো সেইভাবে স্বাস্থ্য সচেতনতা গড়ে ওঠেনি ক্রেতাদের মধ্যে। যদিও প্রায়ই প্রতিদিনই ভেজালবিরোধী অভিযান চালায় বিভিন্ন সরকারি দপ্তর।
তবে কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশেরÑ(ক্যাব) রাজশাহী শাখার সাধারণ সম্পাদক গোলাম মোস্তফা মামুন বলেন, একমাত্র ভোক্তাদের সচেতনতাই পারে খাদ্যে ভেজালমুক্ত করতে। পাশাপাশি নিয়মিত বাজার মনিটরিং করতে হবে। শুধু রমজান উপলক্ষেই এই মনিটরিং করলে হবে না, অন্য মাসগুলোতেও মনিটরিং চালাতে হবে।
খাদ্যে ভেজালরোধে রীতিমত হুঁশিয়ারি দিয়েছেন রাজশাহী সিটি করপোরেশনের মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন। এইজন্য তিনি সবার সহযোগিতা চেয়েছেন। তিনি গণমাধ্যমকর্মীদের বলেন, আমাদের অবহেলার কারণেই অসাধু ব্যবসায়ীরা খাদ্যে ভেজাল মিশিয়ে বিক্রি করতে পারছে। আমরা যদি সজাগ থাকি এবং নিয়মিত বাজার ও কারখানাগুলো মনিটরিং করি তাহলে ভেজাল রোধ করা সম্ভব হবে। আমি নিয়মিত বাজার ও কারখানাগুলোতে সিটি করপোরেশনের উদ্যোগে ভেজালবিরোধী অভিযান চালাবো। এতে আপনারা সহযোগিতা করবেন।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ