‘ভ্যাট মেশিন নষ্ট, সমঝোতায় যাবেন না’

আপডেট: জুলাই ২৯, ২০১৯, ১২:৪১ পূর্বাহ্ণ

সোনার দেশ ডেস্ক


জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া বলেছেন, এনবিআর কর্মকর্তারা ভ্যাট আদায় করতে গিয়ে বলতে পারে, মেশিন নষ্ট আমাদের সাথে সমঝোতায় আসুন। আপনারা (ব্যবসায়ী) অনৈতিক কোনো সুবিধা দেবেন না। যারা অনৈতিক সুবিধা নেয়, আমাদের বলবেন কঠোর হস্তে দমন করব।
শনিবার রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির আয়োজনে নতুন ভ্যাট আইনের ওপর সচেতনতামূলক কর্মশালায় তিনি এ কথা বলেন।
এনবিআর চেয়ারম্যান আরো বলেন, ‘দুর্নীতিবাজদের কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। ইসিআর মেশিন নষ্ট বলে অনেক কাহিনি হয়েছে। ইলেক্ট্রনিক ফিসক্যাল ডিভাইস (ইএফডি) নষ্ট হলে সেটা তাদেরকেই ঠিক করতে হবে। সুতরাং ভালো করে রাখার দায়িত্বটা ব্যবসায়ীদের।’
তিনি বলেন, যারা মেশিন নষ্ট করবে তাদের দায়ী করা হবে। ভ্যাট আদায়ে ইএফডি চালু করতে একটু সময় লাগবে। আমরা ক্রয় করতেছি। ব্যবসায়ীর সংখ্যা বেশি। সবাইকে দিতে দিতে একটু সময় লাগবে। কিন্তু তাই বলে ভ্যাট আদায়টা বন্ধ থাকবে না। ভ্যাট আদায় করতেই হবে।
মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘নতুন ভ্যাট আইনে অনেক সংশোধনী এনে সেটা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। ছোট ব্যবসায়ীদের সুবিধার্থে বিভিন্ন রেট করা হয়েছে। যাতে করে কোনো ব্যবসায়ীদের অসুবিধা না হয়। সরকারের বাজেটের আকার বাড়ছে। বিদেশি সহায়তার পরিমাণ কমেছে। টোটাল জিডিপির ২ শতাংশ এখন বিদেশি সহায়তা। এখন ট্যাক্স নিয়ে বিতর্কের কিছু নেই। ব্যবসায়ীদের জন্য কাস্টমস ডিউটিতে অনেক ছাড় দেওয়া হয়েছে।’
কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্য বলেন, অনেক কর্মকর্তা হজে যাচ্ছেন। হজে যাওয়ার পর যদি তাদের স্বভাব না বদলায় তাহলে হজে গিয়ে কী লাভ?। আমি যখন অফিসারদের সঙ্গে কথা বলি তখন কথাগুলো বলি, আপনি ব্যবসায়ীদের বাধ্য করে যেটা নেন, সেটা চুরি, সেটা ময়লা খাবার।’
ডিসিসিআই সভাপতি ওসামা তাসীরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সদস্য (মূসক বাস্তবায়ন ও আইটি) শাহনাজ পারভীন, উপ-প্রকল্প পরিচালক জাকির হোসেন খান, ডিসিসিআইয়ের আয়কর উপদেষ্টা স্নেহাশিষ বড়ুয়া প্রমুখ।
ডিসিসিআইয়ের সভাপতি বলেন, নতুন ভ্যাট আইনে ব্যবসায়ীদের প্রত্যাশা অনুযায়ী ভ্যাট ফ্রি লিমিট ৫০ লাখ টাকায় উন্নীতকরণ, ভ্যাট রিফান্ড সিস্টেম এবং ক্যাপিটাল মেশিনারিজ আমদানিতে অগ্রিম কর অব্যাহতি ইত্যাদি পদক্ষেপ।
তিনি বলেন, নতুন আইনের সুফল বাস্তবায়নে অংশীজন, বেসরকারি খাত ও রাজস্ব বোর্ডের মাঝে অংশগ্রহণমূলক সংলাপের মাধ্যমে রাজস্ব কর্মকর্তার জুডিশিয়াল ক্ষমতা, বিরোধ নিষ্পত্তি আপিলের ক্ষেত্রে প্রতিটি স্তরে ১০ শতাংশ হারে ভ্যাট প্রদান ও ভ্যাট রিটার্ন সিস্টেম সম্পূর্ণ অনলাইন করা ও বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে অন্য প্রতিবন্ধকতাসহ সব সমস্যার সমাধান হতে পারে।