বঙ্গবন্ধুর শততম জন্মবার্ষিকী

ভ্রমণ প্রেমিদের সময় কাটছে পদ্মায়

আপডেট: August 21, 2019, 12:54 am

শাহিনুল ইসলাম আশিক


পদ্মায় নৌ ভ্রমণ করছেন বিনোদন প্রেমিরা সোনার দেশ

সমুদ্র সৈকত বহু দূরের পথ। কিন্তু সেই সমুদ্র সৈকতের কিছুটা স্বাদ পদ্মা নদীতে মিটলে মন্দ হয় না। রাজশাহীর পদ্মায় অথৈ পানি, রয়েছে ছোট-বড় ঢেউ। তাই নৌকা ভ্রমণ বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। পদ্মার এমন রূপ- যে কারো মন করবে জয় খুব সহজেই। পদ্মার ভরা যৌবন আনন্দদায়ক হয়ে উঠেছে ভ্রমণ পিপাসুদের কাছে। রাজশাহী পদ্মা নদীর টি-বাঁধ, পদ্মা গার্ডেন, দরগাপড়া এলাকায় অস্থায়ীভাবে বানানো হয়েছে নৌকার ঘাট। প্রতিদিন শত শত মানুষ পদ্মা নদীতে নৌকা ভ্রমণের অনন্দে মেতে উঠছেন।
নৌকার মাঝিরা জানায়, টি-বাঁধ থেকে পদ্মা গার্ডেন পর্যন্ত প্রায় ৭০ থেকে ৮০টির মত নৌকা ভ্রমণের কাজ করে। এই ভ্রমণকে কেন্দ্র করে প্রায় শত মানুষের আয়ের উৎস সৃষ্টি হয়েছে। নৌকার মানুষগুলো সকাল, বিকেল ও সন্ধ্যা পর্যন্ত ভ্রমণের কাজ করে টাকা উপার্জন করে জীবিকা নির্বাহ করছে।
কিন্তু উত্তাল পদ্মায় নৌকা ভ্রমণে ঘটছে ছোট-বড় দুর্ঘটনাও। সম্প্রতি নৌকা ভ্রমণের সময় দুই কিশোরী নদীতে পড়ে যায়। পরে আরেকটি নৌকা গিয়ে তাদের উদ্ধার করে। এমন অনাকক্সিক্ষত ঘটনা এড়াতে সতর্ক রয়েছে রাজশাহীর নৌ-পুলিশ। তাই প্রত্যেক যাত্রীর জন্য বাধ্যতামূলক করা হয়েছে লাইফ জ্যাকেট। যাত্রীরা নৌকা ভ্রমণের সময় লাইফ জ্যাকেট পরিধান করছে জানিয়েছে আরএমপি নৌ-পুলিশ। পুলিশ জানায়, নিরাপত্তার স্বার্থে লাইফ জ্যাকেট বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এখানে যাত্রী ও নৌকা চালকও এর আওতায় রয়েছে। তবে যাত্রীদের লাইফ জ্যাকেট পড়তে দেখা গেলেও নৌকার মাঝিরা তা ব্যবহার করছে না।
নৌকা ভ্রমণের জন্য যাত্রীপ্রতি ২০ থেকে ৪০ টাকা করে নিচ্ছে মাঝিরা। আবার কেউ কেউ পরিবারসহ নৌকা ভ্রমণে গেলে রিজার্ভ নিচ্ছেন। রিজার্ভের ভাড়া যাত্রীদের নদী ভ্রমণের উপরে নির্ধারণ করে দেয় মাঝিরা। যাত্রীদের নিয়ে নৌকা পদ্মার গভীরেও যায়। শুধু তাই নয়, পদ্মা নদীর পাশের বিভিন্ন চর এলাকায় ঘুরানো হয়। কেউ কেউ নৌকা থেকে নেমে চর এলাকায় ঘুরে সময় কাটান পারিবারের সদস্যদের নিয়ে। আবার কেউ চর এলাকাগুলো নৌকা থেকে দেখেন।
তবে যাত্রীরা বলছেন, যাত্রীদের নিরাপত্তার বিষয়ে নৌ-পুলিশকে নজর দিতে হবে। এছাড়া পদ্মা টহল পরিচালনা করতে হবে। কোন ধরনের অনাকাক্সিক্ষত ঘটনায় এগিয়ে আসতে হবে।
স্বামী ও দুই সন্তাকে নিয়ে নৌকা ভ্রমণে এসেছেন সাহিদা বেগম (৪৮)। তিনি বলেন, ‘নৌকা ভ্রমণ অনেক মজার। স্বামীর চাকরির সুবাদে কক্সবাজার ছিলাম। তখন প্রায় ছোট ছোট নৌকায় বেড়াতাম।’ তিনি বলেন, বর্তমানে রাজশাহীর পদ্মার পানি থাকে দুই থেকে তিন মাস। কিছুদিন গেলে তখন আর নৌকা ভ্রমণ করা যাবে না, পানি থাকবে না। পদ্মার মাঝ নদীতে অনেক ¯্রােত। তাই নৌকা মাঝ নদীতে গেলে সমুদ্রের মত লাগে। অনেক মজা করলাম।’
পাঠানপাড়া এলাকার পদ্মা নদীতে নৌকা চালায় মাঝি সাগর হোসেন। গত রোববার বিকেলে ২০ জন যাত্রী নিয়ে নৌকা ভ্রমণ শেষে ঘাটে দাঁড়ালেন।
সাগর বলেন, সকালের চেয়ে বিকালে বেশি মানুষ নৌকা ভ্রমণ করে। আর ছুটির দিন বা বিভিন্ন দিবসে বেশি মানুষ হয়। পরিবার পরিজনদের নিয়ে অনেকেই নৌকা ভ্রমণ করতে আসে। বেশির ভাগ মানুষ পদ্মার ওপারের বিভিন্ন চরে ঘুরে দেখতে চাই, নৌকা থেকে।
নৌকা ভ্রমণ শেষে মাসুদ রানা জানান, রাজশাহীতে পদ্মা নদী ভরা মৌসুমে দেখতে সমুদ্রের মতই। মাঝ নদীতে গিয়ে পূর্ব-পশ্চিমে তাকালে কুল-কিনারা দেখতে পাওয়া যায় না। শুধু পানি আর পানি। মাঝ নদীতে না গেলে বোঝা যাবে না পদ্মার আসল রূপ। নৌকা ভ্রমণের সময় ছোট-বড় ঢেউ নৌকায় আছড়ে পড়ছে। এ এক চমৎকার অনুভতি।
আরএমপি নৌ-পুলিশের অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মেহদী হাসান বলেন, লাইফ জ্যাকেট পড়তে পুলিশের নজরদারি আছে। নিরাপদ ভ্রমণের বিষয়টি মাথায় রেখে লাইফ জ্যাকেট বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ