ভয়ঙ্কর-ভয়াবহ! চকবাজার বিভীষিকায় ৬৭ জনের প্রাণহানি

আপডেট: ফেব্রুয়ারি ২৩, ২০১৯, ১২:১৯ পূর্বাহ্ণ

সোনার দেশ ডেস্ক


চকবাজার অগ্নিকাণ্ডে ধ্বংসস্তুপে পরিণত হয় জীবন ও সম্পদ-সংগৃহীত

পুরান ঢাকার নিমতলীর পর এবার চকবাজারের ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড নাড়িয়ে দিয়েছে পুরো বাংলাদেশকে; মুহূর্তের বিভীষিকায় ৬৭ জনের প্রাণহানির মধ্যে দিয়ে আবারও আলোচনায় এসেছে আবাসিক এলাকায় রাসায়নিকের গুদাম আর কারখানা থাকার বিপদ।
পুরান ঢাকার পাইকারি পণ্যের বাজার চকবাজারের অন্যতম ব্যস্ত এলাকা চুড়িহাট্টা শাহী মসজিদের কাছে বুধবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে ঘটনাপ্রবাহের শুরু। বিকট বিস্ফোরণের পর প্রথমে রাস্তায় থাকা যানবাহনগুলোতে আগুন ধরে যায়, এরপর সেই আগুন গ্রাস করে আশপাশের পাঁচটি ভবন।
ফায়ার সার্ভিসের ৩৭টি ইউনিট দীর্ঘ ১৪ ঘণ্টার চেষ্টায় সেই আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে, কিন্তু ততক্ষণে চুড়িহাট্টা মোড় পরিণত হয়েছে মৃত্যুপুরীতে।
আগুনে নিহতদের মধ্যে ৪৬ জনের লাশ শনাক্ত করা হয়েছে। বাকি ২১ জনের মধ্যে ১৫ জনের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করেছে সিআইডি। বাকিদের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহের জন্য শনিবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) পর্যন্ত ঢাকা মেডিক্যাল মর্গ অফিসে থাকবে। এরপর থেকে সিআইডির ল্যাবে যোগাযোগ করতে হবে।
(৪ এর পাতায়)

প্রত্যক্ষদর্শীরা বলছেন, ভিড়ের মধ্যে থাকা একটি পিকআপ ভ্যানের সিলিন্ডার বিস্ফোরিত হলে আগুনের সূত্রপাত হয়। তবে ওই ভ্যানটি পরিবহনের জন্য সিলিন্ডার বহন করছিল, না কি গাড়ির নিজস্ব জ্বালানির জন্য রাখা সিলিন্ডার বিস্ফোরিত হয়েছিল তা এখনও অস্পষ্ট।
তবে স্থানীয় বাসিন্দাদের ফায়ার সার্ভিস কর্মীরাও বলেছেন, আশপাশের দোকান আর ভবনে থাকা রাসায়নিক আর প্লাস্টিক-পারফিউমের গুদাম চুড়িহাট্টার আগুনকে দিয়েছে ভয়াবহ মাত্রা।
আগুন নেভানোর অভিযানে থাকা ফায়ার সার্ভিসের ঢাকা বিভাগীয় উপ-পরিচালক দেবাশীষ বর্ধন মনে করছেন, ঘনবসতিপূর্ণ ওই এলাকায় যে পরিমাণ দাহ্য সামগ্রীর মজুদ ছিল, তাতে ভয়ঙ্কর এ ঘটনার ক্ষেত্র হয়ত আগে থেকেই তৈরি হয়ে ছিল।
আর নগর পরিকল্পনাবিদ ইকবাল হাবীব মনে করছেন, ২০১০ সালে রাসায়নিকের গুদামে ঠাসা নিমতলীর অগ্নিকাণ্ডে শতাধিক মানুষের প্রাণহানির পর তদন্ত কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী ব্যবস্থা না নেওয়ায় এবারের ঘটনা আগের মতই ভয়াবহ রূপ পেয়েছে।
ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা বৃহস্পতিবার ওই ধ্বংসস্তূপ থেকে ৬৭ জনের মরদেহ ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছেন। সেই সঙ্গে পাঠানো হয়েছে আরও কিছু দেহাবশেষের অংশ।
পুড়ে কয়লা হয়ে যাওয়া মানবদেহের সারির পাশে স্বজনদের আহাজারিতে পুরোদিন ভারি হয়েছিল ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিবেশ।
মর্গে আসা ৬৭টি লাশের মধ্যে ৪৫ জনের পরিচয় শনাক্ত হওয়ার পর মরদেহ হস্তান্তর করা হয়েছে স্বজনদের কাছে। ১৩ জনকে দাফন করা হয়েছে আজিমপুর কবরস্থানে, অনেকের মরদেহ স্বজনরা গ্রামের বাড়ি নিয়ে গেছেন।
অগ্নিদগ্ধ হয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসা নিচ্ছেন নয় জন; শরীরের ৩০ থেকে ৬০ শতাংশ পুড়ে যাওয়ায় তাদের ছয়জনের অবস্থাও আশঙ্কাজনক।
অগ্নিকাণ্ডে হতাহতের ঘটনায় শোক প্রকাশ করেছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা।
বৃহস্পতিবার দুপুর ১টায় উদ্ধার অভিযান আনুষ্ঠানিকভাবে সমাপ্ত ঘোষণা করেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র সাঈদ খোকন। তবে ফায়ার সার্ভিসের তিনটি দল এখনও সেখানে অবস্থান করছেন পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের জন্য।
বিভীষিকাময় ২৪ ঘণ্টা পেরিয়ে বৃহস্পতিবার রাতেও বিদ্যুৎ ফেরেনি চুড়িহাট্টা মোড়ে। বিভিন্ন বাসার পানি সরবরাহও বন্ধ।
ফায়ার সার্ভিস জেনারেটর দিয়ে ধ্বংস্তূপে ডাম্পিংয়ের জন্য যে বাতির ব্যবস্থা করেছে, সেটাই ছিল সেখানে আলোর একমাত্র উৎস।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অনেকেই এলাকা ছেড়ে চলে গেছেন আত্মীয় স্বজনের বাসায়। যারা আছেন, বুধবারের আগুনের ভয়াবহতা আর আতঙ্ক তাদের পিছু ছাড়ছে না।
সামনে তিন দিনের ছুটি পড়ে যাওয়ায় বুধবার চকবাজারের ওই এলাকায় পাইকারি পণ্যের দোকানে আসা ক্রেতাদের ভিড় ছিল তুলনামূলক বেশি। রাত সাড়ে ১০টার দিকে স্থানীয় দোকানিরা যখন ঝাঁপ ফেলার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন, চুড়িহাট্টা শাহী মসজিদের সামনে চার রাস্তার মোড়ে তখন শতাধিক যানবাহনের ভিড়।
রাত সাড়ে ১০টার দিকে ওই বিস্ফোরণের পর প্রথমে রাস্তায় থাকা যানবাহনে এবং পরে আশপাশের পাঁচটি ভবনে আগুন ছড়িয়ে পড়ে। ফায়ার সার্ভিসের ৩৭টি ইউনিট রাতভর সেই আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা চালিয়ে যায়।
বুধবার রাতের ভয়াবহ আগুনে ধ্বংসস্তুপে পরিণত হয়েছে পুরান ঢাকার চকবাজারের চুড়িহাট্টা মোড়। ছবি: আব্দুল্লাহ আল মমীন
নন্দ কুমার দত্ত রোডের বাসিন্দা মো. আশিক উদ্দিন জানান, হঠাৎ তিনি বিকট শব্দ পান, তারপর রাজমহল হোটেলের সামনের রাস্তায় একটি পিকআপ ভ্যানকে উপর থেকে নিচে পড়তে দেখেন।
“আমার মনে হয়, সিলিন্ডার বিস্ফোরিত হওয়ায় ওই গাড়ি ছিটকে উপরে উঠে গিয়েছিল। আমি দেখেছি নামার সময়। এরপর মুহূর্তে আগুন চারদিকে ছড়িয়ে পড়ল।”
ওই আগুন প্রথমে রাস্তায় থাকা যানবাহনগুলোকে গ্রাস করে নেয়। তারপর ছড়িয়ে পড়ে রাজমহল হোটেল আর পাশের চার তলা হাজী ওয়াহেদ মঞ্জিলে। উল্টো দিকের দুটো বাড়ি এবং একটু দূরে আরেকটি ভবনেও আগুন ছড়িয়ে পড়ে।
ফায়ার সার্ভিস কর্মকর্তা দেবাশীষ বর্ধন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “আগুনটা এত তাড়াতাড়ি ছড়িয়েছে, যারা পথচারী, মোটরসাইকেল আরোহী, ভ্যানচালক, রিকশাচালক- অনেকেই রেহাই পায়নি।”
বুধবার রাতে চকবাজারের চুড়িহাট্টা এলাকায় অগ্নিকাণ্ডে ধ্বংসস্তুপে রূপ নেয় আশপাশের সব সড়ক। ছবি: আব্দুল্লাহ আল মমীন
বৃহস্পতিবার দিনের বেলায় ঘটনাস্থলে ঘুরে পুড়ে যাওয়া দুটি পিকআপ ভ্যান, দুটি প্রাইভেটকার, ৩৪-৩৫টি রিকশা এবং অন্তত ৩০টি মোটরসাইকেলের পোড়া কঙ্কাল দেখা যায়।
রাস্তার মোড়ে পড়ে থাকতে দেখা গেছে প্লাস্টিক সামগ্রী তৈরির উপকরণ, ছড়িয়ে-ছিটিয়ে ছিল প্রসাধন সামগ্রী আর পারফিউমের পোড়া বোতল।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ওয়াহেদ মঞ্জিলের নিচতলায় ডজনখানেক দোকান, আর দোতলায় পারফিউম ও প্লাস্টিক সামগ্রীর গোডাউন ছিল। আশপাশের বিভিন্ন ভবনেও রাসায়নিক ও দাহ্য সামগ্রীর গুদাম বা দোকান ছিল।
দেবাশীষ বর্ধন বলেন, “আমার মনে হয়েছে, বিস্ফোরণের পর আগুন ভয়ঙ্কর দ্রুততায় ছড়িয়েছে কেমিকেলের কারণে। বডি স্প্রে, সেভিং ফোম, এরোসল জাতীয় প্রচুর সামগ্রী পাশেই ছিল। সেখান থেকে ফ্লেইমেবল আর্টিক্যাল গ্যাস আকারে ছড়িয়ে পড়েছিল কি না, সেটা দেখার বিষয়।
“হয়ত সে কারণেই বিস্ফোরণটা হয়েছে এমনভাবে, যেমনটা হয় আবদ্ধ ঘরে গ্যাস বিস্ফোরণের ক্ষেত্রে। হয়ত পরিবেশটাই ওরকম হয়ে ছিল।”
ঢাকা মেডিকেলে মর্গে চকবাজারের আগুনে নিহতদের শনাক্তের পর কফিনে করে মর্গ থেকে লাশ নিয়ে বের হচ্ছেন পরিবারের সদস্যরা। ছবি: আব্দুল্লাহ আল মমীন
তিনি জানান, ওয়াহেদ মঞ্জিলের নিচতলাতেই একসঙ্গে ২৪টি মৃতদেহ পাওয়া গেছে। এর মধ্যে দুই বছরের শিশু ও নারীও ছিল।
“তারা বের হতে চেয়েছিল, কিন্তু পারেনি। সিঁড়ি ঘরের ফ্লোরে পাওয়া গেছে দলা পাকানো মৃতদেহগুলো।”
আর শাটার লাগানো একটি ফার্মেসির ভেতরে চারটি এবং একটি ডেকোরেটরের দোকানে চারটি মৃতদেহ পাওয়া গেছে বলে জানান তিনি।
ওয়াহেদ মঞ্জিলের উল্টো দিকের আনাস হোটেলের ভেতরে ছিল তিনটি মৃতদেহ। ওই ভবনের নিচে রেজিনের গোডাইন ছিল, ডানে-বাঁয়ে কয়েকটি ভবনের বেইজমেন্টেও রাসায়নিকের গুদাম ছিল।
‘নিষ্ক্রিয়তার শাস্তি’
নিমতলীতে ২০১০ সালে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে শতাধিক মানুষের প্রাণহানির পর তদন্ত কমিটি যেসব সুপারিশ দিয়েছিল, তা বাস্তবায়ন হয়নি ৯ বছরেও। সে কারণেই চুড়িহাট্টার আগুন এত ভয়াবহ মাত্রা পেয়েছে বলে মনে করেন স্থপতি ইকবাল হাবীব।
বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে তিনি বলেন, “কথায় না বড় হয়ে কাজে বড় হবে, এটাই হলো বড় ঘাটতি। ঘাটতিটা এখন এমন পর্যায়ে এসে ঠেকেছে যে নয় বছর ধরে আমরা পুনরাবৃত্তি করার পরও এই কার্যক্রমগুলো বাস্তবায়নে সরকারকে বাধ্য করতে পারলাম না। জনসাধারণও একইভাবে নির্লিপ্ত।”
তিনি বলেন, “সামগ্রিকভাবে যখন আপনি অদৃষ্টবাদিতায় নিজেকে সমর্পণ করবেন, প্রতিরোধ গড়ার ক্ষেত্রে পুরোপুরি গা ছেড়ে দেবেন, তখন ওটাকে আত্মাহুতি ছাড়া আর কিছু বলা যায় না। অদৃষ্টবাদিতার জন্যই হত্যাকাণ্ডগুলো ঘটে চলেছে। আমাদের নিষ্ক্রিয়তার হত্যাকাণ্ড, অবহেলার হত্যাকাণ্ড এবং আমাদের অদৃষ্টবাদিতার হত্যাকাণ্ড।”
নিমতলীর অগ্নিকাণ্ডের সঙ্গে চকবাজারের ঘটনাকে মিলিয়ে দেখার কথা বলেছেন ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের পরিচালক শাকিল নেওয়াজও।
ঘটনাস্থলে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, “এটা আমাদের ভালো একটা লেসন দিয়েছে, ওয়েক আপ কল দিয়েছে, তোমরা সতর্ক হও।”
প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে শিল্পমন্ত্রী নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ূন বলছেন, গ্যাস সিলিন্ডারের বিস্ফোরণ থেকেই চুড়িহাট্টার অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে।
আর চকবাজারের ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড থেকে শিক্ষা নিয়ে ভবিষ্যতে এই ধরনের ঘটনা এড়াতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়ার আশ্বাস দিয়েছেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।
বৃহস্পতিবার সকালে চকবাজারের অগ্নিকাণ্ডস্থল পরিদর্শনে গিয়ে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, “চকবাজারের ঘটনা থেকে আমরা আবারও শিক্ষা পেলাম। ভবিষ্যতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেব, মনযোগী হব, মনোনিবেশ করব।”
ঢাকা মেডিকেলে মর্গে চকবাজারের আগুনে নিহত তানজিন হাসান রোহানের মা-বাবার আহাজারি। ছবি: আব্দুল্লাহ আল মমীন
বৃহস্পতিবার বিকেলে অগ্নিদগ্ধদের দেখতে ঢাকা মেডিকেল কলেজের বার্ন ইউনিটে গিয়ে আইজিপি জাবেদ পাটোয়ারী বলেন, পুরান ঢাকা থেকে রাসায়নিক কারখানাগুলো সরাতে শিগগিরই উদ্যোগ নেওয়া হবে।
তিনি বলেন, “পুরান ঢাকার মানুষদের এই অবস্থা থেকে পরিত্রাণ দেওয়া উচিত। আমি যতটুকু শুনেছি এবং জানি, খুব শিগগিরই এই বিষয়ে আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠক করে কর্মপন্থা নির্ধারণ করা হবে।
“কীভাবে স্বল্প সময়ের মধ্যে যারা এখানে রয়ে গিয়েছে বৈধ-অবৈধ যেভাবে হোক না কেন, তাদেরকে এখান থেকে সরিয়ে অন্য কোথাও নেওয়ার বিষয় প্রক্রিয়াধীন আছে বলে আমি শুনেছি।”
অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা তদন্তে তিনটি তদন্ত কমিটি করেছে শিল্প মন্ত্রণালয়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সুরক্ষা সেবা বিভাগ এবং ফায়ার সার্ভিস।
অতিরিক্ত সচিব মফিজুল হকের নেতৃত্বে শিল্প মন্ত্রণালয়ের ১২ সদস্যের কমিটিকে পাঁচ দিনের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।
উপ-পরিচালক (অপারেশন্স) দিলিপ কুমার ঘোষকে প্রধান করে গঠিত ফায়ার সার্ভিসের তিন সদস্যের কমিটিকে প্রতিবেদন দিতে হবে সাত দিনের মধ্যে।
আর সুরক্ষা-সেবা বিভাগের পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটির নেতৃত্বে আছেন অতিরিক্ত সচিব (অগ্নি অনুবিভাগ) প্রদীপ রঞ্জন চক্রবর্তী। তাদের সাত দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।
“রাত ১১টার পর থেকে ফোনে চেষ্টা করতে থাকি আমরা। ফোনে কল ঢুকলেও রিসিভ হয়নি। রাত ১টার সময় থেকে ওর ফোন বন্ধ পাই আমরা। এরপর আগুনের ঘটনা জানাজানি হলে ওখানে গিয়েছি। ভোর পর্যন্ত চকবাজারে আর মেডিকেলে খোঁজাখুঁজি করেও পাইনি।”
এরপর সকালে মর্গে এসে এনামুলের লাশ চিনতে পারেন বলে জানান তার বড়ভাই।
কাজী ইউসুফের মতো আগুনে নিহত-আহতের স্বজনরা এভাবে তাদের স্বজনের খোঁজ করতে থাকেন চকবাজার আর ঢাকা মেডিকেলে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র কাওসার আহমেদের অপেক্ষায় যেমন ছিলেন তার যমজ দুই শিশু সন্তান আর আর মা-ভাই-স্ত্রী, তেমনি ছবি হাতে বাবাকে খুঁজে ফিরেছেন নাসরিন নামে এক তরুণী।
কান্নাভেজা চোখে স্বজনহারাদের উপস্থিতি আর আহাজারিতে পুরোদিন ভারি ছিল ঢাকা মেডিকেল হাসপাতালের পরিবেশ।
ঢামেকের সামনে লাশ চিহ্নিত হওয়ার পর থেকে একটানা আহাজারি করতে থাকেন অনেকে; বুক চাপড়ে শোকের বেদন করেছেন কেউ কেউ।
দুই ভাই আর ভাতিজার লাশের খোঁজে এসে মর্গের সামনে কয়েক ঘণ্টা ধরে বিলাপ করতে থাকেন দীপুর বোন মোসাম্মৎ জরিনা। স্বজনরা সান্ত্বনা দিয়ে থামাতে পারছিলেন না তার আহাজারি।
তিনি বারবার বলছিলেন, “আল্লাহ তোমার এ কেমুন বিচারৃ একলগে তিনজনরে নিয়া গেলাৃ!”
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক মেডিসিন বিভাগের প্রধান ডা. সোহেল মাহমুদ বৃহস্পতিবার রাতে সাংবাদিকদের বলেন, “এখন পর্যন্ত ৪০ জনের মরদেহ শনাক্ত করা গেছে, সবগুলোই স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।”
তিনি জানান, ঢাকা মেডিকেলে জায়গা না হওয়ায় শনাক্ত না হওয়া কয়েকটি মরদেহ অন্যান্য মেডিকেলের হিমঘরে রাখা হচ্ছে। এসব মরদেহের ডিএনএ নমুনা রেখে দেওয়া হয়েছে।
“যারা এখনও স্বজনদের খুঁজছেন, তারা রোববার থেকে ডিএনএ নমুনা সিআইডির ফরেনসিক বিভাগের কাছে দেবেন। নমুনা হিসেবে রক্ত ও লালার স্যম্পল দিতে হবে। সংরক্ষণ করা কোনো মরদেহের সঙ্গে মিল পেলে লাশ হস্তান্তরের ব্যবস্থা করা হবে।”
হাসপাতালে স্থাপিত ঢাকা জেলা প্রশাসনের তথ্যকেন্দ্র থেকে জ্যেষ্ঠ সহকারী কমিশনার ইমরুল হাসান জানান, মরদেহ সমাহিত করার জন্য ঢাকা জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ২০ হাজার টাকা করে দেওয়া হচ্ছে।
তথ্যসূত্র: বিডিনিউজ