ভয়াবহ বন্যার ১ বছর অতিবাহিত হলেও ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি মুজতাহিদ আলীর লেয়ার মুরগির খামার

আপডেট: জুন ২৮, ২০১৮, ১:১২ পূর্বাহ্ণ

দিনাজপুর প্রতিনিধি


বন্যার প্রায় ১ বৎসর অতিবাহিত হলেও ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি মুজতাহিদ আলীর লেয়ার মুরগির খামার ও কালোপিরের ২০ একরের মৎস্য খামার।
দিনাজপুর সদর উপজেলার ১নম্বর চেহেলগাজী ইউনিয়ন ও বিরল উপজেলার ১২নম্বর রাজারামপুর ইউনিয়নের কিছু অংশ নিয়ে ৩ একর ৩৩ শতক জমির উপর লেয়ার মুরগির এই খামার এবং পীরগঞ্জের কালোপির গ্রামের ২০ একরের মৎস্য খামার গত আগস্টের আকষ্মিক ভয়াবহ বন্যায় খামারগুলির উপর দিয়ে ৭ ফুট পানির স্রোত প্রবাহিত হওয়ায় খামারগুলি তছনছ হয়ে বিলিন হয়ে যায়। এসময় বন্যায় পুকুরের সমস্ত মাছ ভেসে য়ায় এবং মুরগির খামারের শেডগুলি ধরে গিয়ে সমস্ত মুরগি মারা যায়। খামারে মজুদকৃত ডিম, মুরগির ও মাছের খাদ্য, মজিদকৃত ওষুধসামগ্রীসহ বৈদ্যুতিক সরঞ্জামাদি নষ্ট হয়ে যাওয়ায় খামারটি সবচেয়ে বেশী ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
খামার মালিক মুজতাহিদ আলী জানান, বিগত বন্যায় আমি সর্বশান্ত হয়ে পড়েছি। ঋণের বোঝা মাথায় নিয়ে ঘুরে দাঁড়ানোর জন্য বহু প্রকার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি কিন্তু কোন কুল-কিনারা পাচ্ছি না। বর্তমানে মুরগির ও মাছের খাদ্য ও ওষুধের দাম অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে। অথচ মাছ ও মুরগির বাজার কয়েম মাস ধরে মন্দা যাচ্ছে। তিনি বর্তমান সরকারের কাছে ব্যাংকের ঋণের সুদ মওকুফ করার আবেদন জানিয়ে বলেন, ব্যাংকের ঋণের শুধুমাত্র সুদ মওকুফ করা হলে আমার খামারটি ঘুরে দাঁড়াতে পারে।
দিনাজপুর সদর উপজেলার প্রাণীসম্পদ কর্মকর্তা জানান, মুজতাহিদ আলীর লেয়ার মুরগির খামারের সদরের অংশে গত আগস্টের ভয়াবহ বন্যায় ১০ হাজার ডিমপাড়া মুরগি, ৭০ হাজার ডিমসহ অন্যান্য স্থাপনাসহ প্রায় কোটি টাকার উপরে ক্ষতি সাধিত হয়েছে।
বিরল উপজেলার ভারপ্রাপ্ত প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. আবদুুস ছালাম জানান, মুজতাহিদ আলীর লেয়ার মুরগির খামারের বিরল উপজেলার অংশে গত আগস্টের ভয়াবহ বন্যায় খামারটি ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং ২ হাজার ৩ শ ৫০টি মুরগি মারা যায়।
উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা ইসমত আরা জানান, মুজতাহিদ আলীর ২২ একর আয়তনের পুকুরে বিগত ভয়াবহ বন্যায় চাষকৃত সমুদয় মাছ বন্যার স্রোতের পানিতে ভেসে যায়। এর ফলে খামারটি ব্যাপক আর্থিক ক্ষতির সম্মূখিন হয়ে পড়েছে।
খামারের মালিক মুজতাহিদ আলী আরো জানান, ব্যাংক ঋণের সুদ মওকুফ করা হলে আমি জমি বিক্রি করে হলেও ব্যাংকের ঋণ পরিশোধ করে ঋণের দুশ্চিন্তা থেকে মুক্ত হয়ে খামারটি পুনরায় পরিচালিত করতে পারব।