মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও দপ্তরসমূহে বাংলা ব্যবহার প্রতিপালনে ব্যর্থদের জবাবদিহিতা আছে কি?

আপডেট: June 9, 2019, 12:21 am

মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও দপ্তরসমূহে বাংলায় লেখা নিশ্চিতের নির্দেশ দিয়েছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। ৩ জুন এক তথ্য বিবরণীতে এ তথ্য জানানো হয়। এ সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন দৈনিক সোনার দেশ পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে।
ওই নির্দেশে বলা হয়েছে, বিভিন্ন মন্ত্রণালয় এবং বিভাগের জন্য প্রণীত কার্যবিধিমালা, ১৯৯৬-এর কার্যবণ্টন অনুযায়ী দাপ্তরিক কাজে বাংলা ভাষার ব্যবহার বিষয়ক কার্যক্রম জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় কর্তৃক সম্পাদিত হয়। এ কার্যক্রমকে আরো ত্বরান্বিত করার লক্ষ্যে ১৪ মে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিবের সভাপতিত্বে একটি আন্তঃমন্ত্রণালয় সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সকল মন্ত্রণালয়/বিভাগ তাদের অধীন দপ্তর ও সংস্থার নামফলক, সাইনবোর্ড, বিলবোর্ড ব্যানার ইত্যাদি বাংলায় লেখা নিশ্চিত করতে হবে।
এতে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়, যে সমস্ত আন্তর্জাতিক ও দেশীয় সংস্থার নামফলকে ইংরেজি ব্যবহারের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে সেসব ক্ষেত্রে বাংলা ভাষাকে প্রাধান্য দিয়ে নামফলকে ইংরেজি ভাষা ব্যবহার করতে হবে।
স্বাধীনতার ৪৮ বছর পরেও বাংলা ভাষা ব্যবহারের জন্য এ ধরনের নির্দেশ জারি করতে হচ্ছে। এবং এটি বারবারই করতে হয়। কিন্তু কেন? সরকারের নির্দেশ কি যথাযথভাবে প্রতিপালিত হয় না? আর হয় না বলেই বাংলা ভাষা ব্যবহারের জন্য বার বার নির্দেশ বা তাগাদা দিতে হয়। কিন্তু সরকারি নির্দেশ প্রতিপালিত না হলে কি বিভাগীয় শাস্তির ব্যবস্থা আছে এবং থাকলেও তা কি প্রয়োগ হয়? ব্যবস্থা গ্রহণের নিয়ম পালিত হলে নির্দেশ অমান্যের ঘটনা থাকতো না। অর্থাৎ বাংলা ব্যবহার না করার পরিস্থিতিটা বিরাজ করছে, তাই কেউ কেউ এর সুযোগটা গ্রহণ করছে। এ ক্ষেত্রে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার বাধ্যবাধকতা থাকাও জরুির।
তর্কের খাতিরে কেউ ভিন্নমত পোষণ করতে পারে কিন্তু এটা ভুলে গেলে চলবে না যে, বাংলা ভাষার সাথে বাঙালি জাতির শৌর্য-বীর্য ও অস্তিত্বের সম্পর্ক। এটা শেকড়ের মতই জাতিসত্তাকে নিবিড় আস্থায় বেঁধে রেখেছে। এটাকে শ্লথ করার উদ্যোগ কোনো যুক্তিতেই আসে না। যারা এই যুক্তি নিয়ে হাঁটতে চান তারা নিঃসন্দেহে বাঙালি জাতির সাথে মেলে না। বরং তাদের সম্পর্কে সতর্ক থাকাই শ্রেয়।
ইংরেজি আন্তর্জাতিক ভাষা হিসেবে কম গুরুত্বপূর্ণ নয়। কিন্তু বাংলা ভাষাকে গৌণ করে ইংরেজির ব্যবহারটাও শোভন পর্যায়ে তো নয়ই, তা অপরাধতুল্য গন্য করা বাঞ্ছনীয়।
আমরা খুবই সঙ্গত কারণে প্রত্যাশা করি, শুধু নির্দেশ জারি করেই যেন দায়িত্বটি শেষ হয়ে না যায়। বরং নির্দেশটি সর্বত্র যথাযথভাবে পালিত হচ্ছে কী না সেটাই নিশ্চিত করা জরুরি। দপ্তর ও প্রতিষ্ঠানসমূহের নামফলক, সাইনবোর্ড, বিলবোর্ড প্রমিত বাংলায় লেখা নিশ্চিতকরণসহ দাপ্তরিকপত্র, কার্যবিবরণী ও অন্যান্য ক্ষেত্রে প্রমিত বাংলা ব্যবহারের প্রতিফলন কার্যকরভাবেই আমরা দেখতে চাই। এবং সেটা করতে ব্যর্থ হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থাও নিতে হবে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ